বিশেষ করে দৈনিক সংগ্রামে হামলা চালিয়ে সম্পাদককে নাজেহাল কেরে দেশজুড়ে ঘৃনিত হয় দলটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক আল মামুন।
এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই সংগঠনের ব্যানারে কর্মসূচি, সাধারণ ছাত্রদের ওপর হামলার মতো একাধিক ঘটনা ঘটিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক ও তার সঙ্গে থাকা কর্মীদের ওপর চড়াও হয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’নামটি সামনে আসে। মঞ্চের হামলায় ভিপি নুরুলসহ অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনার পর ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ নিয়ে মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয় এরা কারা?
২০১৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ‘দৈনিক সংগ্রাম’ কার্যালয়ে হামলা চালায় ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামে এই সন্ত্রাসী সংগঠনের আমিনুল ইসলাম ও আল মামুনের নেতৃত্বে কয়েকশ দুর্বৃত্ত রাজধানীর মগবাজারে দৈনিক সংগ্রাম কার্যালয়ে হামলা চালায়।
সেই আমিনুল-মামুনরা আজও গ্রেফতার হয়নি। তাদের ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ আজ কী করছে? গণমাধ্যমের ওপর হামলা-মামলার ফলে তাদের ইতিহাসে কী রচিত হলো? সংগ্রাম ঘুরে দাঁড়িয়েছে, দেশ ও জনগণের কথা বলছে।
মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সংগ্রাম অফিসের ভেতরে জামায়াত ও শিবির পরিচালনার নানা কাগজ পেয়েছি। এসব দেখে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পত্রিকার সম্পাদককে আমরা পুলিশে দিয়েছি।’
সেদিন শুধু হামলাই করা হয়নি, ব্যাপকভাবে ভাঙচুরও করা হয়। বর্ষীয়ান সম্পাদককে নাজেহাল ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও করা হয়। ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ নামের ওই সংগঠনের নেতাকর্মীদের হামলা-ভাঙচুরে পত্রিকার কম্পিউটারসহ প্রকাশনার সমস্ত যন্ত্রাংশ অচল হয়ে যায়। যাতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়। এতেও ক্ষান্ত হয়নি হামলাকারীরা। তারা পত্রিকা অফিসের মূল গেটে তালা লাগিয়ে দেয়। এর আগে তারা দৈনিক সংগ্রাম অফিসের সামনে মিছিল করে, বিক্ষোভ করে। তাঁদের অনুসারী একাধিক গণমাধ্যমকে ঘটনাস্থলে হাজির করে পূর্ব পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ঘটায়।
সংগ্রামে হামলার সময় উপস্থিত ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সভাপতি এ এস এম সনেট, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত তূর্য, এ এফ রহমান হল শাখা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক ইমরান সরকার, কবি জসিম উদ্দিন হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ইয়াদ আল রিয়াদ, জিয়া হল শাখা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম মাহিম ও মাহবুব হাসান নিলয়সহ শতাধিক অজ্ঞাতনামারা।
মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কারা? : সংগঠনটি নিবন্ধিত ছিলনা। ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সংগঠনটি গঠন করা হয়। কোটাবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে কোটা বাতিলের পরিপত্র জারি হলে শাহবাগে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। এই আন্দোলনের মধ্যেই তাঁরা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামে সংগঠনটি গঠন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনকে সংগঠনটির আহ্বায়ক এবং সাবেক সড়ক ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য শাজাহান খানের ছেলে আসিবুর রহমান খানকে সদস্যসচিব করা হয়। এরপর ২০১৯ সালের মার্চে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পদবঞ্চিত নেতা আমিনুল ইসলামকে সভাপতি ও আল মামুনকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা গঠন করেন জামাল উদ্দিন। সংগঠনটি গঠিত হওয়ার পর টানা কয়েক মাস ধরে নানা অপকর্মের কারণে বারবার আলোচনায় আসে। বিশেষ করে সংগঠনটির যাত্রা শুরুর পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই সংগঠনের ব্যানারে কর্মসূচি, সাধারণ ছাত্রদের ওপর হামলার মতো একাধিক ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক ও তাঁর সঙ্গে থাকা কর্মীদের ওপর চড়াও হয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ পুনরায় সামনে আসে। মঞ্চের হামলায় ভিপি নুরুলসহ অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে গুরুতর আহত হন অন্তত চারজন। এ ঘটনার পর ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ নিয়ে মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। এরা কারা, কেন বারবার হামলা করা সত্ত্বেও এদের বিরুদ্ধে কখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? ক্ষমতাসীন দল বা তাদের ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে এদের কোনো সম্পর্ক আছে কি না? ২০১৯ সালের মার্চ এপ্রিলের দিকে ওই সংগঠনের কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হলে নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারনে ওই মঞ্চে ভাঙন ধরে, দুটি পক্ষ একে অপরকে বহিষ্কার করে, মধুর ক্যানটিনে ছাত্রদলের ওপর হামলা করে, ভিপি নুরুলের ওপর একাধিক বার হামলা করে। একটি অংশ ছাত্রলীগ থেকে পদচ্যুত নেতা গোলাম রাব্বানীর পক্ষে অবস্থানও নেয়। এসব কারণে বারবার আলোচনাও হয় তৎকালীন সময়ে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ টিএসসি ভিত্তিক কোনো সংগঠন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার্ড কোনো সংগঠনও এটা নয়।
মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ গঠনের পর থেকে তাদের কার্যক্রমের কারনে দেশ বিদেশের একাধিক গণমাধ্যম নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সবারই প্রশ্ন ছিল ‘ওরা কারা’?। কাদের মদদে এমন কান্ড ঘটাচ্ছে।





