এই মুহূর্তে ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে অজনপ্রিয় মুখ সম্ভবত তিনি। খোদ ভারতীয় গ্যালারিতেও দুয়ো ওঠে তার নামে। সেই নারায়ণস্বামী শ্রীনিবাসনকে আইসিসির মসনদ ছেড়ে দিতে হচ্ছে এক বছরের মাথায়।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রভাবশালী এক কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে, শ্রীনিকে সরিয়ে চেয়ারম্যান পদে বসতে যাচ্ছেন বর্তমান বোর্ড সভাপতি শশাঙ্ক মনোহর।

আইপিএলে স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে ফেঁসে গিয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস। দুই বছরের নিষেধাজ্ঞাও জুটেছে এই দলের। শ্রীনিবাসনের মালিকানাধীন এই দলের এমন কাণ্ড কীর্তি এবং স্পট ফিক্সিংয়ের সঙ্গে তাঁর জামাতার সরাসরি সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়ার পর থেকেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন তিনি।

এরপর থেকেই শ্রীনিকে নিয়ে উত্তপ্ত ভারতীয় ক্রিকেট রাজনীতি। এখন শ্রীনিকে আইসিসি থেকেও সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বিসিসিআই।

ভারতীয় বোর্ডের এক কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘জগমোহন ডালমিয়ার মৃত্যুর পর বিসিসিআইয়ে অনেক পরিবর্তন এসেছে।

অনুরাগ ঠাকুর এবং সভাপতি মনোহর ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে গেছেন। আইসিসিতে শ্রীনিবাসন বিসিসিআইয়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন—এতে দুজনের কেউই খুশি নন।’

কেবল এই ইস্যুটিই নয়, ঝামেলা বেধেছে আগামী বছর ভারতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ নিয়েও। শ্রীনি তাঁর প্রভাব খাটিয়ে নাকি নিজের ইচ্ছেমতো ভেন্যু বাছাই করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভারতীয় বোর্ড তা মানতে যাবে কেন? এ নিয়ে লেগে গেছে দুই পক্ষের।

ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু নিয়ে আইসিসির চেয়ারম্যান এবং বিসিসিআইয়ের মধ্যে মতের মিল হচ্ছে না। শ্রীনিবাসন ২০১৪ সালে দুই বছরের জন্য আইসিসির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন, কিন্তু আইসিসিতে বোর্ডের প্রতিনিধিত্ব কে করবে, এটা তো বোর্ডের সিদ্ধান্ত।

মনোহরকে যদি বোর্ডের সবাই মনোনীত করেন, তবে তিনিই ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত আইসিসির চেয়ারম্যান হতে যাচ্ছেন। আর আইসিসি থেকে শ্রীনিবাসন একবার সরে গেলেই ভারতীয় ক্রিকেটেও তাঁর প্রভাব কমে যাবে।’

সব মিলিয়ে ওই কর্মকর্তার ধারণা, ভারতে শ্রীনির যুগ শেষ হতে চলেছে। তবে আপাতত কোণঠাসা শ্রীনি যে আবারও ছক পাল্টে লাগাম ফিরে পাবেন না, সেটাও বা কে বলতে পারে? সেই কর্মকর্তার উপসংহার, ‘শ্রীনিবাসনের যুগ শেষ হতে চলেছে বটে, তবে ভারতীয় ক্রিকেটে রং পালটাতে সময় লাগে না।’

এমআর