এই যে দুটি বড় বড় শিরোপা হাতছাড়া হয়ে যাওয়া, তাতে কী চাকরি হুমকির মুখে পড়ে গেলো কার্লো আনচেলত্তির? ম্যানসিটির কাছে পরাজয়ের পর এই প্রশ্ন উঠেছে খোদ আনচেলত্তির সামনেই। যদিও রিয়ালের এই ইতালিয়ান কোচ দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছেন, সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও তার চাকরি হুমকির মুখে পড়েনি।

ইত্তিহাদ স্টেডিয়ামে বার্নার্ডো সিলভার জোড়া গোল, ম্যানুয়েল আকাঞ্জি এবং হুলিয়ান আলভারেজের গোলে ৪-০ ব্যবধানে পরাজয় বরণ করে রিয়াল। এই পরাজয়ের কারণে আগামী মৌসুমে চাকরিতে বহাল থাকতে পারবেন কি না? এমন প্রশ্ন ওঠাটাকেই অস্বাভাবিক হিসেবে চিহ্নিত করলেন আনচেলত্তি।

তিনি বলেন, ‘কারো কোনো সন্দেহ নেই। কারণ, প্রেসিডেন্ট (ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ) দুই সপ্তাহ আগেই আমাকে এ বিষয়টা ক্লিয়ার করে দিয়েছেন। সুতরাং, আমার চাকরি যে হুমকির মুখে নেই, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’

গত ৬ মে ওসাসুনাকে হারিয়ে কোপা ডেল রে শিরোপা জয় করে রিয়াল মাদ্রিদ। ওই জয়ের পর মিডিয়ার মুখোমুখি হয়ে ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ বলেছিলেন, ‘আমি আনচেলত্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আর কোনো কথা শুনতে চাই না। তার সঙ্গে আমাদের একটা চুক্তি রয়েছে। আমরা এই চুক্তির বিষয়ে খুবই পজিটিভ এবং খুশি।’

তবে আনচেলত্তির দুই অন্যতম সেরা শিষ্য লুকা মদ্রিচ এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়র কিছুটা শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, আগামী মৌসুমে রিয়ালের কোচ হবেন কে? মদ্রিচ বলেন, ‘বস তার কোচিং ক্যারিয়ার রিয়ালের সঙ্গে চালিয়ে যাবেন আশা করি। তিনি এর দাবি রাখেন। আমার এতে কোনো সন্দেহ নেই। দ্বিতীয়বার তিনি যখন মাদ্রিদে এলেন, সবগুলো ট্রফিই জয় করলেন এখানে। গত বছরটা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপ পর্যন্ত আমরা সঠিক পথেই ছিলাম। সবকিছুর জন্যই লড়াই করেছি। কিন্তু অনাকাঙ্খিতভাবে কিছু পরাজয় আমাদেরকে পেছনে ঠেলে দিয়েছে। যা আমাদের প্রত্যাশার বাইরে ছিল।’

ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘অবশ্যই ওনার এই দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়া উচিৎ। হয়তো আজ একটি কঠিন দিন গেছে। কিন্তু আমাদেরকে এই ম্যাচ থেকে অনেক কিছু শিখতে হবে। যাতে করে আগামী মৌসুমে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয় আমাদের।’

২০২১-২২ সালে মাদ্রিদে ফিরে আসার পর আনচেলত্তি একটি লা লিগা শিরোপা, দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় করেছেন। সে সঙ্গে স্প্যানিশ সুপারকোপা, কোপা ডেল রে, উয়েফা সুপার কাপ এবং ক্লাব বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করেছেন।

এবি