আত্মবিশ্বাস নিয়ে ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নতুন অভিযান শুরু হচ্ছে আজ। যদিও এর আগে ঘরোয়া ক্রিকেট শুরু হয়েছির। তবে এ বছর আন্তর্জাতিক মঞ্চে আজই প্রথমবারের মতো প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচটি খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে বিকেল ৩টায় শুরু হবে। সরাসরি সম্প্রচার করবে গাজী টিভি।
সাফল্যমণ্ডিত বছর শেষ করে নতুন বছরে বাংলাদেশ কী করতে পারবে তা হানড্রেড মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন? আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশ কি পারবে গত বছরের সাফল্য ধরে রাখতে?
অধিনায়ক মাশরাফি বলিষ্ঠ কণ্ঠে বললেন,‘আমরা আমাদের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারব। যেভাবে গত বছর করে এসেছি, এ বছরও সেটা করতে পারব।’

জয়ের চিন্তা থাকলেও ঘুরেফিরে বাংলাদেশের চিন্তায় রয়েছে এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের ভাবনা। দুই বড় টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে বাংলাদেশ এ সিরিজে কম্বিনেশন ঠিক করতে দৃঢ় প্রত্যয়ী। কোচের পর মাশরাফির কথাতেও তার আভাস পাওয়া গেল,‘যেকোনো খেলায় জয়টাই প্রাধান্য পাবে আগে।
এর সঙ্গে এই ফরম্যাটে অনেক কিছু আছে আমাদের দেখার। কিছু জায়গায় আমার চেষ্টা করছি কম্বিনেশনটা ঠিক রেখে কিছু করার। জয়ই প্রথমে প্রাধান্য পাবে। সেই সঙ্গে অবশ্যই ওই জিনিসগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
ধারাবাহিকভাবে জয়ের মধ্যে থাকা বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষাকৃত দুর্বল আর হারের বৃত্তে থাকা জিম্বাবুয়ে। তবে দলটিকে হালকাভাবে দেখছেন না মাশরাফিরা।
গত সফরে হ্যামিলটন মাসাকাজদা ছিলেন না। এবার আছেন। তাকে নিয়ে বাড়তি ভাবতেই হচ্ছে টিম বাংলাদেশকে। তবে শেষপর্যন্ত বাংলাদেশই এগিয়ে থাকবে।
নিজেদের মাটি, স্বাগতিক দর্শক, চিরচেনা কন্ডিশন, পারফরম্যান্স, সবই বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখছে। এ অনুপ্রেরণায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামছে মাশরাফি অ্যান্ড কোং।
বাংলাদেশ যতটা নির্ভার হয়ে আছে, জিম্বাবুয়ে শিবিরে তার উল্টো চিত্র। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ হেরে আসা দলটি কীভাবে নিজেদের মেলে ধরবে, সেই চিন্তায় উদ্বিগ্ন।
জিম্বাবুয়ের চ্যালেঞ্জটা জয়ের ধারায় ফেরার। আর তারা সেই চ্যালেঞ্জটা নিতে এসেছে বলে জানিয়েছেন জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট দলের কোচ ও অধিনায়ক।
অধিনায়ক চিগাম্বুরার ভাষ্য,‘আমরা খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, এটা ঠিক। তবে আমাদের কী করতে হবে, সে সম্পর্কে আমরা অবগত। আমরা সেরা ক্রিকেটই খেলতে চাই। সেটা খেলার জন্যে এখানে এসেছি।
প্রক্রিয়াগুলো ঠিকমতো সম্পাদন করতে পারলে নির্দিষ্ট দিনে আমরা যেকোনো দলকেই হারাতে পারি। আমারা এবার সঠিক পথেই আছি। আশা করছি, ছেলেরা এ চ্যালেঞ্জ নিতে পারবে।’
ওয়ানডেতে সপ্তম স্থানে থাকা বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ে বেশ পিছিয়ে। টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান আফগানিস্তানেরও পরে- দশম। অবশ্য জিম্বাবুয়ের অবস্থান বাংলাদেশ থেকেও পেছনে। তারা আছে ১৪ নম্বরে।
দুই দলের মধ্যে মুখোমুখি লড়াইয়ে প্রেরণা পাচ্ছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছে পাঁচবার। এর মধ্যে তিনবারই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আর দুই বার জিতেছে জিম্বাবুয়ে।
অনুপ্রেরণার আরো একটি বিষয় আছে টাইগারদের সামনে, সেটা হলো- শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম।
২০০৬ সালে এই মাঠেই নিজেদের প্রথম টি-টোয়েন্টি খেলেছিল বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে। সেবার জয় দিয়ে টি-টোয়েন্টি যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। এবারও কি একই পথে হাঁটছে টাইগাররা?
বাংলাদেশের ক্রিকেটের সুসময় যাচ্ছে এখন। ২০১৫ সালটি স্বপ্নের মতো কাটিয়েছে টাইগাররা। টানা সিরিজ জিতেছে ঘরের মাঠে।
এবার সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ টাইগারদের সামনে। এশিয়া কাপ আর বিশ্বকাপের আগে যে ধারাবাহিকতা অনেকটা এগিয়ে রাখতে পারে বাংলাদেশকে।
বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ :
১. তামিম ইকবাল, ২. সৌম্য সরকার, ৩. মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, ৪. মুশফিকুর রহিম, ৫. সাকিব আল হাসান, ৬. সাব্বির রহমান, ৭. নুরুল হাসান সোহান (উইকেট রক্ষক), ৮. মাশরাফি মোর্তজা (অধিনায়ক), ৯. আরাফাত সানী, ১০. মুস্তাফিজুর রহমান ও ১১. আল-আমিন হোসেন।
জিম্বাবুয়ের সম্ভাব্য একাদশ :
১. চামু চিবাবা, ২. হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, ৩. রিচমন্ড মুতুম্বামি (উইকেটরক্ষক), ৪. শন উইলিয়ামস, ৫. ম্যালকম ওয়ালার, ৬. সিকান্দার রাজা, ৭. এল্টন চিগুম্বুরা, ৮. লুক জংওয়ে, ৯. গ্রায়েম ক্রেমার, ১০. তেন্দাই চিসোরো ও ১১. নেভিল মাদজিভা।
এমকে





