[b]ঢাকা:[/b] উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,বর্তমান সরকার অবৈধ তবুও আমরা সংকট নিরসনে এই তথাকথিত সরকারের সঙ্গে আলোচনায় রাজি।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল দুপুর দেড়টার দিকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসেন। প্রায় ১৭ মিনিট তিনি কার্যালয়ে অবস্থান করেন।
ফখরুল বলেন,‘ আমরা তো হাওয়ার সঙ্গে আলোচনা করতে পারি না। যেহেতু একটি তথাকথিত সরকার আছে এই সরকারের সঙ্গেই আলোচনা করতে হবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকেই প্রস্তাব আসতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘কী ধরনের ছলচাতুরি করে এই সরকার গঠন করা হয়েছে। কে মন্ত্রী ,এমপি হলো এটা দেখার বিষয় নয়, আপনারা (সাংবাদিক) দেখেছেন কেবিনেটে বিরোধী দলের মন্ত্রীও আছে। সংবিধানেও আছে, একটি কার্যকরী ও শাক্তিশালী বিরোধীদল থাকবে হবে।’
তিনি বলেন,‘ দীর্ঘ আড়াই মাস বিএনপিসহ বিরোধীদল ফ্যাসিবাদী সরকারের কাছে নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে। হত্যা, গ্রেপ্তার, মামলা, হামলা, গুম করে বিরোধীদল নির্মূল করার ষড়যন্ত্র চলছে। বাংলাদেশের মানুষ অতীতে কোনো ষড়যন্ত্র মেনে নেয়নি এবারও মেনে নেবে না। জনগণের প্রচেষ্টায় গণতন্ত্র মুক্ত হবে।’
৮৫ বছরের বেশি বয়সী নেতাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটক রাখা হচ্ছে- এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিলম্বিত করা হচ্ছে বিচার কাজ।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দীর্ঘদিন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় অবরোধ করে রাখা হয়েছিলো। রিজভী আহমেদ গ্রেপ্তারের পর থেকে কার্যালয়ে প্রবেশে আরো বেশি বাধার সৃষ্টি করা হয়। একটি গণতান্ত্রিক দেশে পুলিশ দিয়ে কার্যালয় ঘিরে রেখে যে কাজটি করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও অগণতান্ত্রিক আচরণ।’
গণতন্ত্রের জন্য স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছিলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজও গণতন্ত্র অবরুদ্ধ। আবার গণতন্ত্র মুক্ত হবে।’
দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় অবরুদ্ধ রাখা, নেতাকর্মীদের হত্যা, গুম, মিথ্যা মামলায় আটক করাসহ সরকারের বিভিন্ন অগণতান্ত্রিক আচরণের নিন্দা জানান ফখরুল।
তিনি বলেন, ‘যে আন্দোলন চলছে, তা দিয়ে দাবি আদায় করা হবে। গণতন্ত্রের বিজয় হবেই।’
উল্লেখ্য, প্রায় দেড় মাস পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নয়াপল্টনে  বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে হাইকোর্ট থেকে ৩ মামলায় ‘পুলিশি হয়রানি থেকে রেহাই’ পেয়ে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসেন তিনি। কার্যালয়ে এসে পরিদর্শন করেন ভাঙচুর হওয়া প্রতিটি কক্ষ।