ব্রাজিলের বিশ্বকাপে মারমার কাটকাট একটি গ্রুপ স্টেজের পর নক-আউট পর্বে এসে দলগুলোকে অনেক সাবধানী দেখিয়েছে। কিন্তু তারপরও উত্তেজনা বা নাটকীয়তার কোন খামতি দেখা যায়নি।
নক-আউট স্টেজে এখন পর্যন্ত মনে রাখার মত বিশেষ মূহুর্তগুলোর মধ্যে পাঁচটি নির্বাচন করেছেন বিবিসির ক্রীড়া বিশ্লেষক স্টিভেন ফোট্রেল।
যে ঘটনাটিকে তিনি এক নম্বরে রেখেছেন তা নিয়ে কেউ বিতর্ক করবে না। তা হলো সেমিফাইনাল থেকে ব্রাজিলের মাথা হেট করা বিদায়।বিশ্বকাপে আনন্দ, উচ্ছ্বাস বা দুঃখের অনেক মুহুর্তের কথা বলা যায়, কিন্তু সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে হেরে ব্রাজিলের প্রস্থান অন্য সব মুহুর্তকে সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে।
ম্যাচ শেষে গ্যালারি ভর্তি ফ্যানদের সামনে হতভম্ব, বিধ্বস্ত ব্রাজিলীয় তারকাদের কান্নার দৃশ্য যারা দেখেছেন, তারা জীবনে তা ভুলবেন না।
এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের যে শক্তি ছিল, তাতে ফ্যানরা যে খুব একটা ভরসা করছিলেন তা নয়, কিন্তু তাদের আশা ছিল, নিজেদের মাটিতে হয়ত তারা ফাইনালে যাবে। কিন্তু বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে জঘন্য এই পরাজয় ফুটবলের ইতিহাসে একটা বিশেষ দুর্ঘটনা হয়ে থেকে যাবে।
দ্বিতীয় স্মরণীয় মুহুর্ত ছিল জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড। ব্রাজিলের সাথে সেমিফাইনালের ঐ ম্যাচে তিনি সেটা গড়েছেন। সেদিনের সাতটি গোলের একটি করেন ক্লোস। ফলে বিশ্বকাপে তার গোল দাঁড়ায় ১৭ যেটা বিশ্বকাপে কোন ফুটবলারের সবচেয়ে বেশি গোল।
তবে সেদিন ব্রাজিলের ৭-১ গোলে পরাজয়ের ঘটনা এতটাই বড় হয়ে পড়েছিল, ক্লোসের সাফল্য ঢাকা পড়ে যায়।
নক-আউট স্টেজে তৃতীয় বড় ঘটনা কোয়ার্টার ফাইনালে কলম্বিয়ার সাথে ম্যাচে নেইমারের জখম এবং বিশ্বকাপ থেকে বিদায়।
কলম্বিয়ার হুয়ান জুনিগার হাঁটুর সাথে ধাক্কা খেয়ে মেরুদণ্ডের একটি হাড়ে চোট খেয়েছিলেন নেইমার। নেইমারের সেই প্রস্থানের সাথেই ব্রাজিলের ভাগ্য সেদিন নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল।
নেইমারের জখমের সাথে শেষ হয় বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ভবিষ্যত
চতুর্থ উল্লেখযোগ্য মুহুর্তটি ছিলো অসামান্য দর্শনীয় একটি গোল। উরুগুয়ের সাথে ম্যাচে গোলটি করেছিলেন কলম্বিয়ার হামেশ রডারিগেজ -- এই বিশ্বকাপের অন্যতম তারকা।
গোল বক্সের বাইরে বুক দিয়ে বলটা থামিয়ে মাটিতে পড়ার আগে একটা মোচড় দিয়ে তীব্র এক শটে যেভাবে তিনি উরুগুয়ের জালে বল ঢুকিয়েছিলেন, সেটাকে অনেক পণ্ডিত এই বিশ্বকাপের সেরা গোল হিসাবে বিবেচনা করছেন।
রডারিগেজ এবারের বিশ্বকাপের সোনার বুটের দাবিদার যদি না মুলার ফাইনালে গোল পেয়ে যান। মোট ছটি গোল করেছেন কলম্বিয়ার এই তরুণ।
স্টিভেন ফোট্রেলের মতে নক-আউট স্টেজে মনে রাখার মত পঞ্চম ঘটনা ছিল কোয়ার্টার ফাইনালে কোস্টারিকার সাথে ম্যাচে পেনাল্টি শুট আউটের ঠিক আগ মুহুর্তে নেদারল্যান্ডসের গোলকিপার বদল।
নিয়মিত গোলকিপার চিলেসেনকে বসিয়ে রিজার্ভ গোলকিপার টিম ক্রুলকে মাঠে নামান নেদারল্যান্ডসের ম্যানেজার ভ্যান হাল।
গোলকিপার বদলির ঘটনা ফুটবলে বিরল। কিন্তু সেই চমক দিয়ে সেদিন উতরে গিয়েছিল নেদারল্যান্ডস।
ঢাকা, ১২ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই





