অস্ট্রেলিয়া প্রথমে আর এখন নিউজিল্যান্ড- ক্রিকেটের দুই পরাশক্তির সাথে একদম মন্থর গতি আর নিচু বাউন্সের পিচে খেলে জিতেই চলেছে টাইগাররা।

অস্ট্রেলিয়াকে ৪-১ ব্যবধানে নাকাল করার পর কিউইদের বিপক্ষেও ২-০’তে এগিয়ে গেছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল।সামনে আরেকটি সিরিজ জয়ের হাতছানি।

আগামীকাল (৫ সেপ্টেম্বর) তৃতীয় টি-টোয়েন্টি জিতলেই ২ ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলবে টাইগাররা।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, এমন উইকেটে খেলে জিতে কী লাভ হচ্ছে? সন্দেহ নেই জেতাটাও একটা অভাস। ক্রিকেটীয় ভাষায় ‘উইনিং ইজ এ হ্যাবিট।’

বাংলাদেশও নিয়মিত জিততে শিখছে। এতে করে সাহস ও আস্থা বাড়ছে অবশ্যই।

তবে সেটা এমন পিচে খেলে কেন? অতিবড় টাইগার-ভক্তও এ জয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারছেন না। শেরে বাংলায় জয় ছাপিয়ে উইকেট নিয়েই যত কথাবার্তা।

আসলেই কি জয়ের আত্মবিশ্বাসটাই বড়? নাকি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতির জন্য হলেও ভালো উইকেট দরকার ছিল? বাংলাদেশ দলের প্রথম টেস্ট কোচ সারোয়ার ইমরান রীতিমত হতাশ, খানিক ক্ষুব্ধও।

তার সোজা কথা, ‘এমন উইকেটে খেলে মোটেই ভালো প্রস্তুতি হচ্ছে না। এটাকে কোনোভাবেই আদর্শ প্রস্তুতি বলা যাবে না। এতে বরং বোলারদের ক্ষতি হচ্ছে।

তাদের বোলিং সামর্থ্য, কৌশল, অস্ত্র সম্পর্কে ভুল ধারণা জন্মাচ্ছে। তারা ভাবতে শুরু করেছেন, আমাদের সবকিছু ঠিকঠাক আছে। বোলিং খুব ভালো হচ্ছে।’

সারোয়ার ইমরান যোগ করেন, ‘অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মতো দল আমাদের সাথে ১২০-এর বেশি করতে পারছে না। আমরা প্রতিপক্ষকে ১০০‘র নিচে অলআউট করে দিচ্ছি।

এতে করে আমাদের ভালোর চেয়ে খারাপ হচ্ছে বেশি। আমরা ভাবছি আমাদের বোলিং স্ট্যান্ডার্ডই এমন। এতে করে নিজেদের বোলিং মান সম্পর্কে ভুল ও ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হচ্ছে।’

বোলারদের এই আত্মবিশ্বাস হিতে বিপরীত হতে পারে, মনে করছেন অভিজ্ঞ এই কোচ। তার ভাষায়, ‘বোলারদের ভুল একটা আত্মবিশ্বাস তৈরি হচ্ছে।

আমরাও বোলারদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। অনেক উচ্চ ধারণা তৈরি হয়েছে তাদের নিয়ে। বোলাররাও নিজেদের বোলিং সামর্থ্যকে ভুল বুঝতে শুরু করছে।

তারা ভাবছে বোলিংয়ের সব কৌশল আর অস্ত্র আমাদের হাতে। যেখানে সংগ্রাম করে বোলারদের টিকে থাকতে হয়, সেখানে বাংলাদেশের বোলাররা মনে করছে- আমরা তো সবই পারি।’

এই বোলাররাই যখন ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে যাবে, তখন বিপদে পড়বে-আশঙ্কা সারোয়ার ইমরানের।

তিনি বলেন, ‘যখন ব্যাটিং সহায়ক আর টি-টোয়েন্টি উইকেটে যাবে, তখন তাদের ওই ধরনের পিচে মানিয়ে নেয়ার মতো দক্ষতা দরকার হবে। তাদের ওভারপিছু ৭ রানের নিচে দেয়ার চেষ্টা করতে হবে। এই প্র্যাকটিসটা বোলারদের হয়নি।’

সারোয়ার ইমরানের শেষ কথা, ‘আসলে আমরা বোলারদের ভুল একটা ধারণা দিচ্ছি। তাদের মনে ঢুকছে যে- কাটার, স্লোয়ার ইয়র্কার সব ঠিকঠাকই হচ্ছে।

কিন্তু ভালো উইকেটে গিয়ে দেখবে কিছুই হচ্ছে না। তখন কী হবে? বোলাররা কোনো সংগ্রাম না করেই ১০ ম্যাচ খেলে চলে যাচ্ছে বিশ্বকাপ খেলতে।

কঠিন পরিস্থিতিতে কী করতে হবে না শিখেই। যেটা জায়গামতো বুমেরাং হতে পারে।’

এইচএন