একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর লেখা নন্দিত জাতি নিন্দিত গন্তব্যে বইটি নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
সূত্র জানায়, প্রতিবেদন পাঠানোর আগে সিটি এসবির কর্মকর্তারা এ বিষয়ে বুধবার বৈঠক করেছেন। বৈঠকে সাঈদীর বইটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনাকালে এক কর্মকর্তা বলেন, নন্দিত জাতি নিন্দিত গন্তব্যে বইটি গত ফেব্রুয়ারি থেকে গোপনে বিক্রি করা হচ্ছে। বর্তমানে বইটি ছড়িয়ে পড়েছে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত। ইন্টারনেটেও বইয়ের স্ক্যান কপি পাওয়া যাচ্ছে। বইটি প্রকাশ করেছে গ্লোবাল পাবলিশিং নেটওয়ার্ক নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তবে বইটি প্রকাশ্যে বিক্রি করা নিয়ে প্রকাশকরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন।
জানা গেছে, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী লেখা ৫২৪ পৃষ্ঠার এ বইয়ে মোট অধ্যায় রয়েছে পাঁচটি। আর এ বইয়ের প্রকাশক তার মেজো ছেলে শামীম সাঈদী। প্রচ্ছদ করেছেন সেজো ছেলে মাসউদ সাঈদী। আর বইয়ের ‘অনুলেখক’ হিসেবে নাম রয়েছে আরেক ছেলে আবদুস সালাম মিতুলের। ঢাকার বড় মগবাজারের নাবিল কম্পিউটার থেকে কম্পোজ করা ও বাংলাবাজারের আল আকাবা প্রিন্টার্স থেকে মুদ্রিত বইটির মূল্য ধরা হয়েছে ৩৫০ টাকা। পাঁচ অধ্যায়ের এ বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে লেখকের প্রয়াত বড় ছেলে মাওলানা রাফিক বিন সাঈদীকে।
বইটিতে ‘অনুলেখক’ আবদুস সালাম মিতুল তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেছেন, ‘শুধুমাত্র কোরআন প্রচারের কারণে সাঈদিকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। এখন তিনি ফাঁসির কুঠুরিতে মানবেতর জীবন-যাপনে বাধ্য হচ্ছেন। এ জন্য সাঈদী আল্লাহর কাছে প্রাণ ভিক্ষা চেয়ে লিখেছেন, কোরআন প্রেমিক জনতার মাঝে যেন তাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়।’
এদিকে বইটি বিক্রি নিয়ে লাইব্রেরিগুলোর মালিকরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। কেউ কেউ প্রকাশ্যেই বইটি বিক্রি করছেন।
বাংলাবাজার বই ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা গণমাধ্যমকে জানান, ‘বই প্রকাশ হয়েছে প্রকাশ্যে। তাহলে প্রকাশ্যে বিক্রিতে আপত্তি কোথায়? আর এটা নিষিদ্ধই বা হবে কেন? গত চার মাস থেকে চলছে বাজারে। পুলিশ আগে তো কিছুই বলেনি। এখন বলবে কেন? আর সরকার যদি নিষিদ্ধ করে থাকে, তাহলে সেটা ভিন্ন কথা।’
ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, সাঈদির লেখা বই নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানেন না তিনি। তবে জামায়াতের যেকোনো ধরনের বই আগে থেকেই জব্দ করা হচ্ছে। ওই তালিকায় নন্দিত জাতি নিন্দিত গন্তব্যে বইটি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তিনি এখনো এ বই দেখেননি।
ঢাকা, ১৪ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেএ





