পাকিস্তান-ভারত রাজনৈতিক চিরশত্রু হওয়ায় যে কোনো ইস্যুতেই একে অন্যকে দোষারোপ করে থাকে।

ঘটনাটি ২০০৯ সালের ৩ মার্চ। পাকিস্তানের ক্রিকেট তথা দেশটির রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে একটা কালো অধ্যায়।

কারন ওই দিন লাহোরে সফররত শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট দলের টিম বাসে হামলা চালায় ১২ জন বন্দুকধারী।

এতে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের ৬ জন সদস্য তখন আহত হন। পাশাপাশি পাকিস্তানের পুলিশ বাহিনীর ৬ সদস্য ও ২ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হন।

দিনটি ছিল ২য় টেস্টের ৩য় দিনের খেলা। ওই হামলার পর প্রায় এক যুগ পাকিস্তানে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়নি।

সম্প্রতি বেশ কিছু দল দেশটিতে সফরে গেলেও নিউজিল্যান্ড সিরিজ নিয়ে ফের সমস্যা তৈরী হয়েছে।

ফলে নতুন করে সরব হয়েছে পাক মিডিয়া পাড়া। উঠে আসছে ফেলে আসা দিনের ঘটনাবলী।

আর এরই ধারাবাহিকতায় লাহোর হামলার ১২ বছর পর পাকিস্তানের পত্রিকা দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল দাবি করছে, ওই হামলাটা ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা 'র' -এর এজেন্টরা করিয়েছিল।

পত্রিকাটি এই তথ্য পেয়েছে পাকিস্তানের সিআইডির একটি তদন্ত প্রতিবেদন থেকে। ঘটনা ঘটার ৪০ দিন আগে ২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারি তারিখে ওই প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল সিআইডি। যাতে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে তথ্য ছিল।

সিআইডির জমা দেওয়া সেই প্রতিবেদনের ফাইলের গায়ে লেখা ছিল- সিক্রেট/ ইমিডিয়েট। বিষয়ের ঘরে লেখা ছিল 'সোর্স রিপোর্ট।'

রিপোর্টের ভেতরে 'বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে' লেখা আছে, পাকিস্তানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা তাদের এজেন্টদের নির্দেশ দিয়েছে।

যাতে করে শ্রীলঙ্কা দলের বাস হোটেল-স্টেডিয়ামের রাস্তায় থাকার সময়ে কিংবা শ্রীলঙ্কা দল হোটেলে থাকার সময়ে হামলা চালানো হয়।

পত্রিকাটি বলেছে, সিআইডির প্রতিবেদন যে নীতি নির্ধারকেরা উপেক্ষা করেছিলেন, তাদের কোনো শাস্তি হয়নি।

তবে সিআইডির প্রতিবেদন দেখে একেবারেই যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি তা কিন্তু নয়।

প্রতিবেদন দাখিলের দিনই সেটি ওই সময়ের পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে জানানো হয়। তার নির্দেশ অনুযায়ীই পাঞ্জাবের আইজিপি, লাহোরের কমিশনার, লাহোরের সিসিপিও, প্রধান সচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন নোট পাঠানো হয়।

যাতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ ছিল। পরদিন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সভায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা গ্রহণ করা হয়।

পাঞ্জাবের সিসিপিও পারভেজ রাঠোরও একাধিকবার সাইট পরিদর্শন করছিলেন বলে লিখেছে দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল।

তবে এত কিছুর পরও হামলার কারণ হিসেবে রাজনৈতিক ইস্যুকেই দায়ী করেছে পাকিস্তানের এই পত্রিকাটি।

এইচএন