জিম্বাবুয়ের সাথে ৩ ম্যাচ সিরিজের ২য় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের টার্গেট ২৪১ রান। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে বাংলাদেশের সামনে ২৪১ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।
জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেছেন ওয়েসলি মাধভিরে। বাংলাদেশের পক্ষে পেসার শরিফুল ইসলাম সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন। সাকিব আল হাসান পেয়েছেন ২ উইকেট।
জিম্বাবুয়ে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। এরপরই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে রেগিস চাকাভা, ব্রেন্ডন টেলর, ডিওন মায়ার্সদের ব্যাটে।
এরপর মাধভিরের হাফ সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৪০ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় স্বাগতিকরা জিম্বাবুয়ে।
জিম্বাবুয়ে সিরিজে সমতা ফেরানোর ম্যাচে নিজেদের একাদশে পরিবর্তন আনে। পরিবর্তন দুটি ইনজুরির কারণে। চোট থাকায় এ ম্যাচে খেলা হচ্ছে না রায়ার্ন বার্ল ও টিমসেন মারুমার।
এই ২ জনের জায়গায় একাদশে ঢুকেছেন সিকান্দার রাজা ও তিনাশে কামুনহুকামুই।
এদিকে ১ম ম্যাচের অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই খেলতে নেমেছে তামিমের দল।
টস হেরে প্রথমে ফিল্ডিং করতে নেমে ১ম ওভারেই দলকে উল্লাসে মাতিয়েছেন ডান হাতি পেসার তাসকিন আহমেদ।
তাসকিনের ১ম ওভারের শেষ বলে কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে দাঁড়ানো আফিফ হোসেন ধ্রুবর হাতে ধড়া পড়েছেন ডানহাতি ওপেনার তিনাশে কামুনহুকামুই।
মূল একাদশে জায়গা পাওয়া কামুনহুকামুই আউট হওয়ার আগে ৫ বল খেলে করেছেন মাত্র ১ রান।
তবে সাইফউদ্দিনের করা ৪র্থ ওভারে জোড়া বাউন্ডারিতে ১০ রান তুলে ড্রেসিংরুমে ইতিবাচক বার্তা দেন আগের ম্যাচে দলের পক্ষে একমাত্র হাফসেঞ্চুরিয়ান চাকাভা।
তাসকিনের করা পরের ওভারের ২য় বলে মিড অনে মাহমুদউল্লাহ ও ডিপ থার্ড ম্যানে মারুমানির ক্যাচ ছেড়ে দেন সাইফউদ্দিন।অবশ্য জোড়া জীবন পেয়েও কিছুই করতে পারেননি মারুমানি।
মিরাজ ৬ষ্ঠ ওভারে প্রথমবারের মতো আক্রমণে আসেন। প্রথম ৪ বল খেলেন চাকাভা। ৫ম বলে স্ট্রাইক পেয়েই বড় শটের চেষ্টা করেন মারুমানি। কিন্তু বল তার ব্যাট ও পা হয়ে আঘাত হানে স্ট্যাম্পে। ফলে সমাপ্তি ঘটে ১৮ বলে ১৩ রানের ইনিংসের।
মাত্র ৩৩ রানে জোড়া উইকেট পতনের পর উইকেটে আসেন টেলর। শুরু থেকেই খেলতে থাকেন আত্মবিশ্বাস নিয়ে। বিশেষ করে সাকিবের ওভারে ইনসাইড আউট শটে বাউন্ডারি কিংবা শরিফুল ইসলামের ওভারে ফ্লিক শটে ছক্কা মেরে নিজের কর্তৃত্বেরই জানান দেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক।
টেলরের আধিপত্য বিস্তার করা ব্যাটিংয়ে ৩য় উইকেট জুটিটি এগুচ্ছিল ৫০ রানের দিকে।
তবে ইনিংসের ১৬তম ওভারে নিজের ৪র্থ ওভার করতে এসে সরাসরি বোল্ড করে আগের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের একমাত্র হাফসেঞ্চুরিয়ান চাকাভাকে সাজঘরে পাঠিয়ে দেন সাকিব। ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলিয়ে বল স্ট্যাম্পে আঘাত করান তিনি। আউট হওয়ার আগে ৩২ বলে ২ চারের মারে ২৬ রান করেছেন চাকাভা।
এরপরই প্রতিরোধ গড়ে দাঁড়িয়ে যান ব্রেন্ডন টেলর এবং ডিওন মায়ার্স। টেলর ৪৬ রান করার পর নিজেই নিজের উইকেট ভেঙে দেন। বোলার ছিলেন শরিফুল ইসলাম।
ডিওন মায়ার্সও বিপজ্জনক হয়ে উঠছিলেন। ৫৯ বলে ৩৪ রান করে মায়ার্স আউট হন সাকিব আল হাসানের বলে। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাতে ক্যাচ তুলে দেন মায়ার্স।
হাফ সেঞ্চুরি করার পর খুব বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মাধভিরে। শরিফুল ইসলামের বলে তামিম ইকবালের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান।
সিকান্দার রাজা কিন্তু মাধভিরের সঙ্গে ভালো একটা জুটি গড়েন। ৪৪ বলে তিনি করেন ৩০ রান। লুক জংউই ৮ রান করে আউট হন। তেন্দাই চাতারা ৪ এবং রিচার্ড এনগারাভা অপরাজিত থাকেন ৭ রান করে।
১০ ওভারে ৪৬ রান দিয়ে ক্যারিয়ার সেরা ৪ উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম। ২ উইকেট নেন সাকিব আল হাসান, ১টি করে উইকেট নেন মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন এবেং তাসকিন আহমেদ।
এইচএন





