সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরেও চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে পৌঁছে গেছে বার্সেলোনা। নেইমারের জোড়া গোলে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৩ গোলে এগিয়ে থেকে বার্লিনের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে কাতালান জায়ান্টরা। আলিয়াঁজ অ্যারিনাতে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচটিতে বার্সেলোনা ৩-২ গোলে পরাজিত হয়।
বায়ার্ন দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসলেও প্রথম লেগে ক্যাম্প ন্যুতে ৩-০ গোলের পরাজয়ই মূলত তাদের ইউরোপীয়ান সর্বোচ্চ আসর থেকে ছিটকে দিয়েছিল। তার থেকে আর বেরিয়ে আসতে পারেনি পেপ গার্দিওলার দল। আর এর মাধ্যমে লুইস এনরিকের বার্সা এবারের মৌসুমে ট্রেবল জয়ের আরো কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। লা লিগার শিরোপার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাওয়া বার্সেলোনার সামনে এখন ৩০ মে স্প্যানিশ কাপের শিরোপার হাতছানি, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ এ্যাথলেটিক বিলবাও।
অন্যদিকে পেপ গার্দিওলার বায়ার্ন এই নিয়ে টানা দুই বছর শেষ চারের লড়াই থেকে বিদায় নিল। যদিও তারা বার্সেলোনার ১৮ ম্যাচ জয়ের ধারা ভাঙ্গতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু তাতে নিজেদের আর এগিয়ে যাওয়া হয়নি। গত সপ্তাহে ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরে অনেকটা কঠিন সমীকরণ নিয়েই মাঠে নেমেছিল স্বাগতিকরা।
প্রথমার্ধের সাত মিনিটের মধ্যে মেধি বেনাটিয়ার হেডে এগিয়েও যায় বায়ার্ন। কিন্তু লুইস সুয়ারেজের সহায়তায় ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমারের দুই গোলে প্রথমার্ধেই বায়ার্নের আশা প্রায় শেষ হয়ে যায়। যদিও দ্বিতীয়ার্ধের উজ্জীবিত পারফরমেন্সের পাশাপাশ রবাট লিওয়ানোদোস্কি এবং থমাস মুলারের গোলে স্বান্তনার জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে বায়ার্ন। যে কারনে সমর্থকদের সমীহও আদায় করে নিয়েছে তারা। কিন্তু আগামী ৬ জুন বার্লিনে বার্সেলোনার খেলার নিশ্চয়তা বন্ধ করতে পারেনি বেভারিয়ান্সরা।
প্রথম লেগে দুই গোল করা লিয়নেল মেসি ম্যাচের বাকি গোলটিতে নেইমারকে দারুনভাবে সহায়তা করেছিলেন। গতকালকের ম্যাচেও মেসি গোল না পেলেও নেইমারের প্রথম গোলের কারিগত মূলত তিনিই ছিলেন। গত ১০ ম্যাচে ১১ গোল করে সেলেসাও তারকা নেইমারের দিকেই এখন নি:সন্দেহে বার্লিনের সব চোখ আবদ্ধ থাকবে।
মেসি, সুয়ারেজ, নেইমার ঝলকের আগে অবশ্য ম্যাচের শুরুতেই নায়ক বনে গিয়েছিলেন বায়ার্নের ২৮ বছর বয়সী মরোক্কান ডিফেন্ডার বেনাটিয়া। জাবি আলোনসোর কর্ণার থেকে অনেকটা ফাঁকায় দাঁড়ানো বেনাটিয়া মাথা ছুঁইয়ে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন। এর মাধ্যমে গত সাত ম্যাচে একটিও গোল হজম না করা বার্সেলোনার ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়। কিন্তু ১১বারের মত ইউরোপীয়ান কাপ ফাইনালে যাবার স্বপ্ন খুব বেশীক্ষন স্থায়ী হয়নি বায়ার্নের। বায়ার্ন ডিফেন্সের ভুলের সুবাদেও মেসির বাড়ানো বল থেকে সুয়ারেজ ডানদিক থেকে দারুণ এক পাস দেন নেইমারকে। ১৫ মিনিটে কাতালানদের পক্ষে সমতা ফেরান ব্রাজিলিয়ান তারকা। বায়ার্ন এরপর আক্রমণ বাড়াতে শুরু করে। থমাস মুলারের হেড বার্সার জার্মান গোলরক্ষক মার্ক-আন্দ্রে টার স্টেগান রক্ষা না করলে ১৯ মিনিটেই হয়ত আবারো এগিয়ে যেতে পারতো বায়ার্ন। উভয় দলই এরপর বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করে।
লিওয়ানোদোস্কির পরে মুলারের শট টার স্টেগান এবং অপর দিকে মেসির কয়েকটি প্রচেষ্টা ম্যানুয়ের ন্যুয়ার আটকে দেন। কিন্তু ২৯ মিনিটে আর ভুল করেননি নেইমার। আবারো ডানদিক থেকে সুয়ারেজের পাস নেইমার জোড়ালো শটে গোলে পরিণত করলে তাতে বায়ার্নের রক্ষনভাগ এবং একইসাথে ন্যুয়ারের ব্যর্থতাও চোখে পড়েছে। বাস্টিয়ান শোয়েন্সটেইগারের একটি জোড়ালো হেড টার স্টেগান রক্ষা করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে লুইস এনরিকে সুয়ারেজকে বিশ্রাম দিলে ম্যাচের গতি কিছুটা মন্থর হয়ে যায়। ৫৯ মিনিটে পোলিশ তারকা লিওয়ানোদোস্কি গোল করলে স্বাগতিকদের আশা আবারো চাঙ্গা হয়ে ওঠে। ৭৪ মিনিটে শোয়েন্সটেইগারের পাস থেকে মুলার গোল করে বায়ার্নকে জয় উপহার দেন। শেষ পর্যন্ত এই বার্সেলোনাকে হারানোর স্বান্তনা নিয়েই মাঠ ছাড়ে বেভারিয়ান্সরা।
জেডআই





