ক্ষনে- ক্ষনে রুপ বদলায়। মুশফিক- সাব্বির জুটি জয়ের আশা জাগালেও শুশফিকের আউটের পর বরতিহীনভাবে উইকেটের আরো ২ উইকেটের পতনে জয়ের আশা জাগিয়েও আবার হারের শঙ্কা বাংলাদেশের।
ইংল্যান্ডের সাথে স্বপ্নের জয় পেতে লড়ছিলেন মুশফিক- সাব্বির। সেই সাথে স্বপ্ন দেখালেন গোটা জাতিকে। সাকিবের আউটের পর হারের শঙ্কা কাটিয়ে উঠার চেষ্টায় কিছুটা হলেও সফল বাংলাদেশ। কিন্তু মুশফিকের আইটের পর আবার চাপে বাংলাদেশ।
ইংল্যান্ডের বোলিং তোপে যখন কাবু টাইগাররা। তখনই সাব্বিরকে সাথে নিয়ে এগিয়ে চলেছেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহমান। ধীরে ধীরে জয়ের দিকেই নিয়ে যাচ্ছেন দলকে।
সাকিব, মুমিনুল হক মাহমুদুল্লাহরা একে একে সাজঘরে ফেরায় বেশ চাপেই পড়ে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে বাংলাদেশ দলের অন্যতম ভরসার প্রতিক সাকিবের আউটের পর হারের শঙ্কা জাগে বাংলাদেশ শিবিরে। তবুও হাল ছাড়তে রাজি নন মুশফিক।
চা বিরতিতে যাওয়ার আগে মুশফিক জুটি গড়েন সাব্বিরকে সাথে নিয়ে। যদিও সাব্বির তার চীরচেনা মারমুখী ভঙ্গিমায় ব্যাট চালাতে থাকেন। মারেন দুটি ছক্কা। এদিকে ধীরেই চলেছেন মুশফিক। দেখে-শুনেই চালাচ্ছেন ব্যাট।
চট্টগ্রাম টেস্টের চতুর্থ দিনে ইংল্যান্ডের দেওয়া ২৮৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করছে বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর : ৭৪ ওভারে বাংলাদেশ ২৮০/৮। জয়ের জন্য এখনো চাই ৪৬ রান।
ব্যাট করছেন তাইজুল (০) ও সাব্বির রহমান (৫৬) রান নিয়ে। ফিরে গেছেন কামরুল, মিরাজ, মুশফিক (৩৯)সাকিব আল হাসান (২৪),মাহমুদউল্লাহ (১৭), মুমিনুল হক (২৭), ইমরুল কায়েস (৪৩), তামিম ইকবাল (৯) রান করে।
ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারলেন না ইমরুল কায়েস, আউট হয়েছেন ৪৩ রান করে।
এদিকে, গত ম্যাচে (০)রানে আউট হওয়া মমিনুলের উপর ভরসা করেছিলেন অনেকেই কিন্তু রিস্কি শট খেলতে গিয়ে আউট হয়ে দলকে চাপের মুখে ঠেলে দিলেন। পরপরই মাহমুদল্লাহর আউটে শঙ্কা এখন ফলাফল নিয়েও।
২৮৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেন তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস। ৯ ওভারে দুজন স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ৩৪ রান। দশম ওভারে ভাঙে ৩৫ রানের উদ্বোধনী জুটি। প্রথম ইনিংসে ৭৮ রানের ইনিংস খেলা তামিম আউট হন মঈন আলীর বলে শর্ট লেগে গ্যারি ব্যালান্সকে ক্যাচ দিয়ে।
এরপর মুমিনুলকে সঙ্গে নিয়ে ইংলিশ বোলারদের ভালোই সামাল দিচ্ছিলেন ইমরুল। দুজন সচল রাখছিলেন রানের চাকাও। কিন্তু ২১তম ওভারে দলীয় ৮১ রানে আদিল রশিদের বলে জো রুটকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ইমরুল। ৬১ বলে ৬টি চারে তার ব্যাট থেকে আসে ৪৩ রান।
চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ২১৫ রান তাড়া করে জিততে পেরেছে বাংলাদেশ, ২০০৯ সালে গ্রানাডায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। চতুর্থ ইনিংসে ২৮৬-এর বেশি রান তিনবার করেছে বাংলাদেশ, কিন্তু হেরেছে তিনবারই। এই মাঠে ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫১৩ রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ করেছিল ৩৩১।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে তৃতীয় দিনের ৮ উইকেটে ২২৮ রান নিয়ে রোববার চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে ইংল্যান্ড। তবে এদিন ২০ মিনিটের মধ্যে ১২ রানে ইংল্যান্ডের শেষ ২ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস: ১০৫.৫ ওভারে ২৯৩ (মঈন ৬৮, বেয়ারস্টো ৫২, রুট ৪০, ওকস ৩৬; মিরাজ ৬/৮০, সাকিব ২/৪৬, তাইজুল ২/৪৭)।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৮৬ ওভারে ২৪৮ (তামিম ৭৮, মুশফিক ৪৮, মাহমুদউল্লাহ ৩৮, সাকিব ৩১, ইমরুল ২১, সাব্বির ১৯; স্টোকস ৪/২৬, মঈন ৩/৭৫, রশিদ ২/৫৮, ব্যাটি ১/৫১)।
ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংস: ৮০.২ ওভারে ২৪০ (স্টোকস ৮৫, বেয়ারস্টো ৪৭, ওকস ১৯*; সাকিব ৫/৮৫, তাইজুল ২/৪১, রাব্বি ১/২৪ মিরাজ ১/৫৮)।
এসএম





