ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করতে চায় অত্যন্ত ঝাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে। এজন্য নেয়া হচ্ছে ব্যাপক প্রস্তুতি। আগামী ২৩ জুন ৬৫তম এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল করতে এরইমধ্যে গঠন করা হয়েছে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী কমিটি। দীর্ঘ দেড় মাস ধরে দফায় দফায় বৈঠক করেছে এ কমিটির নেতৃবৃন্দ। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল করতে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

'৫২ র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয় বারের মত ক্ষমতায় আসে দেশের প্রাচীনতম এ রাজনৈতিক দলটি। ‌তাই এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সবচাইতে আকর্ষনীয়ভাবে উদযাপন করতে চায় ক্ষমতাসীনরা।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সকল কর্মসূচি সফল করতে তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। নেত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী তারা সকল কার্যক্রম করে যাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সকল প্রস্তুতি প্রায় শেষ।

৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলের জন্মলগ্ন থেকে যত সাফল্য রয়েছে তা জনগণের সমনে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এজন্য রাজধানীর প্রতিটি প্রবেশ পথে ও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় এবং বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে বিলবোর্ড, প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন টাঙানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এসব বিলবোর্ডে ৭ দফা, ৭ই মার্চের ভাষণ, মুক্তিযুদ্ধসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতসহ যেসব উন্নয়ন রয়েছে তাও বিলবোর্ডে স্থান পাবে। ইতোমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিলবোর্ড টাঙানো হয়েছে।

টানা দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসার কারণে দলীয় কর্মকান্ডে অনেকটাই পিছেয়ে পড়েছে ক্ষমতাসীনরা। এ কারণে সরকারের সাফল্য সঠিকভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে না। এ কারণে দলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এ ধরনের ব্যাপক কর্মসূচী নেয়া হয়েছে বলে দলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। তাছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করা ও বিএনপি- জামায়াতের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের সোচ্চার করা হবে বলেও জানান নেতারা।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যথাযথভাবে উদযাপনের জন্য গত ১৬ জুন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় উপ-কমিটির সঙ্গে সহযোগি ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের এক যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দলের ধানমন্ডির কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়। এদিকে ১৮ জুন যুবলীগ ২৩ বঙ্গবন্ধু কার্যালয়ে একটি বৈঠক করেছেন। এছাড়াও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ১৮ ও ১৯ জুন দলের প্রধান কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের জন্য বর্ধিত সভা করেছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও  প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গঠিত ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব মাহবুব-উল-আলম হানিফ টাইমনিউজবিডিকে বলেন, এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ৬৫ বছরের অর্জন জাতির সামনে তুলে ধরা হবে। মুক্তিযুদ্ধসহ বাংলাদেশের যত অর্জন এসেছে আওয়ামী লীগের হাত ধরে। ‌’৫২ র ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা এসেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুহজবুর রহমানের নেতৃত্বে। ১৯৮১ সাল থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে  বাংলাদেশের যত উন্নয়ন হয়েছে তা বিল বোর্ড, ব্যানার, পোষ্টার ও ফেস্টুনের মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে গঠিত কমিটি :- প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে ছোট ছোট কয়েকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে আহ্বায়ক করে স্বরণিকা প্রকাশের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য সাংস্কৃতিকমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের নেতৃত্বে একটি কমিটি হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালি সফল করতে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে আহবায়ক করে একটি কমিটি দেয়া হয়েছে। এছাড়াও  র‌্যালিতে কেউ অসুস্থ হলে তাকে দ্রুত চিকিৎসা দেয়ার জন্য আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক বদিউজ্জামান ভুঁইয়া ডাবলুকে দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে বিলবোর্ড লাগানো ও সাজ-সজ্জার জন্য গণপূর্তমন্ত্রী ইনঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি: আগামী ২৩-২৮ জুন পর্যন্ত মোট ৬ দিনের কর্মসূচি গ্রহন করেছে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। তাদের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ২৩ জুন সূর্য উদয়ের সময় কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭ টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন। সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে  বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, পায়রা উন্মুক্ত ও বেলুন উড়ানো। বিকাল সাড়ে ৩ টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তনের পাদদেশ থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি-বিজড়িত ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের বঙ্গবন্ধু ভবন পর্যন্ত গণর‌্যালি। এছাড়াও ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ জুন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

সর্বশেষে ২৮ জুন ২০১৪ (শনিবার) বিকাল তিনটায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি  হিসাবে উপস্থিত থাকবেন  আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভাপতিত্ব করবেন  আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।

ঢাকা, এমআর, ২১ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম)// কেবি