ফ্রাঙ্ক রিবেরি ইনজুরিতে। মানে বিশ্বকাপে তিনি দর্শক। ফ্রান্সের জন্য এর চেয়ে দুঃসংবাদ আর কি হতে পারে? দলের সেরা তারকাকে হারিয়ে মাথা খারাপ কোচ দিদিয়ের দেশমসের।
রিবেরিকে ছাড়া বিশ্বকাপে তার ছক যে এলোমেলো। রিবেরির ইনজুরিতে কার্যত ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের আকাশ-কুসুম স্বপ্নটাও শেষ। আটলান্টিক মহাসাগরের ওপারে তাদের যাত্রাটাও তাই অনেকটাই লক্ষ্যহীন।
পরিস্কার ভাষায় বলতে গেলে, ব্রাজিলের মাটি থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফেরার কোনো যোগ্যতা নেই তাদের। কোয়ার্টার ফাইনাল, ভাগ্যটা নেহাত ভালো থাকলে সেমিফাইনাল। এর বেশী যাওয়ার যোগ্যতা নেই দেশমসের এই দলটির।
ফ্রান্সের ড্র ভাগ্যটা অবশ্য বেশ ভালো। তারা রয়েছে ‘ই’ গ্রুপে, সঙ্গী সুইজারল্যান্ড, ইকুয়েডর এবং হন্ডুরাস। মানে গ্রুপে তেমন শক্তিশালী দল নেই। তাই দ্বিতীয় পর্বে ওঠার সমীকরণ তেমন কঠিন কিছু নয়। আবার কঠিনও। চুপে চুপে সুইজারল্যান্ডও দারুণ ফুটবল খেলছে। আর ব্রাজিলের পরিবেশটা বেশ ভালো করেই জানা ঐ অঞ্চলের দুই দেশ ইকুয়েডর ও হন্ডুরাসের। তাই প্রথম পর্ব থেকেও বিদায়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে ফ্রান্সকে।
আশির দশকে মিশেল প্লাতিনির কারণে ফ্রান্স ফুটবলে সুবাতাস ছিল। ১৮৮৪ সালে প্রথমবারের মতো ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল তারা। তবে ফরাসী ফুটবলের সেরা সময়টা যায় জিনেদিন জিদানের সময়ে। দু’টি কনফেডারেশন কাপ, ২০০০ সালে ইউরোপ সেরা, ১৯৯৮ এর বিশ্বকাপ জেতা এবং ২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে যাওয়া। অবশ্য ফাইনালে মাথাটা  ঠান্ডা রাখতে পারলে ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতে পারতো। ইতালি নয়, দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তুলতো ফ্রান্স। আরো সমৃদ্ধ হতো জিদানের প্রোফাইল।
ফরাসীরা স্বপ্ন দেখেন নতুন আরেকজন জিদানের। দায়িত্বটা যিনি নিজের কাঁধে নিতে পারেন। ফ্রাঙ্ক রিবেরির মধ্যে জিদানের কিছু গুণ ছিল। তিনি দারুণ লড়াকু। বায়ার্ন মিউনিখকে গত মৌসুমে কি-না এনে দিয়েছেন। ব্রাজিলে তাকে খুব বেশী মিস করবে ফ্রান্স।
দলে তরুণ প্রতিভাবানরা থাকলেও ধারাবাহিকতা নেই। বাছাই পর্বের গণ্ডি পার হতে অনেক ঘাম ঝরাতে হযেছে। আক্রমণভাগে করিম বেনজেমা ছাড়া দ্বিতীয়জন নেই। বেনজেমাকে বল বানিয়ে দেওয়ার জন্য জাভি-ইনিয়েস্তাদের মতো কেউ নেই। দেশমসের ‘ব্রাজিল প্রজেক্ট’ তাই সুখের না হওয়ারই সম্ভাবনা বেশী। ২০১০ বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। এবার তাহলে কি?[b]
ঢাকা: কেএ ৮ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম)//[/b]