মাদ্রিদ ডার্বির হাইভোল্টেজ ম্যাচে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদকে ২-১ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। রোববার রিয়ালের হয়ে গোল দুটি করেছেন রদ্রিগো ও ফেডেরিকো ভালভার্দে। বদলি নেমে অ্যাতলেটিকোর হয়ে একটি গোল শোধ করেন মারিও হার্মোসো।

রিয়াল মাদ্রিদের জয়রথ থামানোর হুঙ্কার দিয়েছিলেন অ্যাতলেটিকো কোচ দিয়েগো সিমিওনে। আক্রমণাত্মক ফুটবলে কোচের কথা কাজে পরিণত করার আশাও জাগালেন কারাসকো-ফেলিক্সরা। তবে তাদের বেশিরভাগ আক্রমণ মুখ থুবড়ে পড়ল। শেষে গিয়ে ব্যবধান কমিয়ে লড়াই আরো জমিয়ে তোলেন তারা। তবে বাকিটা সময় রক্ষণ জমাট রেখে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কার্লো আনচেলত্তির দল।

নিজেদের ঘরের মাঠ ওয়ান্দা মেট্রোপলিটানোতে প্রতিপক্ষের চেয়ে বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল সিমিওনের দল। রিয়ালের ৪৭ ভাগ বল দখলের বিপরীতে অ্যাতলেটিকোর দখলে ছিল ৫৩ ভাগ। স্বাগতিকদের ১২টি শটের ৫টি লক্ষ্যে ছিল, তবে গোলে রুপান্তরিত হয়েছে মাত্র একটি! বিপরীতে সফরকারীদের শট ছিল ৬টি, যার ৩টি ছিল লক্ষ্যে এবং এর দুটিই গোলে রুপান্তরিত হয়। এখানেই মূলত হেরে গেছে অ্যাতলেটিকে মাদ্রিদ।

দুই নগর প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই মানেই উত্তেজনার ঢেউ, বাড়তি উত্তাপ। প্রথম ছয় মিনিটেই হলো চারটি ফাউলের ঘটনা। চতুর্থ মিনিটে ফেডেরিকো ভালভার্দেকে অ্যাতলেটিকোর কোকের ফাউলের ঘটনায় দ্বন্দ্বে জড়াতে যাচ্ছিল দুই পক্ষ। দ্রুত রেফারি এসে পরিবেশ শান্ত করেন।

তবে বল দখলে পিছিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধে আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের ১৮তম মিনিটেই এগিয়ে যায় সফরকারী দল। ফরাসি মিডফিল্ডার আরেলিন চৌমেনির বুদ্ধিদীপ্ত ডিফেন্সচেরা ভাসানো পাস থেকে দারুন ফিনিশিংয়ে অ্যাতলেটিকো গোলরক্ষক ওবলাককে পরাস্ত করে স্বাগতিকদের জালে বল পাঠান ব্রাজিলিয়ান তরুন ফরোয়ার্ড রদ্রিগো। গোল করার পর নিজের জাতীয় দল ও ক্লাব সতীর্থ ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সাথে ভিনি'র চিরাচরিত সেই নাচ দিয়ে গোল উদযাপন করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। লিগে এই নিয়ে টানা তিন ম্যাচে গোল করলেন রদ্রিগো।

ঠিক ১৮ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফেডেরিকো ভালভার্দে। ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে প্রায় মাঝ মাঠ থেকে লুকা মডরিচের বাড়ানো বল নিয়ে দ্রুত দৌড়ে অ্যাতলেটিকোর বক্সে ঢুকে গোলপোস্ট লক্ষ্য করে শট নেন ব্রাজিলিনয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তার শট গোলরক্ষক ওবলাককে পরাস্ত করলেও সাইড পোস্টে লেগে ফেরত আসে। অপর প্রান্তে অনেকটা দৌড়ে এসে জোরাল শটে সেই বল জালে জড়ান উরুগুয়াইন মিডফিল্ডার ভালভার্দে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা তিন ম্যাচে জালের দেখা পেলেন উরুগুয়ের এই মিডফিল্ডার।

রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়া তিনটি শট সেভ করে প্রথমার্ধে রিয়ালকে গোল হজম করা থেকে রক্ষা করেন ফলে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষে বিরতিতে যায় রিয়াল মাদ্রিদ।

দ্বিতীয়ার্ধেও কোনোমতে গোল আদায় করতে পারছিলোনা স্বাগতিকরা। বার বার রিয়ালের রক্ষণের কাছে গিয়ে থমকে যেতে হয়েছে। অবশেষ ৮৩তম মিনিটে একটি গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মারিও হার্মোসো। গ্রিজম্যানের কর্নার কিক রিয়াল মাদ্রিদ গোলরক্ষক কর্তোয়া মিস করলে দারুন হেডে রিয়ালের জালে বল পাঠান বদলি নামা এই ডিফেন্ডার।

তবে মুদ্রার উল্টা-পিঠ দেখতেও সময় নেননি এই ডিফেন্ডার। যোগকরা সময়ে সেবাইয়োসকে অহেতুক ফাউল করে দুই মিনিটের মধ্যে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। বদলি নেমে গোল করেছেন এবং দুই হলুদ কার্ডের বিনিময়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এই ম্যাচেই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ দুটিই দেখা হয়ে যায় তার।

১০ জনের দলে পরিণত হওয়া অ্যাতলেটিকো শেষ কয়েক মিনিটে আর সমতায় আসতে পারেনি। ২-১ গোলের স্বস্তির জয় নিয়ে মাথ ছাড়ে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। গত মে মাসে ২০২১-২২ আসরের ফিরতি দেখায় এই মাঠে হারতে হয়েছিল রিয়ালকে। দারুণ পারফরম্যান্সে এবার মধুর প্রতিশোধ নিল রেকর্ড চ্যাম্পিয়নরা।

এবারের লিগে এই নিয়ে টানা ৬ ও সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৯ ম্যাচ খেলে সবকটিতে জিতল রিয়াল। লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে আবারো শীর্ষে ফিরল তারা।

টানা ৬ জয়ে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রিয়াল। দুইয়ে নেমে যাওয়া বার্সেলোনার পয়েন্ট ১৬। ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রিয়াল বেতিস। আসরে দ্বিতীয় হারের স্বাদ পাওয়া অ্যাতলেটিকো তিন জয় ও এক ড্রয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে আছে সাত নম্বরে।

অপরদিকে লিগ-ওয়ানে মেসির একমাত্র গোলে অলিম্পিক লিও'কে তাদের মাঠে ১-০ গোলে হারিয়েছে পিএসজি। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই নেইমারের পাস থেকে বাঁ পায়ে গোলটা করেন লিওনেল মেসি। লিও'র পর্তুগিজ গোলরক্ষক আন্তোনিও লোপেজ বাধা হয়ে দাড়ালে ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি পিএসজি। এই জয়ে ৮ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ ওয়ানের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে এলো পিএসজি।

এবিএস