ভারতে মুসলিমবিদ্বেষী নাগরিকত্ব আইন পাশ ও মসজিদে আগুন দেয়ায় কর্মসূচি ঘোষণা ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন কমিটি।
আগামী ৬ মার্চ জুমাবার বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে গণমিছিল ও সারাদেশের জেলায় জেলায় মসজিদে মসজিদে বিক্ষোভ মিছিল এবং ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।
বুধবার (০৪ মার্চ) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত ভারতে অব্যাহতভাবে মুসলিম নিধন, জ্বালাও পোড়াও, মসজিদ-ঘরবাড়ি ভাংচুর অগ্নিকান্ড, ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ও ১৭ মার্চ নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমন প্রতিহত করার লক্ষ্যে লাগাতার কর্মসূচী ঘোষনার জন্য ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন কমিটি এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তাগণ বলেন, ভারতের মুসলিমবিদ্বেষী নাগরিকত্ব আইনবিরোধী বিক্ষোভে হামলার প্রেক্ষাপটে দু’টি মসজিদে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। ধ্বংসস্তুপ থেকে উদ্ধার করা কুরআনের বিভিন্ন পাতা মাটিতে পুঁতে রাখতে দেখা গেছে লোকজনকে। জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকালে ৫০০ জনের মতো একদল হিন্দু আশক নগর এলাকায় একটি মসজিদের দরজা ভেঙে ফেলে ভেতরে ঢোকে। এরপর সেটির মিনারে উঠে হিন্দুত্ববাদী পতাকা টানিয়ে দেয়। তারা মসজিদটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরবর্তী সন্ধ্যায় আরেকটি ছোট মসজিদ ও মুসলমানদের দোকানে আগুন দিয়ে ভস্মীভূত করে দেয়া হয়েছে।
এসময় বক্তাগণ বলেন, বুধবার সকালেও মুসলমানদের বাড়ি-সম্পত্তিতে হামলা অব্যাহত রয়েছে। তবে কোথাও কোথাও মুসলমানদের বাড়িঘর-মসজিদ সুরক্ষায় স্থানীয় হিন্দুদের টহল দিতেও দেখা গেছে। উত্তরপূর্ব দিল্লির জাফরাবাদ, বাবরপুর, ব্রাহামপুর, গোরাখপার্ক, মৌজপুর, ভাজানপুরা, কবিরনগর, চান্দবাগ, গোকুলপুরি, কারওয়াল নগর, কাজুরিখাস ও কারদুমপুরেও দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছে। কোনো কোনো আক্রান্ত এলাকায় আধাসামরিক বাহিনীর ভারী উপস্থিতি দেখা গেছে। নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির নেতা কপিল মিশ্র একদল হিন্দুকে উসকে দিলে এই সহিংসতার সৃষ্টি হয়। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ও নাগরিকত্ব তালিকা (এনআরসি) ভারতজুড়ে যে সহিংসতা সৃষ্টি করেছে, তা ক্রমেই বেড়ে মুসলমানদের কষ্টের বোঝা ভারী করছে। কেননা, দিল্লির মুস্তাফাবাদের ব্রিজপুরি এলাকায় আরেকটি মসজিদে আবার হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শুধু তা-ই নয়, মসজিদে ঢুকে নামাজরত মুসল্লিদের গুলি চালানো এবং রড দিয়ে বেধড়কভাবে পেটানোর ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরও চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করছে এলাকাবাসী। এছাড়া সেখানকার মাদ্রাসা, স্কুলসহ বিভিন্ন স্থাপনায়ও হামলা চালাতে বাদ রাখেনি উগ্রপন্থিরা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেছে, বেশ কয়েকটি ভবনে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর রাত ৮টায় মসজিদে এশার নামাজ শুরু হলে সেখানে ঢুকে মুসল্লিদের রড দিয়ে পেটাতে শুরু করে দুর্বৃত্তরা। একইসঙ্গে গুলিও চালানো হয় মুসল্লিদের ওপর। আগুন দেওয়া হয় এই মসজিদে, ১৫ জন মুসল্লিকে পেটানো হয়। একইসঙ্গে ইমামকেও গুলি করা হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ইমাম হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া ওই মসজিদ আর স্কুলের পাশে থাকা একটি মাদ্রাসায়ও অগ্নিসংযোগ করেছে উগ্রপন্থিরা। পরে সেখানে সাংবাদিকরা পর্যবেক্ষণে গেলে দেখতে পান, মসজিদে রক্ত পড়ে আছে বেশ। একইসঙ্গে পুড়েও গেছে অনেক কিছু। এ থেকে বাদ যায়নি পবিত্র কোরআন শরিফও। মেঝেতে পুড়ে যাওয়া অবস্থায় দেখা গেছে কোরআন শরিফের পাতা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে দাবি জানানো হয়:
১. দিল্লিতে মুসলিমদের চোখে অ্যাসিড ঢালা হয়েছে, অন্ধ অনেকেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সুষ্ঠ বিচার করতে হবে; ২. দিল্লির সহিংসতায় মৃত ৩৪ জনের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে; ৩. দিল্লির সহিংসতা অমিত শাহর ব্যর্থতা ক্ষতিয়ে দেখতে হবে; ৪. ভারতের ২০ কোটি মুসলিমকে টার্গেট করা হয়েছে এটা বন্ধ করতে হবে; ৫. দিল্লির মসজিদে আগুন, মিনারে হনুমানের পতাকা এর বিচার করতে হবে
দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কর্মসূচি:
১. আগামী ৬ মার্চ জুমাবার বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে এবং সারাদেশের জেলায় জেলায় মসজিদে মসজিদে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ
২. ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে
৩. প্রত্যেক জেলায় জেলায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা
ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি মাওলানা আবু তাহের জিহাদীর সভাপতিত্বে সাংবাদিক সম্মেলনে ৪৬টি সমমনা ইসলামী দলসমূহের সমূহের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদের সমন্বয়ক ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন কমিটির মহাসচিব মাওলানা ফয়জুল্লাহ আশরাফী, বেফাকের কেন্দ্রিয় উস্তাদ মুফতি বাহউদ্দীন, মুসলিম অক্ষ পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি শায়েখ মাওলানা আজিজুর, খতিব পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা সালেহ সিদ্দিকী, রহমান আজিজ হবিগঞ্জী, মুফাসসির পরিষদের কেন্দ্রিয় নেতা মাওলানা জাকির হোসাইন, হক্কানী পীর মাশায়েখ পরিষদের সহ সভাপতি মাওলানা আবুল কাশেম, খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর মাওলানা আবুল কাসেম কাসেমী,গণসভা আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা বনী ইয়ামিন, কাসেমী পরিষদের আমীর শায়খ আবু বকর কাসেমী, অধ্যক্ষ মাওলানা মোশাররফ হোসাইন, অধ্যক্ষ মাওলানা রফিকুল ইসলাম, অধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম জাতীয় ইমাম পরিষদের সভাপতি মাওলানা লুৎফর রহমান, ইসলামী অনলাইন এ্যাক্টিভিষ্টস ফোরামের কেন্দ্রিয় নেতা মাওলানা শেখ মহিউদ্দীন, আহকামে শরীয়া হেফাজত কমিটির মহাসচিব অধ্যাপক আব্দুস সবুর মাতুব্বর, মুহতামিম পরিষদের সভাপতি মাওলানা শাহ আলম, মুহাদ্দিস আবুল হাসান, মাওলানা ফয়জুল্লাহ, মুফতি ফরিদুল আলম , মুফতি বাকি বিল্লাহ, হাফেজ মাওলানা আব্দুল করিম প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
এমবি





