অবিশ্বাস্য, অসাধারণ কিংবা দুর্দান্ত চলতি টুর্নামেন্টে পাকিস্তানকে যে বিশেষণেই বিশেষিত করা হোক না কেন, কমই বলা হবে। ব্যাটে-বলে দ্যুতি ছড়িয়ে প্রতিপক্ষকে দাঁড়াতেই দেয়নি তারা। বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর ম্যাচে ভারতকে উড়িয়ে নতুন ইতিহাস লেখার পর নিউজিল্যান্ড এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষেও একই চিত্রনাট্য।
এদিকে, সুপার টুয়েলভের চতুর্থ ম্যাচে নামিবিয়ার বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাবর-রিজওয়ান এবং শেষদিকে হাফিজের দুর্দান্ত ইনিংসে ভর করে রানের পাহাড় ঘরে পাকিস্তান। মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ রান তোলে তারা। বিশাল এ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে ধাক্কা খেলেও শেষ পর্যন্ত দারুণ লড়াই চালায় প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা নামিবিয়া।
বলা ভালো, ভারত, নিউজিল্যান্ডের চেয়েও বেশি জমজমাট ছিল নামিবিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি। যদিও শেষ পর্যন্ত ডেভিড ওয়াইজরা হেরেছে, তবে শেষ বল পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছে।
সুপার টুয়েলভের আগের তিন ম্যাচে পরে ব্যাট করে সবকটিতেই জয় পেয়েছে পাকিস্তান। তাই বোলারদের তেমন ‘অগ্নিপরীক্ষায়’ পড়তে হয়নি এতদিন। আর তাই নামিবিয়ার বিপক্ষে মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) টস জিতে আগে ব্যাটিং নিয়েছিলেন বাবর আজম। যেন বিগ ম্যাচের আগে নিজেদের একটু বাজিয়ে দেখা। তবে সে পরীক্ষায় ভালোভাবেই সফল শাহীন-রউফরা।
এদিন বাবর আজম এবং মোহাম্মদ রিজওয়ান মিলে মন্থর শুরু করেছিলেন। তবে রানের চাকা তেমন সচল না থাকলেও উইকেট টিকিয়ে রাখতে পেরেছিলেন তারা। প্রথম ১০ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে বাবরদের সংগ্রহ ছিল ৫৯ রান।
তবে এরপরই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন দুই ওপেনার। ১০ ওভারে ৫৯ পার হওয়ার পর ১৩ ওভারেই দলীয় ১০০ পেরিয়ে যায়। এদিনও দারুণ ব্যাটিং করেছেন বাবর ও রিজওয়ান। তবে ৪৯ বলে ৭০ রান করে আউট হন পাক অধিনায়ক। উইসের বলে ফ্রাইলিঙ্কের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
১ উইকেট হারিয়ে ১৫ ওভার শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ১১৮ রান। বাবরের পরে ব্যাট করতে নামা ফখর জামান এদিন মাত্র ৫ বলে ৫ করে সাজঘরে ফিরেছেন। ফ্রাইলিঙ্কের বলে উইকেটকিপার গ্রিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি।
তবে শেষ পর্যন্ত রিজওয়ান অপরাজিত ছিলেন ৫০ বলে ৭৯ রান করে। তার সঙ্গে মোহাম্মদ হাফিজের ১৬ বলে ৩২ রানের ঝড়ো ইনিংস শেষ দিকে পাকিস্তানের লক্ষ্য আরও বাড়িয়েছে। রিজওয়ান শেষ ওভারেই তুলেছেন ২৪ রান।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুই দল আজকের আগে একটি ম্যাচই খেলেছে। ২০০৩ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেই ম্যাচে ১৭১ রানের বড় জয় পেয়েছিল পাকিস্তান।
এবিএস





