দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ৫ উইকেটে পরাজিত করে তিন ম্যাচের সিরিজটি এক ম্যাচ বাকি থাকতেই নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
মঙ্গলবার বার্বাডোসের কেনসিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জো বাটলারের ক্যারিয়ার সেরা ৬৭ রানের উপর ভর করে সফরকারী ইংল্যান্ড ৭ উইকেটে ১৫২ রান সংগ্রহ করে। ক্যারিবীয় তারকা স্পিনার সুনীল নারিনের স্থানে দলে সুযোগ পাওয়া বাঁহাতি সীমার ক্রিশমার সানতোকির দূর্দান্ত বোলিংয়ের মাধ্যমে ২১ রানে ৪ উইকেট দখল করে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন।
১৫৩ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৫ ওভারে দুই উইকেটে ১১১ রান সংগ্রহ করার পরে মাত্র পাঁচ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারায়। তবে অধিনায়ক ড্যারেন স্যামির ৯ বলে করা অপরাজিত ৩০ রানের ইনিংসে সাত বল বাকি থাকতে ৫ উইকেটে ১৫৫ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা। একই ভেন্যুতে বৃহস্পতিবার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে শুরু হওয়া টোয়েন্টি২০ বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখতে শেষ ম্যাচেও জয় দিয়ে পুরো আত্মবিশ্বাসী হয়েই ওয়েস্ট ইন্ডিজ মাঠে নামতে চায়।
ইনজুরির কারণে দলের নিয়মিত অধিনায়ক ও মূল স্ট্রাইক বোলার স্টুয়ার্ট ব্রডের অনুপস্থিতিতে ইংল্যান্ড গতকালকের ম্যাচে কখনই নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি। বিশেষ করে ব্যাট হাতে শুরুটা ভাল না হওয়ায় এবং পরবর্তীতে ফিল্ডিংয়েও নিজেদের বেশ কয়েকটি ভুলের মাশুলই ম্যাচ শেষে তাদের গুনতে হয়েছে। এ সম্পর্কে ইংল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক এউইন মরগ্যান বলেছেন, আমি মনে করি কাল আমাদের ১৫-২০ রান কম সংগৃহীত হয়েছিল। তারপরেও আমরা যথেষ্ঠ লড়াই করেছি যা বিশ্বকাপের আগে দলকে অনুপ্রেরণা দিবে।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া ইংলিশ অধিনায়ক ব্রডকে ভাল সূচনা এনে দিতে পারেনি ব্যাটসম্যানরা। পঞ্চম ওভারে মাত্র ২৬ রানে তিন উইকেট হারানো ইংলিশদের হাল ধরেন বাটলার এবং এ্যালেক্স হলস। এই জুটি চতুর্থ উইকেটে ৭৬ রান যোগ না করলে সফরকারীদের ইনিংস হয়ত আরো আগেই শেষ হয়ে যেত। উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান বাটলার ৪৩ বলে তিনটি ওভার বাউন্ডারি এবং পাঁচটি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন। অন্যদিকে হলসের ব্যাট থেকে এসেছে ৪০ রান। এর মাঝে বৃষ্টির কারণে কিছুক্ষন খেলা বন্ধ ছিল। তবে পুনরায় খেলা শুরু হবার পরে সানতোকি তার বৈচিত্রপূর্ণ বোলিংয়ের মাধ্যমে নিজের শেষ দুই ওভারে ইংল্যান্ডকে আর দাঁড়াতেই দেয়নি। এ সম্পর্কে ২৯ বছর বয়সী জ্যামাইকান এই পেসার বলেছেন, আমি শুধুমাত্র পেসের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করেছি। যখনই আমি খেলার সুযোগ পাই তখনই নিজের মূল দায়িত্বের প্রতি অটল থাকি এবং বোলিংয়ে উন্নতি করতে চেষ্টা করি।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ডুয়াইন স্মিথ (৩০) এবং ক্রিস গেইল (৩৬) মিলে দারুন এক শুরু করেছিলেন। যদিও কেউই ইনিংসের শেষ পর্যন্ত নিজেদের টেনে নিয়ে যেতে পারেননি কিন্তু তাদের স্কোরিং রেট পরবর্তী ব্যাটসম্যানদের কাজ সম্পন্ন করতে সহজ করেছে। ১৭তম ওভারে পরপর দুই বলে টিম ব্রেসনান মারলন স্যামুয়েলস এবং আন্দ্রে রাসেলকে সাজঘরে পাঠিয়ে ম্যাচের চেহারা পাল্টে দিয়েছিল। কিন্তু ডুয়াইন ব্র্যাভোকে সাথে নিয়ে স্যামী ইংল্যান্ডের সুযোগ নষ্ট করে দেন। আর এই জুটির উপর ভর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের উপলক্ষ পায়।