বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘গণতন্ত্র চর্চার চরম সংকটকালে তার (গনি) মতো একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের পরামর্শ ও উপস্থিতি খুবই জরুরি ছিল। তার মৃত্যুতে দেশ ও দলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।’

শুক্রবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গনির মৃত্যুতে এক শোক বার্তায় তিনি এ কথা বলে।

শোক বার্তায় খালেদা জিয়া বলেন, ‘বর্তমান দুঃসময়ে ড. আর এ গনির পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়া দেশ ও দলের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।’

তিনি বলেন, ‘স্বহৃদয় এই মানুষটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই নিরলসভাবে দেশ ও দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করে গেছেন।’

আর এ গনি জাতীয়তাবাদী দর্শন ও বহুদলীয় গণতন্ত্রকে দৃঢ়ভাবে বুকে ধারণ করতেন উল্লেখ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘তিনি মানুষের বাক-ব্যক্তি ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ে আপোষহীনভাবে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই করেছেন। কখনই তিনি নীতি ও আদর্শ থেকে কিঞ্চিত পরিমাণও বিচ্যুত হননি।’

তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়া ও আমার অকৃত্রিম সহকর্মী হিসেবে ড. গনি কোনোরকম দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই একাগ্রচিত্তে কাজ করে গেছেন। তার সুচিন্তিত পরামর্শ ছিল অতীব মূল্যবান। সুসময় ও দুঃসময় উভয়কালেই তিনি নিজেকে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত রেখেছিলেন।

দলের সকল সংকটকালে তিনি পিছিয়ে থাকেননি, বরং দুঃসাহসের ওপর ভর করে সংকট মোকাবেলায় এগিয়ে এসেছিলেন।’

গনি নিজেকে গতানুগতিক রাজনীতির বাইরে একজন ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ধৈর্য, বাক সংযম, স্পষ্টবাদিতা ছিল তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘মরহুম ড. আর এ গনি ছিলেন এক অনন্য মেধাবী ব্যক্তি। তার শিক্ষাজীবন ছিল অসংখ্য সফলতায় পরিপূর্ণ। একজন কীর্তিমান শিক্ষাবিদ হিসেবে নানামুখী কর্মকাণ্ডে তার মেধা ও মননের প্রতিফলন ঘটত।

জ্ঞানদীপ্ত এই মানুষটি সবসময় রাজনীতির সঙ্গে শিক্ষাকে সম্পৃক্ত করতে চাইতেন। এই ক্রান্তিকালে তার মতো একজন অভিভাবকের বেঁচে থাকা অত্যন্ত জরুরি ছিল।’

বিএনপি চেয়ারপারসন আর এ গনির মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে তার শোকার্ত পরিবার, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ড.গনির মৃত্যুতে এক শোকবার্তায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন আর এ গনি। তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। আর এ গনির তিন মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছেন।

কিছুদিন আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে গনিকে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ৭ জানুয়ারি তাকে সেখান থেকে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন রাত থেকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি।

এমকে