তৃতীয় দিন শেষে ম্যাচের স্কোর বোর্ড জানান দিচ্ছিল, দ্বিতীয় টেস্টেও হারতে যাচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারত তখন শুধু উদযাপনের অপেক্ষায়। কিন্তু চতুর্থদিন বৃষ্টি বাধায় মাত্র ১৫ ওভারের খেলায় ভারতীয়দের উদযাপনের সময় পিছিয়ে যায় আরো একদিন। কিন্তু তখন স্কোর বোর্ডের হিসেবে ৪৮ রানে ৪ উইকেট হারানো ক্যারিবিয়ানদের ম্যাচ ড্রয়ের আশা দেখছিলেন না স্টেডিয়ামে থাকা স্বয়ং ভিভ রিচার্ডসও। কিন্তু টপ অর্ডারদের হারিয়েও পঞ্চমদিনে দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যাটিং করে ক্যারিবিয়ানদের ড্র এনে দিলেন রোস্টন চেইজ।

১৩৭ রানে অপরাজিত থেকে ক্যারিবিয়ানদের ৫০ বছরের এক রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেলেছেন রোস্টন। সেঞ্চুরির আগে অফ স্পিনে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। ফলে একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও ৫ উইকেট শিকারি এমন অলরাউন্ডার পারফর্মার হিসেবে সোবার্সের সঙ্গে নাম লেখালেন তিনি। ১৯৬৬ সালে এই কীর্তি গড়েছিলেন সোবার্স।

প্রথম ইনিংসে ৩০৪ রানে পিছিয়ে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বৃষ্টি বিঘ্নিত চতুর্থ দিনে উড়ে গিয়েছিল দলের টপ অর্ডার। ৪৮ রানেই নেই প্রথম ৪ ব্যাটসম্যান! আবহাওয়া সহায় না হলে ইনিংস পরাজয়ই মনে হচ্ছিল একমাত্র নিয়তি। আবহাওয়ার অনুকম্পা লাগেনি, দলের নিয়তি নিজ ব্যাটেই লিখলেন চেইজ।

আগেরদিন ১৫.৫ ওভারেই ৪ উইকেট হারিয়েছিল যে দল, শেষ দিনে ৮৮ ওভারে হারাল তারা মাত্র ২ উইকেট। ১৩৭ রানের অপরাজিত ইনিংসে দলের ঘুরে দাঁড়ানোয় নেতৃত্ব দিয়েছেন চেইজ। দারুণ দুটি অর্ধশতকে যোগ্য সঙ্গত ধরেছেন শেন ডাওরিচ ও অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ঘুরে দাঁড়ানোর শুরুটা জার্মেইন ব্ল্যাকউডের হাত ধরে। প্রথম ইনিংসের মতোই পাল্টা আক্রমণের পথ বেছে নেন তরুণ ব্যাটসম্যান। ওয়ানডের গতিতে খেলে আউট হন অর্ধশতকের পরপরই (৫৪ বলে ৬৩)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরাজয় তখন মনে হচ্ছিল স্রেফ সময়ের ব্যাপার। লোয়ার-মিডল অর্ডারকে নিয়ে সেখান থেকেই চেইজের প্রতিরোধ। সেটি শুধু মাথা নিচু করে উইকেটে সময় কাটিয়ে নয়, রানও এসেছে দারুণ গতিতে। ষষ্ঠ উইকেটে ডাওরিচ ও চেইজের ১৪৪ রানের জুটিতে ওভারপ্রতি রান এসেছে ৩.৭৭।

অভিজ্ঞ দিনেশ রামদিনকে বাদ দিয়ে দলে নেয়া হয়েছিল ডাওরিচকে। এই ইনিংসে দারুণ ব্যাট করে উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান প্রমাণ করলেন নিজের যোগ্যতা। আম্পায়ার ইয়ান গুল্ডের বাজে সিদ্ধান্তে আউট না হলে হয়ত শতকও করতে পারতেন। অমিত মিশ্রার বল ব্যাটে লাগলেও আম্পায়ার দেন এলবিডব্লিউ, ডাওরিচ ১১৪ বলে ৭৪।

চেইজ তখন ৯৯ রানে দাঁড়িয়ে। খানিকপরই ছুঁয়ে ফেলেন মাইলফলক। তবে পরাজয়ের চোখরাঙানি ছিল তখনও। চেইজ তাই শতক ছুঁয়ে হাল ছাড়েননি লড়াইয়ে। এবার সঙ্গী পান হোল্ডারকে। সপ্তম উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি ১০৩ রানের। তাতে নিশ্চিত হয় যায় ড্র। সেই ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম ড্র দেখল জ্যামাইকার স্যাবাইনা পার্ক।

ডাওরিচের মতো হোল্ডারও ছিলেন বেশ আক্রমণাত্মক। ৯৯ বলে অপরাজিত ৬৪। তবে মূল নায়ক চেইজই। ২৪ বছর বয়সী বারবাডিয়ান অলরাউন্ডার দেখিয়েছেন নিখুঁত ডিফেন্স, খেলছেন দৃষ্টিনন্দন সব শট, প্রমাণ রেখেছেন দারুণ সাহসিকতা ও টেম্পারামেন্টের। প্রায় ৬ ঘণ্টায় ২৬৯ বলে অপরাজিত ১৩৭।

প্রথম টেস্ট আর এই টেস্টের বেশিরভাগ জুড়ে ভারতীয় দাপটে অসহায় ক্যারিবিয়ানরা অবশেষে দেখাল, কিছুটা লড়াই অবশিষ্ট আছে তাদের! তৃতীয় টেস্ট মঙ্গলবার থেকে সেন্ট লুসিয়ায়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ১৯৬ (৫২.৩ ওভার)

ভারত ১ম ইনিংস: ৫০০/৯ (ইনিংস ঘোষণা)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংস: ৩৮৮/৬ (১০৪ ওভার) (ব্র্যাথওয়েইট ২৩, চন্দ্রিকা ১, ব্রাভো ২০, স্যামুয়েলস ০, ব্ল্যাকউড ৬৩, চেইজ ১৩৭*, ডাওরিচ ৭৪, হোল্ডার ৬৪*; ইশান্ত ১/৫৬, শামি ২/৮২, মিশ্র ২/৯০, যাদব ০/৪৪, অশ্বিন ১/১১৪)।

ফল: ম্যাচ ড্র

ম্যান অব দা ম্যাচ: রোস্টন চেইজ

সিরিজ: ৪ ম্যাচ সিরিজে ভারত ১-০ তে এগিয়ে।


এমএনজে