প্রথম ইনিংসে রক্ষণাত্মকভাবে খেলতেগিয়ে দ্রুত উইকেট হারাতে হয়েছে বাংলাদেশকে। তাই তো দ্বিতীয় ইনিংসেপরিকল্পনায় পরিবর্তন এনেছে টিম ম্যানেজম্যান্ট। যার যার মতো স্বাভাবিকখেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে খেলোয়াড়দের, টিম ম্যানেজম্যান্ট থেকে। আর তাই তোখুলনা টেস্টের চতুর্থ দিন (শুক্রবার) রেকর্ডের বন্যা বয়ে গেছে শেখ আবুনাসের স্টেডিয়ামে। চতুর্থ দিনশেষে নিজেদের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেনবাংলাদেশ টেস্ট দলের সহ-অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

প্রথমেই তিনি শুরুকরেছেন কোচের কথা দিয়ে। তামিম বলেছেন, ‘স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩০০ রান চেজকরার আগে কোচ খুব সুন্দর কথা বলেছিলেন। স্কোর বোর্ডের দিকে তাকিয়ে লাভ নেই।কারণ স্কোর বোর্ডের রান চাপ ছাড়া অন্য কিছু সৃষ্টি করতে পারবে না।’

নিজেদের পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘দুই ভাবে ব্যাটিং করাযেত। আমরা যদি ১৫০ ওভার খেলার লক্ষ্য ঠিক করতাম; ওরা শেষ পর্যন্ত আমাদেরকেআউট করে দিত। উইকেট পড়তে থাকলে আমরা এমনিতেই মানসিকভাবে ভেঙ্গে যেতাম।কিন্তু আমরা ভিন্নভাবে চিন্তা করেছি। আক্রমণই হচ্ছে সেরা প্রতিরোধ। আমরাশুরু থেকেই আক্রমণ করেছি। আমরা জানতাম, যে বলে ৬ মেরেছি ওই বলে আউট হতেপারতাম। আবার যেই বলে রিভার্স সুইপে আমি চার মেরেছি তাতেও আউট হতে পারতাম।’

তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘আমরা শুরু থেকেই চিন্তা করেছি আক্রমণ করতে হবে; ওরা(পাকিস্তান) যদি ভাল বল করা শুরু করে তাহলেই কোনো না কোনো ভাবে আমাদেরউইকেট নিয়ে নেবে। ওদেরকে থিতু হতে দেওয়া যাবে না। আমরা আমাদের পরিকল্পনায়সফল হয়েছি।’

নিজেদের রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন রেকর্ড জুটিতে অপরাজিত আছেন তামিম ও ইমরুল। এছাড়া এ নিয়ে টানা ৩ টেস্টে সেঞ্চুরি পেয়েছেন তামিম। কেমন লাগছে তার? উত্তরে তামিম বলেছেন, ‘খুবই ভাল লাগে এমন অর্জনে। গর্ব অনুভব হয়। আশা করব, যে ফর্মটা চলছে তা ধরে রাখার। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

দিনের পুরোটা সময় যখন ব্যাটিং করেছিলেন, ২ জনের মধ্যে কেমন কথা-বার্তাহয়েছে? এমন প্রশ্নে তামিম বলেছেন, ‘সত্যি কথা বলতে আমি এবং ইমরুল কখনো কথাবলিনি। আমরা চেষ্টা করেছি নিজেদের মতো করে ব্যাটিং করার। টেস্ট ক্রিকেট এমনএকটা জায়গা যেখানে সারাদিন ব্যাটিং করেও লাভ নেই; যদি শেষ করা না যায়। ওরা (পাকিস্তান) প্রথম ইনিংসে খুব সুন্দর জায়গায় বোলিং করেছে। আমরা কিন্তুভালই প্রতিরোধ গড়েছিলাম। । শেষ পর্যন্ত ওরা (পাকিস্তান) কিন্তু আমাদেরউইকেটগুলো তুলে নিয়েছে। আমি আমার মতো খেলছিলাম; ইমরুল ইমরুলের মতো খেলছিল।নিজের খেলা থেকে বের হয়ে গেলে এই ম্যাচটা বের করা খুব কঠিন হতো।’

হাফিজকে খুব স্বাভাবিকভাবে খেললেন; তাকে নিয়ে কোনো পরিকল্পনা ছিল কিনা? এপ্রশ্নে তামিম বলেছেন, ‘বিশেষ কিছু না। ও (হাফিজ) বাঁ হাতিদের বিপক্ষেবিপজ্জনক। বিশ্ব ক্রিকেটে টপ অর্ডারে এমন কোনো বাঁহাতি ব্যাটসম্যান নেইযাকে ও (হাফিজ) আউট করেনি। যদি আমি ডিফেন্স করতে থাকি, ও (হাফিজ) আমাকে আউটকরার একটা পথ বের করে নেবে। আমি যদি দুটা চার মারি, একটা ছক্কা মারি তাহলেও(হাফিজ) বিভ্রান্ত হবে। এমন পরিকল্পনা করাতেই সাফল্য পেয়েছি।’

জেআই