চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিন তাঁর হাত ধরেই প্রথম উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনেও ব্যতিক্রম হয়নি। বাঁহাতি স্পিনারের হাত ধরে দ্বিতীয় দিনেও প্রথম সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ।

দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়ার লক্ষ্যে দ্বিতীয় দিন শুরু করে বাংলাদেশ। সাফল্য পেতে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। দিনের শুরুতেই আসগর আফগানকে মুশফিকের হাতে ক্যাচ বানিয়ে ফিরিয়ে দেন তাইজুল। আফগানদের হয়ে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া হলো না তাঁর। সেঞ্চুরির দুয়ার থেকে ৮ রান দূরে থাকতেই সাজঘরে ফিরে যান আসগর। ৯২ রানে আউট হন তিনি। ১৭৪ বলের ইনিংসটিতে ছিল তিনটি বাউন্ডারি ও দুটি ছ্ক্কা।

আসগরের পর জাজাইকেও টিকতে দেননি তাইজুল। পাঁচ ওভার বাদে জাজাইকে সরাসরি বোল্ড করেন বাঁহাতি এই স্পিনার। ফেরার আগে ৪১ রান করেন জাজাই।

এ রিপোর্ট লেখার সময় ৭ উইকেটের আফগানিস্তানের সংগ্রহ ২৯৯ রান। উইকেটে আছেন কায়েস আহমেদ ও রশিদ খান।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম দিনে টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নামা বাংলাদেশ শুরুতে বেশ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছে। আফগানিস্তানকে বিপদে ফেলতে একটু ব্যতিক্রমী বোলিং আক্রমণ সাজান অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। প্রথম চার ওভারে তিনজন স্পিনার ব্যবহার করেন তিনি। তাতে সাফল্যও আসে। আফগানদের দলীয় ১৯ রানের মাথায় তাইজুলের হাত ধরে আসে প্রথম সাফল্য। বাঁহাতি স্পিনারের দারুণ এক বলে ইহসানউল্লাহকে ব্যক্তিগত ৯ রানে বোল্ড করে নিজের শততম টেস্ট উইকেট তুলে নেন তিনি। এর মাধ্যমে টেস্টে ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে দ্রুততম উইকেট সেঞ্চুরি করেন এই বাঁহাতি স্পিনার।

দ্বিতীয় ঘণ্টায়ও আফগান শিবিরে আঘাত হানেন তাইজুল। ওপেনার ইব্রাহিম জাদরানকে (২১) লংঅফে মাহমুদউল্লাহর হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন তিনি। লাঞ্চের আগমুহূর্তে বৈচিত্র্যের জন্য মাহমুদউল্লাহকে আক্রমণে আনেন সাকিব। বল হাতে এসেই বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দেন এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। তুলে নেন আফগানদের তৃতীয় উইকেট।

তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া আফগানদের হাল ধরেন রহমত শাহ। তুলে নেন টেস্ট ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি। এর আগে ভারতের বিপক্ষে অভিষেক টেস্ট ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেও পঞ্চাশ ছাড়ানো দুটি ইনিংস খেলেছিলেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। দ্বিতীয় সেশনে আসগরকে নিয়ে দারুণ সময় পার করেন তিনি।

তরুণ স্পিনার নাঈম হাসান তৃতীয় সেশনের শুরুতে জোড়া আঘাত হানলে বাংলাদেশ কিছুটা সময়ের জন্য ম্যাচে ফিরেছিল। তবে ষষ্ঠ উইকেটে দারুণ দৃঢ়তা দেখান আসগর ও আফসার জাজাই জুটি। দুজনে মিলে ৭৪ রানের জুটি গড়ে শুধু দলের বিপর্যয়ই এড়াননি বড় সংগ্রহের পথ দেখান। দিন শেষে আসগর ৮৮ ও আফসার ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন।

বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে সাফল্য পান তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসান। তাইজুল ৩১ ওভারে ৭৩ রান দিয়ে দুই উইকেট পান। নাঈম ১৩ ওভারে ৪৩ রান খরচায় দুই উইকেট তুলে নেন। এক উইকেট পান মাহমুদউল্লাহ।

এমআর