চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় নিয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা। লা লিগার শিরোপাটি নিয়ে চলছে তুমুল লড়াই। তাতেও সুবিধাজনক স্থানে নেই বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ছিল পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে। রোববার অ্যাথলেটিক বিলাবাওর বিপক্ষে হেরে গেলে এই শিরোপাটিও ধরা ছোঁয়ার বাহিরে চলে যেত। প্রথমে পিছিয়ে পড়ায় সেই সম্ভাবনাটি সত্য হতে চলছিল। অবশেষে মেসির গোলে ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছে তারা। সেই সঙ্গে বার্সার শিরোপা জয়ের স্বপ্নটা বেঁচে থাকল।
রোববার ন্যু ক্যাম্পে প্রথমার্ধ গোলশুন্য থাকার কারণে বিরতির পরে দু’দলই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। এতে প্রথম সফল হয় সফরকারী বিলবাও। বিরতির পরে মাঠে ফিরে পাঁচ মিনিটের মধ্যে আরিজ আডুরিজের গোলে বিলবাও এগিয়ে গেলে বার্সেলোনা সব ধরনের প্রতিযোগিতায় টানা চার ম্যাচ হারের লজ্জার আশঙ্কায় পড়ে। কিন্তু পেদ্রো রদ্রিগেজ এবং লিওনেল মেসির দ্রুত দুই গোলে শেষ পর্যন্ত পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ে কাতালানরা।
এই জয়ে রিয়াল মাদ্রিদকে হটিয়ে লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বার্সেলোনা। রিয়ালের থেকে দুই পয়েন্ট এগিয়ে থাকলেও শীর্ষে থাকা অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের থেকে তাদের পয়েন্টের ব্যবধান এখনো চার। হাতে এখনো চার ম্যাচ বাকি রয়েছে। এই পরাজয়ের পরেও সেভিয়ার তুলনায় মাত্র তিন পয়েন্ট এগিয়ে এখনো চতুর্থ স্থান ধরে রেখেছে বিলাবাও। এই দুই দল আগামী সপ্তাহে একে অপরের মুখোমুখি হবে। গুরুত্বপূর্ণ ঐ ম্যাচটির মাধ্যমেই মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া যাবে আগামী মৌসুমে কোন দলটি চ্যাম্পিয়নস লিগের জন্য টিকে থাকবে।
চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে পড়া, কোপা ডেল রে ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে পরাজিত হয়ে শিরোপা হারানো এবং গত সপ্তাহে গ্রানাডার কাছে পরাজিত হয়ে লা লিগায় শিরোপা দৌড়ে পিছিয়ে পড়া- এসবই ছিল গত ১০ দিনে বার্সেলোনার দু:সহ স্মৃতি। কিন্তু এতকিছুর পরে বার্সা কোচ জেরার্ডে মার্টিনো মনে করেন সবকিছুকে পিছনে ফেলে তার দল ঠিকই ফিরে আসবে।
তিনি বলেছেন, প্রথমার্ধে আমার মনে হয়েছিল আবারো বুঝি সেই দিনগুলো ফিরে আসছে। কারণ এত সুযোগ পাবার পরে যদি সেগুলো কাজে লাগানো না যায় তবে সেই দলের জন্য এটাই কাম্য। কিন্তু খেলোয়াড়রা শেষ পর্যন্ত তা কাটিয়ে উঠেছে এবং এ ধরনের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি তারা আগেও হয়েছে। আর সবসময়ই তারা যথেষ্ট সাহস ও দৃঢ় মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে।
জেভিয়ার মাসচেরানো বলেছেন, নিজেদের টিকিয়ে রাখতে হলে তাদের অ্যাথলেটিকো এবং রিয়ালের উপর চাপ বজায় রাখতে হবে। আর তাই মৌসুমের শেষ মাসটিতে নিজেদের প্রমাণে একটুকু ছাড় দেয়া যাবে না।
এদিন পুরো ম্যাচেই নিয়ন্ত্রণ ছিল বার্সেলোনার। যতগুলো সুযোগ তারা পেয়েছে সেগুলো কাজে লাগালে ম্যাচের ফলাফল ভিন্ন হতে পারতো। ম্যাচের শুরুতেই পেদ্রো এবং মেসি অ্যাথলেটিক গোলরক্ষক গোর্ক ইরাইজোজের খুব কাছ থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন। ম্যাচের মাঝামাঝিতে সফরকারীরাও নিজেদের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি নষ্ট করে। কিন্তু আডুরিজের ওভারহেড কিক কাতালান গোলরক্ষক হোসে ম্যানুয়েল পিন্টো যথাসাধ্য চেষ্টা করেও আটকাতে পারেননি। পিছিয়ে পড়ে অনেকটা বিস্মিত হয়ে যাওয়া বার্সেলোনা ম্যাচে ফিরে আসার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। পেদ্রোর লো ক্রস থেকে অ্যালেক্সিস সানচেজের শট ক্রসবারের উপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। এরপর ইরাইজোজ পেদ্রো এবং সানচেজের দুটি প্রচেষ্টা সহজেই রক্ষা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৭২ মিনিটে আর লিড ধরে রাখতে পারেনি সফরকারীরা। সানচেজের পাস থেকে শেষ পর্যন্ত দলকে সমতায় ফেরান পেদ্রো। এটি ছিল মৌসুমে তার ১৯তম গোল। দুই মিনিট পরে ফ্রি-কিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুন করেন মেসি। ম্যাচের শেষের দিকে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে মাসচেরানো এবং ক্রিস্টিয়ানো তেয়ো দুটি সুযোগ নষ্ট না করলে ব্যবধান আরো বাড়তে পারতো।