আগামী ১৬ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বধীন ২০ দলের আন্দোন কর্মসূচী।

সোমবার রাতে শরিকদের নিয়ে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে কর্মসূচির ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রাত পৌনে ৯টায় বৈঠক শুরু হয়ে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী হয় বৈঠক।

মঙ্গলবার দুপুর ১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগামীর আন্দোলনের প্রাথমিক এসব কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় জোটের শরিকদের মহাসচিবরা উপস্থিত থাকবেন।

বৈঠক সূত্র জানায়,আগামী ১৬ আগস্ট ফিলিস্তিনিতে ইসরায়েলের গণহত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে জোটের পক্ষ থেকে গণমিছিল ও কালো পতাকা প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদের প্রাথমিক আন্দোলন শুরু হবে।

১৯ আগস্ট জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করবে ২০ দলীয় জোট। এজন্য রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ তিনটি সম্ভাব্য বিকল্প রেখেছে দলটি।

২০ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত শরিকদলের মহাসচিব পর্যায়ের নেতারা বিভিন্ন জেলা সফর করবেন। আগামী ১ সেপ্টেম্বর দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঢাকায় জনসমাবেশ করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পর থেকে খালেদা জিয়া দেশব্যাপী সফরে বের হবেন।

এক্ষেত্রে প্রথমে বিভাগীয় শহর এবং পরে জেলা শহুরগুলোতে জোটবদ্ধভাবে মহাসমাবেশ করবেন তিনি। এ সময় শরিক দলের শীর্ষ নেতারা তার সফর সঙ্গী হবেন। দ্রুত নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের প্রাথমিক কর্মসূচি হিসেবে ঢাকার বাইরেও জোটবদ্ধভাবে সমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। মূল আন্দোলনে নামার আগে এসব কর্মসূচিতে সমঝোতা ও দ্রুত নির্বাচনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হবে। ঈদুল ফিতরের পরে চূড়ান্ত আন্দোলনে যাবে ২০ দলীয় জোট।

বৈঠকে ভবিষ্যত সরকার বিরোধী আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে এবং সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করতে জোটের শরিক দলের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন জোট প্রধান খালেদা জিয়া।

বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম, বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ নেজামী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির-এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এনডিপির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মর্তুজা, বাংলাদেশ ন্যাপের সভাপতি জেবেল রহমান গাণি, ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুল মোবিন, মুসলিম লীগের সভাপতি কামরুজ্জামান খান, ন্যাপ-ভাসানীর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, পিপলস লীগের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গরীবে নেওয়াজ উপস্থিত ছিলেন। তবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমদ ও এলডিপির সভাপতি কর্নেল অলি আহমেদ অসুস্থার কারণে বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা, ১২ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেডআই