চ্যাম্পিয়নস লীগের সেমিফাইনালের টিকিট পাওয়ার লড়াইয়ের প্রথম লেগে পর্তুগীজ চ্যাম্পিয়ন পোর্তোর কাছে হোচট খেল বায়ার্ন মিউনিখ।
বুধবার কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের ম্যাচে নিজেদের মাঠে দশবারের ফাইনালিস্ট বায়ার্ন মিউনিখকে ৩-১ গোলে পরাজিত করেছে পোর্তো।
আগামী মঙ্গলবার আলিয়াঁজ এরিনাতে মিউনিখের বিপক্ষে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে পোর্তো এগিয়ে থাকলেও এ্যাওয়ে গোলের সুবাদে বায়ার্ন নিজেদের মাঠে সুক্ষ একটি আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামবে। কিন্তু কমপক্ষে দুই গোল তাদের সেই ম্যাচে দিতেই হবে।
গত ছয় সপ্তাহ ধরে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে দলের বাইরে ছিলেন পোর্তো অধিনায়ক। ম্যাচের শেষের দিকে হলুদ কার্ডের কারণে রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক ডিফেন্ডার ডানিলোকে মিউনিখে পাচ্ছে না পোর্তো। মূলত জাবি আলোনসো এবং দাতের বাজে দুটি ভুলের কারণে বায়ার্নকে হারতে হয়েছে। তবে বেভারিয়ান্স অধিনায়ক ফিলিপ লাম মনে করেন ভুল খেলারই একটি অংশ।
তিনি বলেন, আমরা সবসময় পিছনে থেকে খেলতে পছন্দ করি। কিন্তু এই কৌশল অনেক সময় বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে। ৩-১ গোলে পরাজিত হওয়াটা সত্যিই হতাশাজনক, কিন্তু তারপরেও ফিরতি লেগে খেলার পুরো সুযোগটাই আমরা কাজে লাগাতে চাই।
হোসে মরিনহোর অধীনে এর আগে ২০০৪ সালে সর্বশেষ চ্যাম্পিয়নস লীগের শিরোপা জিতেছিল পোর্তো। এর আগে ১৯৮৭ সালে প্রথম শিরোপা অর্জন করে। দু’বার ফাইনালে উঠে শিরোপা নিয়েই ঘরে ফিরেছে পর্তুগীজরা। ২০০৪ সালের পরে এই প্রথম তাদের সামনে সুযোগ এসেছে সেমিফাইনালে খেলার। পোর্তো কোচ লোপেটেগি মনে করেন গার্দিওলার বায়ার্নের বিপক্ষে তাদের শুরুটা হয়েছিল স্বপ্নের মত। রাইট উইঙ্গার রিকার্ডো কুয়ারেসমা প্রথম ১০ মিনিটেই দুই গোল করে সেই স্বপ্নটাকে বাস্তবে রূপ দেয়। মূলত ম্যাচের শুরুতে এই দুই গোলে পিছিয়ে থাকা বেভারিয়ান্সরা আর ম্যাচে ফিরে আসতে পারেনি। ২৮ মিনিটে অবশ্য থিয়াগো আলকানটারার সুবাদে এক গোল শোধ করেছিল বায়ার্ন। কিন্তু ছয় সপ্তাহ পরে বিস্ময়করভাবে দলে ফিরে আসা পোর্তো অধিনায়ক মার্টিনেজ ৬৫ মিনিটে তৃতীয় গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। মৌসুমে এটা ছিল মার্টিনেজের ২৭তম গোল।
পোর্তোর এস্তাদিও দো ড্রাগোয়া স্টেডিয়ামে জার্মান জায়ান্টদের বিপক্ষে প্রথম থেকেই চেপে বসে স্বাগতিকরা। বায়ার্ন মিউনিখের মিডফিল্ডার জাবি আলোনসোর ভুলের সুযোগে মার্টিনেজ ম্যাচের শুরুতেই গোলে শট করার আগে সফরকারী গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যুয়ার চার্জ করে বসে। স্প্যানিশ রেফারী কার্লোস কারবালো অবশ্য পেনাল্টির নির্দেশ দিতে ভুল করেননি। তিন মিনিটে স্পট কিক থেকে কুয়ারেসমা গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। ১০ মিনিটে দাতের ভুলের সুবাদে কুয়ারেসমা অনেকটা একক প্রচেষ্টাই ব্যবধান দ্বিগুন করেন। পর্তুগালের ৩১ বছর বয়সী অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডারের গত তিন ম্যাচে এটি ছিল পঞ্চম গোল।
ইনজুরির কারনে বায়ার্নে ছিলেন না তারকা উইঙ্গার আরিয়েন রবেন, ফ্র্যাংক রিবেরি এবং মিডফিল্ডার বাস্টিয়ান শোয়েইন্সটেইগার। কিন্তু তারপরেও ৭০ শতাংশ গোল পজিশন ছিল বায়ার্নের দখলেই। ২৮ মিনিটে সেন্টার ব্যাক জেরম বোয়াটেংয়ের লো ক্রস থেকে থিয়াগো বেভারিয়ান্সদের পক্ষে একটি গোল শোধ করেন। ২৩ বছর বয়সী থিয়াগোর চ্যাম্পিয়নস লীগে এটি ছিল প্রথম গোল। কিন্তু ৬৫ মিনিটে মার্টিনেজের গোলে থিয়াগোর গোলটি মূল্যহীন হয়ে পড়ে।
জেডআই





