টেলিকম কোম্পানি ‘রবি’র কঠিন শর্তের বেড়াজালে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় পড়েছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। কোম্পানিটি ২০১৭ সালের জুনে ৬০ কোটি টাকায় দ্বিতীয় মেয়াদে বিসিবি’র (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) স্পন্সর স্বত্ব কিনে নেয়। এই চুক্তি ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত চলবে।
স্বত্ব কেনার সময় তাদের শর্তই ছিলো ‘রবি’র বিজ্ঞাপনের বাইরে অন্য কোনো টেলিকম কোম্পানির প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না ক্রিকেটাররা।
ইতিমধ্যে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে অন্য টেলিকম কোম্পানির সাথে নতুন চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এতদিন এ নিয়ে সক্রিয় না থাকলেও সম্প্রতি এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। আর এই শর্ত বাস্তবায়ন করা হলে বিশাল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন ক্রিকেটাররা।
২০১৫ সালে স্পন্সরের বিজ্ঞপ্তি দেবার পর ৪১ কোটি ৪১ লাখ টাকার বিনিময়ে গ্রামীণ ফোনকে হারিয়ে বিসিবির মিডিয়া স্পন্সর নেয় রবি। তারপরের বারও ৬০ কোটি টাকায় স্পন্সর হাতছাড়া করেনি এই টেলিকম কোম্পানিটি। কিন্তু এবার রবির এই শর্তের কারণে ২০১৮ সালের চুক্তি নিয়ে বেশ জটিলতা দেখা দিতে পারে।
চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের নতুন তালিকা প্রকাশ করা না হলেও টিম স্পন্সর শর্ত মেনেই চুক্তি হবে বলে জানিয়েছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী। বলেন, আন্তর্জাতিক যেকোনো টুর্নামেন্ট বা চুক্তিতেই সাধারণত একই ধরনের দুটি প্রতিষ্ঠানকে রাখা হয় না। আইসিসি মেনে চলে এই রীতি। এ নিয়মের কারণে ক্রিকেটাররা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হলেও দু’পক্ষের আলোচনাতেই টিম স্পন্সরের শর্ত মেনে চলতে আগ্রহী বিসিবি। তাই তো বিসিবিও টিম স্পন্সরের শর্ত মেনে বিষয়টি জানিয়েছে ক্রিকেটারদের।
বিসিবির চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার হিসেবে মাশরাফি-সাকিব-তামিমরা বছরে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা বেতন পান বোর্ড থেকে। অন্যদিকে, ৪ বছরের চুক্তিতে বাংলালিংকের সাথে সাকিবের চুক্তি প্রায় ৫ কোটি টাকার। তামিম-মাশরাফিরাও বছরে আরেকটি টেলিকম কোম্পানি থেকে আয় করে কোটি টাকার কাছাকাছি। তাই নতুন নিয়মে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতিতে পড়বেন ক্রিকেটাররা। এ পরিস্থিতিতে, ক্রিকেটারদের সাথে আলোচনা করে ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার কথা বিসিবির।





