বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের পর এবার শুরু হচ্ছে কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই। বুধবার শুরু হচ্ছে সেমিফাইনালে ওঠাল এ লড়াই। প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালের দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে এশিয়ান পরাশক্তি শ্রীলঙ্কা। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হবে তাদের ব্যাট বলের লড়াই।
পুল ‘এ’-তে হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করে শেষ পর্যন্ত ৪ জয় ও ২ হারকে সঙ্গী করে ৮ পয়েন্ট নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে শ্রীলংকা। অন্যদিকে পুল ‘বি’-তে জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করে ৪ জয় ও ২ হারকে সঙ্গী করে ৮ পয়েন্ট নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লেখায় দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু পয়েন্ট টেবিলে অবস্থানে হেরফের রয়েছে তাদের। শ্রীলংকা তৃতীয়স্থানে থাকলেও, দক্ষিণ আফ্রিকার অবস্থান ছিলো দ্বিতীয় স্থানে।
শ্রীলংকার সাথে শুধুমাত্র চলতি বিশ্বকাপে অমিল নেই দক্ষিণ আফ্রিকার। অমিল আগের বিশ্বকাপগুলো চোখের পড়ার মত। লংকানরা যেখানে একবার শিরোপা জিতেছে, সেখানে সেমিফাইনালের বেশি এগোতেই পারেনি প্রোটিয়াসরা। তাই দক্ষিণ আফ্রিকার নামের সাথে মিশে গেছে ‘চোকার্স’ শব্দটি।
ঘুরেফিরে চলতি আসরের প্রথম কোয়ার্টারফাইনালের আগেও ‘চোকার্স’ শব্দটি শুনতে হলো দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোকে। তবে এবার সাংবাদিক সম্মেলনে ‘চোকার্স’ শব্দটিকে উহ্য রেখে একটু অন্যরকমভাবে প্রশ্ন করেছেন সাংবাদিকরা।
আর সেই প্রশ্নের উত্তরটা ডোমিঙ্গো দিলেন এভাবে, ‘প্রত্যকবারই এই ইভেন্টে এমন প্রশ্ন শুনতে হয় আমাদের। তবে আমাদের চিন্তা জুড়ে রয়েছে শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে। গেল বছর আমরা কতটা সাফল্য পেয়েছি এবং এটি শ্রীলংকাকে হারানোর জন্য কতটা কাজে লাগানো যায় তাই ভাবছি। চলতি বিশ্বকাপেও এখন পর্যন্ত ভালো খেলেছি। এটি অব্যাহত রেখে সেমিফাইনালে উঠতে চাই।’
দক্ষিণ আফ্রিকার মত কোন বিশেষণ নেই শ্রীলংকা দলের সাথে। কারণ বিশ্বকাপ আসরে শ্রীলংকা সাফল্য চোখে পড়ার মত। একবার শিরোপা জয় করার পাশাপাশি, শেষ দুই আসরেও ফাইনাল খেলেছে লংকানরা। তাই ভালো খেলার অভিজ্ঞতা এবারও অব্যাহত রাখতে চায় দলটি বলে জানালেন কোচ মারভান আতাপাত্তু, ‘গেল কয়েক বছর বিশ্বকাপে আমরা ভালো পারফরমেন্সই করছি। এতে আমাদের নিয়ে ভক্তদের প্রত্যাশা বেড়ে গেছে এবং খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসও অনেক বেশি। তাই অতীতের অভিজ্ঞতা এবারের আসরেও কাজে লাগাতে উদগ্রীব ছেলেরা। আশা করছি সেমির টিকিট নিশ্চিত করতে পারবো আমরা।’
এখন পর্যন্ত ওয়ানডেতে ৫৯বার মুখোমুখি হয়েছে শ্রীলংকা ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এরমধ্যে লংকানরা জিতেছে ২৯বার। আর প্রোটিয়াসরা জয়ের আনন্দ করেছে ২৮ বার। একটি করে ম্যাচ টাই ও পরিত্যক্ত হয়েছে।
শ্রীলংকা দল: অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ (অধিনায়ক), লাহিরু থিরিমান্নে (সহ-অধিনায়ক), দুসমন্ত চামিরা, তিলকারত্নে দিলশান, রঙ্গনা হেরাথ, মাহেলা জয়াবর্ধনে, নুয়ান কুলাসেকারা, সুরঙ্গ লাকমাল, লাসিথ মালিঙ্গা, কুশাল পেরেরা, থিসারা পেরেরা, সেকুজ্জি প্রসন্ন, কুমার সাঙ্গাকারা, সাচিত্রা সেনানায়েকে ও উপুল থারাঙ্গা।
দক্ষিণ আফ্রিকা দল: এবি ডি ভিলিয়ার্স (অধিনায়ক), হাশিম আমলা (সহ-অধিনায়ক), কাইল এ্যাবট, ফারহান বেহারদিয়েন, কুইন্টন ডি কক (উইকেটরক্ষক), জেপি ডুমিনি, ফাফ ডু প্লেসিস, ইমরান তাহির, ডেভিড মিলার, মরনে মরকেল, ওয়েন পারনেল, এ্যারন ফাঙ্গিসো, ভারনন ফিলান্ডার, রিলি রোসৌ ও ডেল স্টেইন।
জেডআই





