বিএনপি চেয়ারপারম্যান বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি প্রশ্ন রেখে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, ‘‘আপনি বলেছেন, রাজনীতিকদের জন্য দেশে রাজনীতি করার পরিবেশ নেই বলেই হত্যা- খুনের ঘটনা ঘটছে। তাহলে কি দেশের জনগণ ভাববে, রাজনীতি করার পরিবেশের ধুয়া তুলে আপনারা এসব হত্যাকাণ্ডে মদদ দিচ্ছেন। তাহলে কি আপনারা এসব হত্যার দায় স্বীকার করে নিচ্ছেন’’?
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস উপলক্ষ্যে ওই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
দেশে রাজনীতিবিদদের রাজনীতি করার পরিবেশ নেই বলেই হত্যা-খুনের ঘটনা ঘটছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যের জবাবে হানিফ বলেন, আপনাদের কর্মসূচীতে কেউ বাধা দেয় নি। আপনারা যখন খুশি তখন কর্মসূচী পালন করছেন। কিছুদিন আগেও আপনারা ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করেছেন। আপনাদের কোন রাজনৈতিক কর্মসূচীতে তো কোন বাঁধা নেই। বাঁধা আছে শুধু মাত্র পেট্রোলবোমা মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করায়।
আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, গত পরশু চট্টগ্রামে দেশের এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে। সে হত্যার আমরা নিন্দা জানিয়েছি। ইতিমধ্যে গোয়েন্দা সংস্থার কাছে কিছু তথ্য ও আলামত এসেছে। এতে প্রতীয়মান হয়, ওই চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী, জঙ্গীবাহিনীর, জামায়াত শিবিরের আস্তানা ওই পুলিশ কর্মকর্তা ভেঙ্গে দিয়েছিলেন। তারা প্রতিশোধের জন্য এ আঘাত হেনেছে। তারা মনোবল ভেঙ্গে দিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে এমন শাস্তি দিতে হবে যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এমন সাহস না দেখাতে পারে।
ওই হত্যায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিবৃতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মুখে এমন শোক প্রস্তাব মানায় না। দেশের মানুষ আপনার পেট্রোল বোমার সন্ত্রাস এখনও ভুলে যায় নি। তখন সারা দেশের ২৭১ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। তখন তো আপনি ওই মানুষগুলোর জন্য শোক প্রকাশ করেন নি। তাহলে কি ধরে নিবো, ওই হত্যাকাণ্ডগুলো আপনার নেতৃত্বে ঘটেছিল বলেই আপনি শোক জানান নি।
ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহমতউল্ল্যাহ এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মদ হোসেন, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ড. আব্দুর রাজ্জাক, আন্তজার্তিক বিষয়ক সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক এ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম প্রমুখ।
ইআর/এমআইএস





