অন্য দেশের ক্রিকেটারদের নিয়ম-কানুন লঙ্ঘনের কারণে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করা হলেও ভারতীয় ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির নিয়ম ঠিক উল্টো।

তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার কথা বললে তা প্রত্যাখ্যান করে কর্তৃপক্ষ। এমনকি ‘পারফম্যান্সগত দুর্বলতা’ দেখিয়ে অভিযোগ তোলা অফিসিয়ালদের অবসরেও বাধ্য করা হয়।

বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়ার আগে আইসিসি ও সংস্থাটির ভারত বিষয়ক নীতি নিয়ে এ বিস্ফোরক কথা বলে গিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার আম্পায়ার ড্যারেল হার্পার।

২০১১ সালে ভারতের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সিরিজ শেষে অবসরে যাওয়া হার্পার আইসিসিকে সমালোচনার শূলে চড়িয়ে বলেন, ‘দায়িত্ব পালনে যখন আমাকে বিবেচনা করতে হয় কোন দল খেলছে এবং একেক দলের জন্য একেক নিয়ম প্রয়োগ করতে হয়, তখন খেলা তার মান ও মূল্য হারায়’।

ওই সিরিজে আম্পায়ারিং নিয়ে ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির সমালোচনায় ক্ষুব্ধ হয়ে হার্পার বলেন, ‘আইসিসির কর্মকর্তার সমালোচনার পরও তার কোনো শাস্তি হয়নি।

আমি আইসিসির ম্যানেজেমেন্টের জবাব বা পদক্ষেপের অপেক্ষায় ছিলাম এবং আমি এখনো অপেক্ষায়! কোনো জবাব দেওয়া হলো না...না কোনো সহযোগিতা না কোনো পদক্ষেপ।

আইসিসির ‘এলিট প্যানেল অব আম্পায়ার’স সদস্য হার্পার বলেন, ‘যদি এমনটা ম্যাচ চলাকালে হতো, তাহলে আমি অ্যাকশনে যেতাম।

কিন্তু খেলা শেষে আমি আইসিসির দিকে তাকিয়েছিলাম,কিন্তু কোন পদক্ষেপ নিতে দেখিনি আইসিসির পক্ষ থেকে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অন্য দলের খেলোয়াড়দের যেভাবে দেখা হয়, তার চেয়ে আলাদাভাবে দেখা হয় ভারতীয় খেলোয়াড়দের।
অবশ্য, ভারতের খেলায় ‘বাজে আম্পায়ারিং’র বলি কেবল হার্পারই হননি। অস্ট্রেলিয়া-ভারত সিরিজ শেষে আরেক খ্যাতিমান আম্পায়ার স্টিভ বাকনরকেও বলি হতে হয় ভারতেরই অভিযোগের প্রেক্ষিতে।

হার্পারের এ বিক্ষুব্ধ বক্তব্যের খবরটি অস্ট্রেলীয় একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছিল।

সূত্র: টেলিগ্রাফ

এসএম