পাকিস্তান সুপার লিগ তথা পিএসএল থেকে চিরতরে নিষিদ্ধ করা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার জেমস ফকনারকে। তিনি চুক্তি নিয়ে মতবিরোধের জের ধরে হোটেলের ঝাড়বাতি ভাঙায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ও অন্যান্য দল।
খবরে বলা হয়, পিএসএল চলাকালীন মাঝপথেই টুর্নামেন্ট ছেড়ে শনিবার দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন জেমস ফকনার। কারণ হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) বিরুদ্ধে চুক্তি অনুযায়ী তাকে অর্থ না দেয়ার অভিযোগ আনেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে এক ফকনারের দল কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের সাথে মিলে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে পিসিবি।
বিবৃতিতে দাবি করা একবার ফকনারকে টাকা দেয়া হলেও, তিনি আবার টাকার দাবি করেন। পিসিবি বিবৃতিতে জানায়, ‘পিএসএলের সাত মরশুমে কোনো খেলোয়াড় পিসিবির বিরুদ্ধে চুক্তি অনুযায়ী টাকা না দেয়ার অভিযোগ আনেননি। একবার তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেয়া হলেও, ফকনার তার অস্ট্রেলিয়ার অ্যাকাউন্টে আবার সমপরিমাণ অর্থ পাঠানোর দাবি করেন। এর ফলে তাকে দুবার অর্থ দিতে হতো। টাকা না পেলে তিনি শুক্রবার মুলতান সুলতানসের বিরুদ্ধে নিজের দলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামতেও অস্বীকার করেন।’
পিসিবির তরফে জানানো হয়, আগেই ফকনারেরে অ্যাজেন্ট মারফৎ যুক্তরাজ্যের এক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নম্বর দেয়া হয়। তবে তার মাসখানেক পর তার এজেন্ট অস্ট্রেলিয়ার অন্য একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নম্বর দেন। এই ব্যবধানে পিসিবির পক্ষ থেকে ফকনারের চুক্তির ৭০ শতাংশ অর্থ আগের অ্যাকাউন্টেই পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। সেই টাকা ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত ফকনারকে পুনরায় টাকা দেয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয় বোর্ডের পক্ষ থেকে। তবে ফকনার অনড় থাকায় শুক্রবার তার সাথে বোর্ড আলোচনায় বসে। তাতে লাভের লাভ কিছুই হয়নি। ফকনার কোনোমতেই মাঠে নামতে তো চানইনি, বরং সত্ত্বর তার দেশ ছাড়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
শনিবার সকালে ফকনার হোটেল ছাড়ার আগে হোটেলের সম্পত্তিরও (ঝাড়বাতি) ক্ষতি করেন জানানো হয়েছে পিসিবির পক্ষ থেকে। ‘শনিবার ফকনার হোটেল ছাড়ার আগে হোটেলের সম্পত্তির ক্ষতি করেন এবং তার জন্য হোটেল ম্যানেজমেন্টকে তার ক্ষতিপূরণও দিতে হয়। পিসিবি পরবর্তীকালে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের তরফে জানতে পারে বিমানবন্দরেও ফকনার খুব খারাপ ব্যবহার (গালিগালাজ) করেন। ফলে পিসিবি আর সমস্ত ফ্রাঞ্চাইজি মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভবিষ্যতে পিএসএলে ফকনারকে আর ড্রাফট করা হবে না।’ বিবৃতিটি পাকিস্তান বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস।
এবিএস





