সোমবার সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সাভারের বিভিন্ন এলাকায়। শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরাতে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে শ্রমিকেরা প্রথমে অনন্ত গ্রুপের কারখানা এবং পরে হা-মীম গ্রুপের কারখানার সামনে জড়ো হন। বিভিন্ন দাবিতে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নরসিংহপুরের নিউএজ কারখানার শ্রমিকেরা কর্মবিরতি শেষে কারখানা থেকে বেরিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
সংঘর্ষের মধ্যে বেলা ১২টার দিকে নরসিংহপুরের নদী ফিলিং স্টেশনের সামনে একটি পোশাক কারখানার কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেওয়া হয়। এরপর সড়কের পাশের অধিকাংশ চালু পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। গত কয়েক দিনের আন্দোলনে সাভার ও আশুলিয়ায় মোট ২৩০টি পোশাক কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে।
শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষে শিল্প পুলিশের কয়েকজন সদস্যও আহত হয়েছেন। ইটপাটকেলের আঘাতে শিল্প পুলিশ-১-এর সহকারী পুলিশ সুপার (অপারেশনস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) শোয়েব আহমেদ সামান্য আহত হন। তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। তাঁদের অনেক সদস্য আহত হয়েছেন।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় দুপুর দেড়টার দিকে বাইপাইল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা শ্রমিক, নাকি বহিরাগত—তা যাচাই করা হচ্ছে।
এদিকে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে সাভারের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু অভিযোগ করেন, পতিত সরকারের দোসররা সাভার ও আশুলিয়ার পোশাকশিল্পে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, বহিরাগতরা শ্রমিকদের কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে নাশকতা চালিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করছে।
শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয়েছে, বহিরাগতরা শ্রমিকদের কারখানা ছেড়ে মহাসড়কে আসতে বাধ্য করছে। এতে শান্তিপ্রিয় শ্রমিকেরাও কারখানা থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন বলে দাবি পুলিশের।
দুপুর দেড়টা পর্যন্ত শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মুখোমুখি অবস্থানে ছিলেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এস
















