শিরোপা ধরে রাখার মিশন নিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে এসেছিল ভারত। এ জন্য সম্ভাব্য সব কিছুই করেছিল। নিজেদের পছন্দের মাঠ, পছন্দের পিচ, গ্যালারি ভর্তি দর্শক। সবই নিজেদের দখলে রেখেছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তাদের। সেমি-ফাইনালে ৯৫ রানের বড় ব্যবধানে হেরে বিদায় নিতে হল। তাদেরকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া।
বৃহস্পতিবার সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩২৪ রান সংগ্রহ করেছে টস জয়ী অস্ট্রেলিয়া। জবাবে ৪৬.৫ ওভারে ২৩৩ রান সংগ্রহ করতেই ইনিংস গুটিয়ে যায় ভারতের।
এর ফলে ২৯ তারিখ অল-ওশেনিয়া ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। শিরোপা নির্ধারিত ম্যাচটিতে ওশেরিয়ার দুই স্বাগতিক দল নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া মুখোমুখি হবে।
কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের বিপক্ষে আম্পায়ারদের বাজে সিদ্ধান্তে বেশ সুবিধা পেয়েছিল ভারত। কিন্তু সেমিতে তাদের ভাগ্যটা ততটা সু-প্রসন্ন হয়নি। যদিও ক্যাচ মিস করে ভারতকে অনেক সুযোগ দিয়েছিল অসিরা।
সেই সুযোগে শুরুতে জীবন পেয়ে দ্রুত রানের চাকা ঘুরাতে শুরু করে ভারতের উদ্বোধনী জুটির শিখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মা। কিন্তু বেশি বাড়তে দেয়নি অসি বোলাররা। হ্যাজেলউড বিদায় করে দেন ৪১ বলে ৪৫ রান করা ধাওয়ানকে। ক্যাচ ধরেন ম্যাক্সওয়েল।
ক্রিজে এসে ১৩ বলে মাত্র ১ রান করে বিদায় নিছেন কোহলি। জনসনের বলে হ্যাডিনের তালুবন্দী হন তিনি।
রাহানের সঙ্গে হাল ধরার চেষ্টা করলেও ১১ বলে ৭ রান করে ফকনারের শিকারে পরিণত হয়েছেন রায়না। এবারও ক্যাচ ধরেন হ্যাডিন।
স্টার্কের বলে হ্যাডিনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন রাহানে। কিন্তু আম্পায়ার তাকে আউট দেয়নি। অবশেষ রিভিউ নেয় অস্ট্রেলিয়া। সেখানে আউট নিশ্চিত হওয়ায় ক্ষমা চেয়ে আউট দিতে বাধ্য হন আম্পায়ার। মাঠ ছাড়ার আগে ৬৮ বলে ৪৪ রান করেন রাহানে।
এরপর একমাত্র ভরসার পাত্র ধোনি ৬৫ বলে ৬৫ রান করে ম্যাক্সওয়েলের হাতে অবিশ্বাস্য রান আউট হন। বাকিরা মাঠে আসা যাওয়া ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি।
অস্ট্রেলিয়ার বোলার ফকনার মোট তিনটি উইকেট পান। দুটি করে উইকেট নেন স্টার্ক ও জনসন।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ ওভারে উমেশ যাদবের প্রথম বলে বিরাট কোহলির তালুবন্দী হন ডেভিড ওয়ার্নার। ৭ বলে মাত্র ১২ রান করেই বিদায় নিলেন তিনি।
দ্বিতীয় জুটিতে অ্যারোন ফিঞ্চ ও স্টিভ স্মিথের সৃদৃঢ় ব্যাটিংয়ে উইকেট খরায় ভোগে ভারত। রিভিউ নিয়েও তাদের কপালে উইকেট জোটেনি। বিপরীতে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন স্মিথ।
অবশেষে ৩৫তম ওভারে উমেশ যাদবের প্রথম বলে ছক্কায় হাঁকাতে গিয়ে বিদায় নেন তিনি। এতে ভেঙে যায় তাদের ১৮২ রানের জুটি। রোহিত শর্মার হাতে ক্যাচ তুলে দেয়ার আগে ৯৩ বলে ১১টি চার ও ২টি ছক্কায় ১০৫ রান করেন তিনি।
ক্রিজে এসে চার দিয়ে রানের খাতা খোলেন ম্যাক্সওয়েল। কিন্তু বেশি দূরে এগুতে পারেননি। ১৪ বলে ২৩ রান করে অশ্বিনের বলে রাহানের হাতে ক্যাচ আউট হন।
দলের রানের খাতায় এক রান যোগ হতে ফিঞ্চও বিদায় নেন। যাদবের বলে ক্যাচ ধরেন ধাওয়ান। মাঠ ছাড়ার আগে ১১৬ বলে ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় ৮১ রান করেন তিনি।
১০ রান করে মুহিত শর্মার বলে ক্লার্ক আউট হলে চাপে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ওয়াটসনের সঙ্গে যোগ দেন ফকনার। ১২ বলে ২১ রান করা ফকনার বিদায় নিলে তাদের ৩৬ রানের জুটি ভেঙে যায়।
দলের রানের চাকা ঘুরাতে থাকেন ওয়াটসন। তবে মুহিতের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে রোহিত শর্মার তালুবন্দী হন ৩০ বলে ২৮ রান করা এই তারকা। শেষ দিকে জনসনের ব্যাটে রান ৩২০ ছুঁয়ে যায়।
ভারতের বোলার উমেশ যাদব চারটি ও মুহিত শর্মা দুটি উইকেট পান।
জেডআই





