ছাত্রলীগের ২৮ তম সম্মেলনে প্রত্যক্ষ ভোটে প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার কথা থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেল না থাকায় সংগঠনটির নেতৃত্ব অনেকটা চূড়ান্ত হয়ে গেছে। এ নির্বাচনকে অনেকটা আনুষ্ঠানিকতা বলেই মনে করা হচ্ছে।

সাইফুর রহমান সোহাগ সভাপতি ও জাকির হোসেনই হচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক। একাধিক সুত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদারের নেতৃত্বাধীন কথিত ‘সিন্ডিকেট’ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থী ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

তারা আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ওবায়দুল কাদের সমর্থিত ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত সিকদার সিন্ডিকেটের প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। বর্তমান সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমও আছেন এ সিন্ডিকেটে।

সোহাগের বাড়ি মাদারীপুর, আর জাকিরের বাড়ি মৌলভীবাজার। সোহাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষের এবং জাকির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

এ ছাড়া তারা দুজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ছাত্রলীগ কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন।

অপরদিকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন সিন্ডিকেট তাদের প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি।

এমনকি শেষ মুহূর্তে তারা নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন ওই সিন্ডিকেট থেকে ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী এক নেতা।

সকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের বাইরে গিয়ে দেখা যায়, সোহাগ ও জাকির বিভিন্ন কাউন্সিলরদের কাছে ভোট চাইছেন। কিন্তু সেখানে অন্য কোনো প্রার্থীকে ভোট চাইতে দেখা যায়নি।

এদিকে সেখানে উপস্থিত বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিরোধী কোনো প্যানেল ঘোষণার সম্ভাবনা কম। এ কারণে সোহাগ ও জাকির প্যানেলের নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি এক রকম ‘নিশ্চিত’।

ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি এইচ বদিউজ্জামান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, সংগঠনটির সাবেক নেতারা এবং আসন্ন নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচনের জন্য গঠিত নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা সকালে প্রার্থী যাচাই-বাছাই করেছেন।

এদিকে রোববার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে গিয়ে দেখা যায়, সারাদেশ থেকে আগত কাউন্সিলররা ‘সোহাগ-জাকির পরিষদ, …শেখ হাসিনার পরিষদ’ স্লোগান দিয়ে সম্মেলন স্থল মুখরিত করে রেখেছেন। সেখানে অন্য কোনো প্যানেলের প্রার্থী বা সমর্থকদের দেখা যায়নি।

এর আগে ছাত্রলীগের শনিবার সম্মেলনের দিন দুই সিন্ডিকেটের নেতারা সমঝোতায় পৌঁছতে না পারায় অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ভোটের মাধ্যমে সংগঠনটির আগামীর নেতৃত্ব নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে রোববার সকাল ১০টায় এ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

এর আগে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে কারা আসবেন তা ঠিক করতে সাবেক নেতাদের দুই সিন্ডিকেটের শীর্ষ নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করেন।

ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কার্যালয়ে শনিবার দুপুরে প্রথমে দুই সিন্ডিকেটের নেতাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এআই/ইআর