উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপেও চেয়ারম্যান পদের পাশাপাশি ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তবে ভাইস চেয়ারম্যান পদকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি।
চতুর্থ দফার আজকের নির্বাচনে ৯১টি উপজেলার মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ২২টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে দলটি। তবে দলটি ৫৩টি উপজেলাতে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দিয়েছে। পাশাপাশি মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদেও ১২টি উপজেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে জামায়াত। নির্বাচন কমিশন সূত্রে তথ্যটি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সরকারী দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি যখন চেয়ারম্যান পদকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তখন পরিকল্পিতভাবে ভবিষ্যত নের্তৃত্বের চিন্তায় চেয়ারম্যান পদের বাইরে ভাইস চেয়ারম্যান পদকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত।
ইতোমধ্যে বিগত তিন দফার উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দিয়ে ভাল ফলও পেয়েছে জামায়াত। দলটির সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
গত তিন দফা নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রথম ধাপের নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত ১২ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। অন্যদিকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৩ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১০ জন নির্বাচিত হন।
দ্বিতীয় ধাপে ১১৪টি উপজেলার মধ্যে ২৮টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দেয় জামায়াত। এর মধ্যে ৮টিতে জয় পায় দলটি। একইভাবে ৫৩টি উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩৪টি ভাইস চেয়ারম্যান ও ১৭টি উপজেলায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১০টিতে জয় পায় জামায়াত সমর্থিতরা।
তৃতীয় দফায় ৮১টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে তিনটি উপজেলায় নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। এ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক সহিংসতা, ভোট জালিয়াতি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ ওঠে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তৃতীয় দফার নির্বাচনেও জামায়াত ২৪টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দিয়ে ৮টিতে জয় পায়।
অন্যদিকে ৪১টি উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২৪টিতে ও ৮টি উপজেলায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ে ৫টিতে জয় পায় জামায়াত।
পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে পুরুষ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সফল জামায়াতের পরিকল্পনা।
জামায়াত সূত্র জানায়, চেয়ারম্যান পদে বিএনপি জামায়াতকে কোনোভাবেই ছাড় দিতে চায় না। অনেক দরকষাকষির পর দুই চারটি উপজেলা ছাড় পেলেও অনেক ক্ষেত্রেই বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়িয়ে যান। এ কারণে নির্বাচনের ফল ঘরে তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে দলটিকে।
এ ক্ষেত্রে ভাইস চেয়ারম্যান পদটিকেই বেছে নিয়েছে দলটি। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ১৯ দলের নির্দেশনা অনুযায়ী জামায়াতকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছাড় দিতে নীতিগত সিদ্ধান্তও রয়েছে বলে ১৯ দল সূত্রে জানা গেছে।
[b]চতুর্থ ধাপে জামায়াত সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী যারা:[/b]
