লিটন কুমার দাসের পর এবার ফেইসবুকে ভক্তদের শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানিয়ে ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকার হয়েছেন বাংলাদেশের টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।

বৃহস্পতিবার বিজয়া দশমীর দিনে নিজের ফেইসবুক পাতায় সবাইকে দুর্গা পূজার শুভেচ্ছা জানান মুশফিক। প্রথম চার ঘণ্টায় তার সেই পোস্টে সাড়ে ১৭ হাজার লাইক পড়ে, মন্তব্য করেন প্রায় সাড়ে সাতশ জন। 

কিন্তু এর মধ্যে অনেকের মন্তব্যেই তীব্র ধর্মবিদ্বেষের প্রকাশ দেখা যায়।   

মুশফিকের স্ট্যাটাসের নিচে সবচেয়ে বেশি মন্তব্য এসেছে শিপন মির্জা নামে একটি ফেইসবুক আইডি থেকে, যিনি নিজেকে যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর অনুসারী বলেছেন।

তার একটি মন্তব্য এরকম- “ভাইয়া তুমি আমার প্রিয় খেলোয়াড়ের মাঝে একজন। তুমি মুসলিম, তুমি কুরবানির ছবি রিমুভ দাও ভয়ে। আবার এখন হিন্দুদের পূজার শুভেচ্ছা জানাও। কি শুরু করছ এসব?”

সুমন আহমেদ নামের একটি আইডি থেকে মন্তব্য এসেছে, “সকল হিন্দু বন্ধুদের পূজার শুভেচ্ছা জানালে ভালো হতো।”

‘ক্লাউড নাম্বার নাইন’ মন্তব্যে লিখেছে, “কোনো দরকার ছিল নাহ।”

এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় ফেইসবুকে ভক্তদের শুভেচ্ছা জানিয়ে স্ট্যাটাস দিয়ে ধর্মীয় বিদ্বেষের মুখে পড়েন জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য লিটন কুমার দাস, যা নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে আলোচনা হয়।

গত কোরবানির ঈদের সময় পশু জবাইয়ের ছবি ফেইসবেুকে দিয়ে সমালোচনার পর তা সরিয়ে নিয়েছিলেন বাংলাদেশের এই তারকা ক্রিকেটার। এবার তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানানোয় সমালোচনা করা হয়েছে সাব্বির আহমেদ মাহিদ নামের একটি আইডি থেকে।

মন্তব্যে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজার আচার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মোসাদ্দেক হামিদী নামের একজন।

তবে এসব বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যের কঠোর জবাব দিতে দেখা গেছে মুশফিকভক্তদের অনেককেই। 

তারেক মাহমুদ শুভ নামে একজন মন্তব্য করেছেন, “আজব! একজন মানুষ পূজার শুভেচ্ছা জানালো আর শুরু হয়ে গেলো চুলকানি। এত ছোট মানসিকতা মানুষের কীভাবে হয়।”

মোহাম্মদ বিল্লাল নিলয় নামের একটি আইডি থেকে মন্তব্য এসেছে, “যারা বাজে কমেন্ট করছেন তাদের বলছি, মুশফিক ভাই আমাদের মুসলমানদের কাছে যেমন প্রিয়, অমুসলিমদের কাছেও একই। তিনি এই পোস্টের মাধ্যমে শুধু তাদেরকেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।”

সাকিব হাসান নামে একটি আইডি থেকে মন্তব্যে লেখা হয়েছে, “মুশি, একটাই অনুরোধ থাকবে, এসব ছোটলোকের কমেন্ট দেখে পোস্ট রিমুভ করো না। এদের যদি এভাবে বারবার জিততে দাও, এরা কাল তোমার পরিবার, তোমার বউ-বাচ্চা নিয়ে কথা বলবে।”

এমআর