বল হাতে উইকেটশূণ্যই রইলেন মুস্তাফিজুর রহমান।তবে নিজের শেষ ওভারটি বেশ ভালোই বল করলেন বাংলাদেশের এই তরুণ পেস তারকা।সাইড লাইনে বসে তা দেখলেন বাংলাদেশের আরেক তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান।সেখানে বসেই এবারের আইপিএল থেকে নিজ দলের বেদনাবিধুর বিদায় দেখলেন তিনি।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) টি২০ ক্রিকেটের চলতি আসরের ফাইনালের দৌড়ে টিকে রয়েছে মুস্তাফিজের দল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ।বুধবার রাতে (২৫ মে) প্লে-অফ পর্বে এলিমিনেটর ম্যাচে সাকিবের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সকে ২২ রানে হারিয়ে কোয়ালিফায়ার-২ ম্যাচের টিকেট কেটেছে হায়দ্রাবাদ।সেই ম্যাচে মুস্তাফিজদের প্রতিপক্ষ গুজরাট লায়ন্স।সুরেশ রায়নার দলকে সেই রাতে হারাতে পারলেই আসরের ফাইনালে পৌঁছে যাবেন মুস্তাফিজরা।

দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ফিল্ডিং বেছে নিয়েছিলেন কলকাতার অধিনায়ক গৌতম গাম্ভীর।দলটির প্লেয়িং একাদশ এ রাতে হতাশ করেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমী মানুষকে।সঙ্গে হতাশ হয়েছে কলকাতাবাসী কেকেআর ভক্তদেরও একটি বড় অংশ।কেননা, একাদশে ছিলেন না সাকিব আল হাসান।আইপিএলের চলতি আসরের পুরো সময়টাতেই ব্যাটে-বলে অনুজ্জ্বলই ছিলেন সাকিব।হয়তো বা সেই কারণেই তাকে দলে রাখেনি কেকেআর টিম ম্যানেজমেন্ট।যদিও অসমর্থিত সূত্রে সংবাদ এসেছে যে, সাকিব খানিকটা ইনজুরডও ছিলেন।সে যাই হোক, সাকিবহীন কলকাতা বোলিং ইনিংস বেশ ভালোই শুরু করেছিল।

কলকাতার হয়ে এই ম্যাচে প্রথম ওভারটি করেন ইউসুফ পাঠান।দ্বিতীয় ওভারটি করেন দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার মোরনে মর্কেল।ওই ওভারে শেষ বলে প্রথম সাফল্যের মুখ দেখে কলকাতা।মর্কেলের বলে স্ট্যাম্প হারান হায়দ্রাবাদের ওপেনার শেখর ধাওয়ান।দলটির সংগ্রহ তখন ১২ রান।এরপর অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার ও আরেক অস্ট্রেলিয়ান তারকা ময়েস হেনরিকস হায়দ্রাবাদকে বড় সংগ্রহের পথে টেনে নিতে শুরু করেন।তবে দলীয় ৭১ রানে পর পর দুই বলে (১০ ওভারে) তারা দু’জনই সাজঘরে ফেরেন।পরবর্তীতে দলের হাল ধরেন ভারতের তারকা ব্যাটসম্যান যুবরাজ সিং।

মাত্র ৩০ বলে ৪৪ রানের কার্যকরী এক ইনিংস খেলেছেন যুবরাজ।ইনিংসটিতে ছিল ৮ বাউন্ডারি ও একটি ছক্কা।এ ছাড়া ১৩ বলে ২১ রান করেন রান আউটের শিকার হওয়ার দীপক হুদা।শেষ দিকে বিপুল শর্মা ৬ বলে করেন হার না মানা ১৪ রান।সব মিলিয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬২ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ।

কলকাতার পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন কুলদিপ যাদব।এ ছাড়া মর্কেল ও জেসন হোল্ডার ২টি করে উইকেট নেন।

ফিরোজ শাহ কোটলার মাঠ কিন্তু বড় নয়।বাউন্ডারি সীমানা সেখানে তুলনামুলক ছোটই।তাই ১৬২ রানের পুঁজি নিয়ে ওয়ার্নারবাহিনী কলকাতাকে আটকাতে পারবে কীনা, এ নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন হায়দ্রাবাদের ভক্তরা।তবে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের পঞ্চম বলে কলকাতার ওপেনার রবিন উত্থাপাকে আউট করে হায়দ্রাবাদের পেসার বিরেন্দর সরন যেন তাদের ভক্তদের ম্যাসেজ দিয়েছেন, ‘ভয় পাওয়ার কারণ নেই।’

মুস্তাফিজ ম্যাচে উইকেট পাননি।তবে বোলিং কিন্তু খারাপ করেননি তিনি।দলের অন্যান্য বোলাররাও এদিন দারুণ বল করেছেন।ফলে বিপদেই পড়তে হয়েছে কলকাতার ব্যাটসম্যানদের।দলীয় ৬৯ রানেই উত্থাপা, গৌতম গাম্ভীর, কলিন মুনরো ও ইউসুফ পাঠানকে হারিয়ে বসে কলকাতা।প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন দলটির দুই তরুণ ক্রিকেটার মানিশ পান্ডে ও সূর্যকুমার যাদব।তবে সফল হতে পারেননি তারা।পান্ডেকে ভুবনেশ্বর কুমার এবং যাদবকে ময়েস হেনরিকস দেখিয়ে দিয়েছেন সাজঘরের পথটা।

শেষ অব্দি হায়দ্রাবাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের বিপক্ষে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪০ রান তুলতে সক্ষম হয় কলকাতা।পান্ডের ২৮ বলে ৩৬ রানই হয়ে থাকে দলটির ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস।হায়দ্রাবাদের পক্ষে ৩ উইকেট নিয়েছেন ভুবনেশ্বর কুমার।এ ছাড়া হেনরিকস নিয়েছেন ২টি।একটি করে উইকেট পেয়েছেন বিরেন্দর সরন ও বেন কাটিং।

ম্যাচ সেরার পুরস্কারটা উঠেছে ময়েস হেনরিকসের হাতে।

এই ম্যাচ হারায় এবারের মতো আইপিএল শেষ হয়ে গেল কলকাতা নাইট রাইডার্সের।অন্যদিকে, প্রথমবারে মতো এই আসরের শিরোপা জয়ের পথ উন্মুক্ত রইল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের।আগামী ২৭ মে রাত সাড়ে ৮টায় গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে কোয়ালিফায়ার-২ ম্যাচে মুখোমুখি হবে হায়দ্রাবাদ।সেই চ্যালেঞ্জ উতরাতে পারলে ফাইনালে শিরোপাযুদ্ধে তাদের প্রতিপক্ষ বিরাট কোহলি-ক্রিস গেইল-এবি ডি ভিলিয়ার্স-শেন ওয়াটসনদের দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।

এমই