সামিউল্লাহ শেনওয়ারির ৯৬ রানের অনবদ্য এক ইনিংসে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেয়েছে আফগানিস্তান। বৃহস্পতিবার নিউজিল্যান্ডের ডানেডিনের ইউনিভার্সিটি ওভালে ১ উইকেটে জিতেছে তারা।

স্কটল্যান্ডের ২১০ রানের জবাবে তিন বল হাতে থাকতে ১ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে মাত্র ৯৭ রানে সাত উইকেট হারানো আফগানিস্তান।

জবাবে খেলতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৪২ রান সংগ্রহ করেন ওপেনার জাভেদ আহমাদি ও নওরাজ মঙ্গল। সাত রান করা নওরাজ সাজঘরে ফিরে গেলে ক্রিজে এসে বিদায় নেন আসগর স্টানিকজাই।

জাভেদের সঙ্গে আসগর দলের হাল ধরেন। তবে হাফ-সেঞ্চুরি করে জাভেদর মাঠ থেকে বিদায় নিলেও শেষ হয়ে যায় তাদের ৩৯ রানের জুটি। ৫১ বলে আটটি চারের সুবাদে ৫১ রান করে জাভেদ।

কিন্তু তার মাঠ ছেড়ে যাওয়ার পর উইকেটের বাধ ভেঙে যায়। একে একে সাজঘরে ফিরে যান মোহাম্মদ নবী (১), আফসার জাজাই (০), নাজিবুল্লাহ জাদরান (৪) ও গুলবদ্দিন নায়েব (০)।

৯৭ রানে সাত উইকেট হারালেও চার নম্বরে ব্যাট করতে নামা সামিউল্লাহ শেনওয়ারি ২২ গজের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে থেকে রানের চাকা ঘুরাতে থাকেন।

নবম উইকেটে হামিদ হাসানকে সঙ্গে নিয়ে ৬০ রানের জুটি গড়েন সামিউল্লাহ। এই জুটিতে ৪৯ রান অবদান রাখেন তিনি। দলকে নিয়ে যান জয়ের দ্বারপ্রান্তে। সেই সঙ্গে নিজের বিশ্বকাপ সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যান। কিন্তু সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৪ রান দূরে থাকতে মাজিদ হকের বলে জস দাভায়ের তালুবন্দী হন তিনি। শেষ হয়ে যায় ১৪৭ বলে সাতটি চার ও পাঁচটি ছক্কায় গড়া ৯৬ রানের ইনিংস।

সামিউল্লাহর মাঠ ছাড়ার সময় দলের জয়ের জন্য দরকার ছিল মাত্র ১৯ রান। বল ছিল ১৯টি। সবার শেষে ব্যাট করতে নামা শাপুর ১০ বলে দুটি চারে ১২ রান করেন। তার সঙ্গে ১৫ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন হাসান।

স্কটল্যান্ডের বোলার রিচি বেরিংটন সর্বোচ্চ চারটি উইকেট পান।

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ২১০ রান সংগ্রহ করে স্কটল্যান্ড।

ব্যাট হাতে স্কটিশদেরও পথচলাটি মসৃন হয়নি। সাত রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ৩৯ রানে হারায় মোট তিন উইকেট। ৯৫ রানে পঞ্চম উইকেট হারালে চাপে পড়ে যায় দলটি।

ধীরে ধীরে এগিয়ে চলার চেষ্টা করলেও ১‌৪৪ রানে শেষ হয়ে যায় তাদের আটটি উইকেট।

এরপর ৯ ও ১০ নম্বরে ব্যাট করতে নামা মাজিদ হক ও আলাসদাইর ইভান্স দলের হাল ধরেন। প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ৫৮ রানের জুটি। শেষ ওভারের প্রথম বলে মাজিদ সাজঘরে ফিরে যাওয়ার আগে ৫১ বলে তিনটি চারের সুবাদে ৩১ রান করেন।

এদিকে ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ৩৭ বলে ২৮ রান করেন ইভান্স। এছাড়া মাট মাচানের ৩১ রান, ওপেনার কাইল কোয়েৎজারের ২৫ রান রিচি বেরিংটনের ২৫ রান উল্লেখযোগ্য।

আফগান বোলার শাপুর জাদরান চারটি ও দাওলাত জাদরান তিনটি উইকেট শিকার করেন। একটি করে উইকেট পান হামিদ হাসান, গুলবদ্দিন নায়েব ও মোহাম্মদ নবী।

জেডআই