শেখর ধাওয়ানের সেঞ্চুরির ওপর ভর করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টসে জিতে ব্যাটিং করতে নেমে ৭ উইকেটে ৩০৭ রান সংগ্রহ করেছে ভারত। জয়ের জন্যে ৫০ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকাকে করতে হবে ৩০৮ রান। 

জবাবে ব্যাটিং করতে নেমে ১২ রানে প্রথম উইকেট হারায় প্রোটিয়ারা। মোহাম্মদ স্মামির বলে মিড অফে বিরাট কোহলির তালুবন্দি হন ডি কক।  ৪০ রানের মাথায় হাশিম আমলার উইকেটটি তুলে নেন মোহিত শর্মা। ১০৭ রানের সময় রান আউটে কাটা পড়েন এবি ডি ভিলিয়ার্স।

৩১.৩ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ৫ উইকেট হারিয়ে ১৪৭ রান। ব্যাটিংয়ে আছেন ডেভিড মিলার ও পারনেল। 

বিশ্বমঞ্চে ভারতের বিপক্ষে এর আগে তিনটি ম্যাচ খেলে তিনটিতেই জয় তুলে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। ভাগ্যদেবী সঙ্গে না থাকায় জয়ের মুখ দেখেনি ওয়ানডের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা! দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৯৯২ বিশ্বকাপে অ্যাডিলেডে ৬ উইকেটে, ১৯৯৯ বিশ্বকাপে ব্রিজটনে ৪ উইকেটে এবং ২০১১ বিশ্বকাপে নাগপুরে ৩ উইকেটে হারে ভারত।

নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় রোববার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টায় ম্যাচ শুরু হয়। টস জিতে ভারতের অধিনায়ক ধোনি ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। 

তবে শুরুটা ভালো হয়নি ভারতের। রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন ডানহাতি ওপেনার রোহিত শর্মা। কভার থেকে এ বি ডিভিলিয়ার্সের সরাসরি থ্রোতে রান আউট হন শর্মা। ড্রাইভ দিয়ে নিজের উইকেট বাঁচাতে পারেননি তিনি। 

দ্বিতীয় উইকেটে ১২৭ রানের জুটি গড়েন বিরাট কোহলি ও শেখর ধাওয়ান। এ সময়ে শিখর ধাওয়ান হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন। 

২৮তম ওভার এই জুটি ভাঙেন ইমরান তাহির। ওভারের প্রথম বলে বিরাট কোহলি ৪৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন।

কোহলি সাজঘরে ফিরে গেলেও শেখর ধাওয়ান একপ্রান্ত আগলে ব্যাটিং করে যান। দক্ষিণ আফ্রিকার পেসারদের বেশ ভালোমতোই সামলান বাঁহাতি এই ওপেনার। নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলে সেঞ্চুরিও তুলে নেন ধাওয়ান। এটি বিশ্বকাপে তার প্রথম সেঞ্চুরি। ধাওয়ানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যাট চালিয়ে যান অজিঙ্কা রাহানে। তৃতীয় উইকেটে এই জুটি মাত্র ৯৯ বলে ১২৫ রান যোগ করে।    

দলীয় ২৬১ রানে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ব্রেক থ্রু এনে দেন পেসার পারনেল। ১৩৭ রান করা ধাওয়ানকে হাশিম আমলার হাতে তালুবন্দি করান। ১৪৬ বলে ১৬ চার ও ২ ছক্কায় ১৩৭ রানের ইনিংসটি সাজান ধাওয়ান। বিশ্বকাপে এটি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে যেকোন ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ রান।

বাঁহাতি এই ওপেনার সাজঘরে ফেরার পর সুরেশ রায়না ৬ রানে আউট হন। ইনিংসের ৪৬তম ওভারে ভারতীয় শিবিরে আঘাত করেন ডেইল স্টেইন। রাহানকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন স্টেইন। ৬০ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৭৯ রান করেন রাহানে।

রাহানের বিদায়ের পর জাজেদা (২) ও ধোনি (১৮) একই পথ ধরেন।  শেষ পর্যন্ত ৩০৭ রানের পুঁজি পায় ওয়ানডের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।  অশ্বিন ৫ ও মোহাম্মদ স্মামি ৪ রানে অপরাজিত থাকেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে মর্নি মরকেল ৫৯ রানে ২ উইকেট নেন। ১টি করে উইকেট নেন ইমরান তাহির, ডেইল স্টেইন পার্নেল।

পাকিস্তানকে হারিয়ে এবারের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে টিম ইন্ডিয়া। জয়ের দেখা পায় দক্ষিণ আফ্রিকাও। জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে বিশ্বকাপের মিশন শুরু হয় তাদের।

জেআই