আইসিসি ২০১৫ বিশ্বকাপে অবশেষে জয়ের মুখ দেখল পাকিস্তান। রোববার ব্রিসবেনের গাবায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অনেক কষ্টে ২০ রানের ব্যবধানে জিতেছে মিজবাহ উল হকরা।
বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানে হেরে তীব্র সমালোচনার শিকার হয় পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা। বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়ার দ্বারপ্রান্তে চলে যায় ১৯৯২ বিশ্বকাপ জয়ীরা।
এদিনও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজেদের বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ব্যাটিং ব্যর্থতায় সমর্থকদেরকে হতাশ করেছিল পাকিস্তান। নির্ধারিত ৫০ ওভারে সাত উইকেটের বিনিময় ২৩৫ রান সংগ্রহ করে তারা।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে শুরু থেকে নিয়ন্ত্রিত খেলা শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত জিততে পারেনি। পাক বোলারদের তোপে ৪৯.৪ ওভারে ২১৫ রান সংগ্রহ করতেই ইনিংস গুটিয়ে যায় তাদের।
পাক বোলার মোহাম্মদ ইরফানের বোলিং তোপে দ্রুতই মাঠ থেকে বিদায় নেন জিম্বাবুয়ের উদ্বোধনী জুটির চিভাভা (৯) ও সিকান্দার রাজা (৮)। উভয়ই হারিস সোহাইলের হাতে ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফিরে যান।
তৃতীয় জুটিতে দলকে ৫২ রান এনে দিয়ে প্রাথমিক চাপ সামাল দেন ওয়ানডাউনে মাঠে নামা হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও ব্রেন্ডন টেইলর। ৫৪ বলে চারটি চারে ২৯ রান করে মোহাম্মদ ইরফানের শিকার হন মাসাকাদজা। এবার ক্যাচ ধরেন মিজবাহ।
শেন উইলিয়ামসকে সঙ্গে নিয়ে দলের রানের চাকা সচল রাখেন টেইলর। হাফ-সেঞ্চুরি করে টেইলর ক্যাচ আউট হলে ভেঙে যায় তাদের ৫৪ রানের জুটি। ৭২ বলে ছয়টি চারে ৫০ রান করেন এই ব্যাটসম্যান।
১৪ রান করে উইলিয়ামস সাজঘরে ফিরলে ১৫০ রানে ৫ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।
দলীয় ১৬৬ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারানোর পর দুই রান সংগ্রহ করতে আরো দুটি উইকেট হারায় আফ্রিকান দলটি।
জয়ের স্বপ্ন ঝাপসা হয়ে আসা জিম্বাবুয়ের হাল ধরেন চিগুম্বুরা। পানিয়ানগারাকে সঙ্গে নিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত চিগুম্বুরা ৩৫ রান করে বিদায় নেন তিনি।
পাকিস্তানের বোলার মোহাম্মদ ইরফান ও ওয়াহাব রিয়াজ সর্বোচ্চ চারটি উইকেট শিকার করেন।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি পাকিস্তান। দলীয় ৪ রানের মধ্যেই ২ উইকেট হারায় পাকরা। সিকান্দার রেজার বলে আউট হয়েছেন নাসির জামশেদ (১ রান)। আর ব্যক্তিগত শূন্য রানে চাতারার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন আহমেদ শেহজাদ।
শুরুতে দুই উইকেট হারানো পাকিস্তানের হাল ধরেন অধিনায়ক মিসবাহ উল হক। তৃতীয় উইকেটে হারিস সোহাইলের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলীয় স্কোরে যোগ করেছেন ৫৪ রান। সিকান্দার রাজার বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন সোহাইল (২৭ রান)। আর চতুর্থ উইকেটে মিসবাহকে সঙ্গ দিয়েছেন উমর আকমল। এই জুটিতে এসেছে ৬৯ রান। সেন উইলিয়ামসের বলে আউট হয়েছেন উমর (৩৩ রান)।
সুবিধা করতে পারেননি সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি। রানার খাতা খোলার আগে দলকে আরও বিপদে ফেলে উইলিয়ামসের দ্বিতীয় শিকার হয়েছেন তিনি।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ স্কোর করেন মিজবাহ উল হক। সপ্তম উইকেটে মাঠ ছাড়ার আগে ১২১ বলে তিন চারে ৭৩ রান করেন তিনি।
শেষ দিকে ব্যাট করতে নেমে ৪৬ বলে ৫৪ রান করে অপরাজিত থাকেন ওয়াব রিয়াজ। তার সঙ্গে ৬ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন সোহাইল খান।
১০ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে তিন উইকেট শিকারী চাতারা জিম্বাবুয়ের সেরা বোলার।
জেডআই





