আয়ারল্যান্ডের অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড দাবি করেছেন, তার দলের বিশ্বকাপে ওয়েস্টইন্ডিজকে ৪ উইকেটে হারানোর ঘটনাকে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখা উচিৎ। এই ফলাফলকে কোনভাবেই অঘটন বলা যাবেনা বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আরো কয়েকটি অভিজাত দলকে হারানো বাকি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, আয়ারল্যান্ড দলটির মান ওই দলগুলোর সমপর্যায়েই রয়েছে। নেলসনের স্যাক্সন ওভালে অনুষ্ঠিত সোমবারের ম্যাচে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩০৪ রানে আটকে রাখার পর আইরিশ দলটি ২৫ বল হাতে রেখেই ৩০৭ রান সংগ্রহের মাধ্যমে ম্যাচটি সহজভাবে জয়লাভ করে। ছয় মেরে লক্ষ্য অতিক্রম করে তারা।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১২তম র‌্যাংকধারী আয়ারল্যান্ডকে জুনিয়র সদস্য হিসেবে বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। অপরদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ হচ্ছে টেস্ট খেলুড়ে দল। যারা আইসিসির ১০ টি পূর্ণ সদস্য দেশের একটি। ফলে নিয়ম অনুযায়ী পুর্ণ সদস্যের অভিজাত দলগুলিই আয়ারল্যান্ডের মত অপেক্ষাকৃত দুর্বল দেশগুলোর বিপক্ষে ছড়ি ঘোরানোর কথা। কিন্তু পোর্টারফিল্ডের মতে ওয়েস্টইন্ডিজের বিপক্ষে সহজে জয় করা ম্যাচটি কোনভাবেই অঘটন নয়।

তিনি বলেন, এটিকে আমি অঘটন হিসেবে দেখছিনা। আমরা এই টুর্ণামেন্টে আসার আগে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা পরের ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছি।

ওয়েস্টইন্ডিজের বিপক্ষে এই জয় বি’ গ্রুপ থেকে পরের রাউন্ডে যাবার ক্ষেত্রে আইরিশদের অবস্থান আরো সংহত হয়েছে।

ওয়েস্টইন্ডিজ ছাড়া এই গ্রুপে অন্য সিনিয়র দলগুলোর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও পাকিস্তান। এখন আইরিশ দলটির পরের রাউন্ডে যাবার বিষয়টি নির্ভর করছে আইসিসির আরেক পুর্ন সদস্য দেশ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের ফলাফল কেমন হবে সেটির ওপর। পোর্টারফিল্ড বলেন, অপেক্ষকৃত ছোট দলগুলোকে সহযোগি সদস্য করে রাখার কারণে তারা বেশী হতাশ হচ্ছে। আমি জানিনা কিছু কিছু দলকে পূর্ণ সদস্য এবং কিছু কিছু দলকে সহযোগী সদস্য করে রাখার কারণ।

দলগুলোর অবস্থানের কারণে র‌্যাংক প্রথার প্রবর্তন রয়েছে। অন্য খেলাগুলোতেও এটি আছে। তবে আমাদের এই খেলার ক্ষেত্রে আলাদা ভাবে এটি করার কোন কারণ আমি দেখছিনা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচে সাবলির ব্যাটিং করেছে আয়ারল্যান্ডের টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানরা। পল স্টারলিং ৯২, এডওয়ার্ড জয়সে ৮৪ এবং নেইল ও’ব্রায়ান ৭৯ রান সংগ্রহ করেন।

২০১১ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে এবং এরও চার বছর আগে পাকিস্তানকে হারানোর কারণে আয়ারল্যান্ড এখন জায়ান্ট কিলার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তবে বিশ্বকাপের মত বড় আসরগুলো ছাড়া পূর্ণ সদস্য রাস্ট্রগুলোর সঙ্গে খেলার সুযোগ তারা খুব একটা পায়না। যার মাধ্যমে তাদের এই খেলাটি আরো উন্নতি লাভ করতে পারে।

গত বিশ্বকাপের পর আয়ারল্যান্ড পুর্ন সদস্যের দেশগুলোর সঙ্গে মাত্র ৯টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছে, যেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুধুমাত্র গত এক বছরে খেলেছে ২১টি ম্যাচ।

জেআই