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে মোস্তাফিজুর রহমান, নাটোরের বড়াইগঞ্জ উপজেলায় দেলোয়ার হোসেন খান, পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় গোলাম রব্বানী খান, চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে অধ্যাপক খলিলুর রহমান, যশোর সদরে মুহাম্মদ নুরুন্নবী, কেশবপুরে আব্দুস সামাদ, খুলনার তেরখাদা উপজেলায় অধ্যাপক কবিরুল ইসলাম, ফুলতলায় মুন্সি মঈনুল ইসলাম, সাতক্ষীরার কলারোয়ায় অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, পটুয়াখালীর দুমকীতে মেজর (অব.) ওহাব মিনার, পিরোজপুরের জিয়ানগরে জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী, টাঙ্গাইলের নাগরপুরে আব্দুস সালাম, ভুঞাপুরে আব্দুস সালাম, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদিতে রফিকুল ইসলাম, বি-বাড়ীয়ার আখাউড়ায় কাজী নজরুল ইসলাম, ফেনীর সোনাগাজীতে একেএম নাজেম ওসমানী, চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মাওলানা হাবিব আহমদ, বাঁশখালীতে অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম, সাতকানিয়ায় জসীম উদ্দিন, কক্সবাজারের রামুতে মুহাম্মদ হাসান, কুতুবদিয়ায় শাহরিয়ার চৌধুরী ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে অধ্যাপক তোফায়েল আহমদ। এ ছাড়া সিলেটের বিয়ানিবাজার ও কানাইঘাটে বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে জানা গেছে।
[b]পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে জামায়াত প্রার্থীরা:[/b]
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে আবুল কাশেম, দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে আমিনুল হক, ফুলবাড়ীতে মঞ্জুরুল কাদের, বগুড়ার গাবতলীতে আব্দুল মজিদ, রাজশাহীর তানোরে আব্দুর রহীম, বাগমারায় রেজাউল করিম, পুঠিয়ায় মাওলানা আহমাদুল্লাহ, নাটোরের বড়াইগ্রামে আব্দুল হাকিম, পাবনার ঈশ্বরদীতে আব্দুল গাফ্ফার খান, ফরিদপুরে হাকিনুর রহমান, ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুতে রেজাউল করিম, যশোর সদরে ইদ্রিস আলী, কেশবপুরে ওজিহর রহমান, নড়াইল সদরে ওবায়দুল্লাহ কায়সার, খুলনার তেরখাদায় গোলাম রব্বানী, ফুলতলায় গাউসুল আজম হাদী, রূপসায় এ্যাডভোকেট কামরুর হাসান, সাতক্ষীরার কলারোয়া ঈমান আলী শেখ, পটুয়াখালী সদরে এ্যাডভোকেট নাজমুল হাসান, দুমকীতে ইঞ্জিনিয়ার কামাল হোসেন, বাউফলে আব্দুর রশীদ, গলাচিপায় মাওলনা ইয়াহহীয়া, ভোলার মনপুরায় রফিকুল ইসলাম, বরিশালের উজিরপুরে আব্দুল মান্নান, বানারীপাড়ায় শামসুল আলম, পিরোজপুরের মঠবাড়ীয়ায় আবুল কালাম আজাদ, টাঙ্গাইলের মধুপুরে বোরহান উদ্দীন, নাগরপুরে গোলাম রব্বানী, ভুঞাপুরে আব্দুল্লাহ আল মামুন, কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাহবুব উল্লাহ মুসা, তাড়াইলে আব্দুল মোতালেব, কটিয়াদিতে শফিকুল ইসলাম, নেত্রকোনার মদনে রুহুল আমীন, মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় শরিফুল ইসলাম, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় হারুনার রশিদ, ঢাকার ধামরাইয়ে আব্দুর রউফ, মৌলভীবাজার সদরে তারেকুল হামিদ, কমলগঞ্জে ইঞ্জিনিয়ার নিজাম উদ্দিন, সিলেট সদরে জয়েন উদ্দিন, কানাইঘাটে বদরুজ্জামান ইকবাল, হবিগঞ্জের আজমেরীগঞ্জে ডা. আব্দুল হাই, নবীগঞ্জে মাওলানা আশরাফ আলী, কুমিল্লার বরুড়ায় মাওলানা আবুল বাশার, চাঁদপুরের শাহারাস্তিতে আবুল হোসাইন, ফেনীর ফুলগাজীতে আবুল হোসেন, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মাওলানা বোরহান উদ্দিন, চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এ্যাডভোকেট আলমগীর ইউনুস, রাঙ্গুনিয়ায় রাশেদ তালুকদার, বাঁশখালীতে অধ্যক্ষ বদরুল হক, সাতকানিয়ায় মুহাম্মদ ইব্রাহীম, বোয়ালখালীতে নুরুল কবির, আনোয়ারায় অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে নুরুল আফসার।
[b]মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে জামায়াত প্রার্থী:[/b]
পাবনার ঈশ্বরদীতে খালেদা রহমান, চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে শামসুন্নাহার, ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুতে রাজিয়া সুলতানা, যশোর সদরে সাজেদা বেগম, নড়াইল সদরে মাজেদা খানম, খুলনার ফুলতলায় কামরুন্নাহর কুমকুম, সাতক্ষীরার কলারোয়ায় সুফিয়া কুরবান, কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আকলিমা খাতুন, সিলেট সদরে দেলোয়ারা বেগম, কানাইঘাটে মরিয়ম বেগম, চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সুফিয়া বেগম এবং সাতকানিয়ায় দুর্জানা বেগম।
[b]ঢাকা, জেইউ, ২৩ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি[/b]