২১৯ রানের স্বল্প পুঁজি নিয়েও বোলারদের অসাধারণ নৈপুণ্যের ওপর ভর কর ষষ্ঠ ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকা অনুর্ধ্ব-১৯ দলকে ৪৫ রানে হারিয়ে সাত ম্যাচ সিরিজে ৫-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ দল। বাংলাদেশের যুবাদের করা ২১৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৭৪ রানে গুটিয়ে যায় প্রোটিয়া যুবারা।

মূলতঃ বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ দলের বোলিং তোপে পড়েই হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ‍অনুর্ধ্ব-১৯ দল। সালেহ আহমেদ শাওন ও নিহাদুজ্জামান দুর্দান্ত বোলিং করে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে জয় উপহার দেন। শাওন ২৫ রানে ৫টি ও নিহাদুজ্জামান ২৩ রানে ৩টি করে উইকেট লাভ করেন। একটি করে উইকেট নেন মেহেদি হাসান মিরাজ ও কাজী অনিক।

দক্ষিণ আফ্রিকা যুবদলের হয়ে ওপেনার রিভালদো মুনসেমি ৬০ রান করে দলকে জয়ের ভিত গড়ে দেন। এছাড়া আবদু গালিয়েম ৩৬ ও ডিন ফক্সক্রফট ২৬ রান করলেও অন্য ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় প্রোটিয়াদের।

জয়ের জন্য ২২০ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে শুরুটা ভালোই ছিল। তবে ইনিংসের ২৩ ওভারের পর থেকে শাওন ও নিহাদুজ্জামানের তোপের মুখে পড়ে বেসামাল হয়ে পড়ে সফরকারীরা। এই দুজনের তোপের মুখে পড়ে ২ উইকেটে ৯৮ রান থেকে ৬ উইকেটে ১২৬ রানে পরিণত হয় প্রোটিয়া যুবারা।

সপ্তম উইকেটে ২৯ রানের জুটি গড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা অনুর্ধ্ব-১৯ দল। তবে শাওন ও নিহাদুজ্জামানের বোলিং তোপে পড়ে ১৯ রানে শেষ ৪টি উইকেট হারিয়ে ২৯ বল বাকি থাকতেই ৪৫ রানের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে প্রোটিয়ারা।

এর আগে মঙ্গলবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৪৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ দল। একে একে ফিরে যান সাইফ হাসান (১), পিনাক ঘোষ (১৫) ও নাজমুল হোসাইন (১৮)।

তবে এরপর প্রতিরোধ গড়ে তোলেন শফিউল হায়াত হৃদয় ও মেহেদি হাসান মিরাজ। চতুর্থ উইকেট জুটিতে এই দুজন ১৩৮ রানের জুটি গড়লে স্বাগতিকরা বড় স্কোরের ভিত পায়। তবে হৃদয় ৮৩ ও মিরাজ ৫৭ রান করে ফিরে গেলে ছন্দপতন ঘটে বাংলাদেশ যুবদলের। ১৮২ থেকে ২১৯- এই ৩৭ রানের মধ্যে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে ২২ বল বাকি থাকতেই ২১৯ রানে গুটিয়ে যায় ইয়াং টাইগাররা।

বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ৯৬ বলে ৮৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন শফিউল হায়াত হৃদয়। তার ইনিংসে ৫টি চার ও ১টি ছক্কা রয়েছে। অন্যদিকে মেহেদি হাসান মিরাজের ৭৮ বলে ৫৭ রানের ইনিংসটিও সমান ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় সাজানো ছিল।

দক্ষিণ আফ্রিকা অনুর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ডিন ফক্সক্রফট ৩টি ও লেসেগো সেনেওয়ানে ২টি উইকেট নেন। পিটার উইলেম ও আবদু গালিয়েম একটি করে উইকেট লাভ করেন।

জয়ের জন্য ২২০ রানের মাঝারি মানের লক্ষ্যের পেছনে ছুটতে গিয়ে বাংলাদেশের বোলারদের কাছে নাস্তানাবুদ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় দক্ষিণ আফ্রিকা অনুর্ধ্ব-১৯ দলকে। স্বাগতিকদের বিপক্ষে প্রোটিয়াদের এটি টানা তৃতীয় পরাজয়। সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচ হারার পর তৃতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ২ রানে পরাজিত করে প্রোটিয়ারা।

এই জয়ের ফলে সাত ম্যাচে সিরিজে ৫-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল আগের ম্যাচেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করা বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ দল। সিরিজের সপ্তম ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচ আগামী বৃহস্পতিবার একই মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

জেআই