দীর্ঘ লড়াইয়ের পর বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে প্রথমবারের মতো সেমি-ফাইনাল পার করা নিউজিল্যান্ড। রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টায় মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শুরু হবে তাদের শিরোপা জয়ের মহারণ।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর এই প্রথম এশিয়ার কোনো দল বাদে ফাইনাল ম্যাচ দেখবে ক্রিকেট বিশ্ব। অল-ওশেনিয়া ফাইনাল ম্যাচে উভয় দলই এবারের বিশ্বকাপের আয়োজক। তবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। আর এ নিয়ে সপ্তমবার ফাইনাল খেলতে যাচ্ছে তারা। বিপরীতে এটিই প্রথম ফাইনাল ব্লাক ক্যাপসদের।
তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে দুই দলের মধ্যে নিউজিল্যান্ড এগিয়ে আছে। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত একম্যাচেও হারেনি তারা। গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে এই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই জিতেছিল তারা।
তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার দেয়া ১৫২ রান তাড়া করতে ঘাম ঝড়েছিল ম্যাককালামদের। অনেক কষ্টে মাত্র এক উইকেটে জিতেছিল তারা।
সেমিফাইনালের বাধা পার হতেও অনেক কষ্ট করতে হয়েছিল। নিজেদের মাঠ ওই অকল্যান্ডে ইলিয়টের ছক্কায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারাতে পেরেছিল তারা। ৪০ বছরের ক্রিকেট ইতিহাসে রাগবি পাগল জাতিটি প্রথমবারের মত এখন দাঁড়িয়ে আছে শিরোপা থেকে মাত্র এক ম্যাচের দূরত্বে।
নিউজিল্যান্ডের যতই আশা ভরসা থাকুক না কেন এই ম্যাচে ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নামবে ওডিআই ক্রিকেটের বিশ্ব র্যাংকিংয়ের শীর্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়া। বাড়তি সুবিধা হিসেবে তাদের রয়েছে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের (এমসিজি) সুবিধা। ঐতিহাসিক এই মাঠে নিউজিল্যান্ড সর্বশেষ ওডিআই ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিল ৬ বছর আগে ২০০৯ সালে।
অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক বলেছেন যে এমসিজির কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিউইদের বেশ বেগ পেতে হবে। কারণ চলতি আসরে বিগত ৮ ম্যাচের সবগুলো ম্যাচই তারা খেলেছে তাসমান সাগর তীরবর্তী নিজ দেশের ভেন্যুতে।
ক্লার্ক বলেন,‘নিউজিল্যান্ড তাদের যে সব ভেন্যুগুলোতে খেলেছে, সে তুলনায় এখানকার কন্ডিশনের মধ্যে বিশাল ফারাক রয়েছে।'
রোববার ফাইনাল ম্যাচে কিউই একাদশে যে দলটি খেলবে তাদের মধ্যে অন্তত চারজন খেলোয়াড়ের এর আগে এমসিজিতে খেলার কোন অভিজ্ঞতা নেই। এরা হলেন ব্যাটসম্যান উইলিয়ামসন ও কোরি এন্ডারসন এবং ফাস্ট বোলার ট্রেন্ট বোল্ট ও ম্যাট হ্যানরি। যদিও ৯০ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন বিশাল স্টেডিয়ামের দর্শকদের সামনে নিজেদের মানিয়ে নিতে খুব একটা বেগ পেতে হবে না কিউইদের। কারণ সেখানে সর্বশেষ ৫ ম্যাচের তিনটিতেই অসিদের হারিয়ে দেবার অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে নিউজিল্যান্ডের। ছয় বছর আগে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ও জয়লাভ করেছিল নিউজিল্যান্ড।
এদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অপরাজিত ২৩৭ রান সংগ্রহ করে বিশ্ব রেকর্ড গড়া কিউই ব্যাটসম্যান গাপটিল এখন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীরর আসন থেকে মাত্র ১০ রান দূরত্বে অপেক্ষা করছেন। বর্তমানে ৫৪১ রানের সংগ্রহ নিয়ে আসনটি দখল করে রেখেছেন লংকান ব্যাটসম্যান কুমার সাঙ্গাকারা।
আসর থেকে ২১ উইকেট তুলে নিয়ে এখনো পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর আসনে অবস্থান করছেন বাঁহাতি কিউই বোলার ট্রেন্ট বোল্ট। তার চেয়ে এক উইকেটে পিছিয়ে আছেন অস্ট্রেলিয় পেসার মিশেল স্টার্ক। এছাড়া সমান সংখ্যক ১৫ টি করে উইকেট সংগ্রহ করেছেন সিমার টিম সাউদি ও স্পিনার ড্যানিয়েল ভেট্টোরি।
রোববারের ফাইনাল ম্যাচের পর সম্ভবত আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানতে যাচ্ছেন ৩৬ বছর বয়সী কিউই অল রাউন্ডার ড্যানিয়েল ভেট্টোরি। এ কারণে বড় জয় পাইয়ে দেয়ার জন্য দলকে উজ্জিবীত করে রাখবেন তিনি।
এই ম্যাচে অসি দলের জন্য যে বিষয়টি বেশী গুরুত্বপূর্ণ, তা হল তাদের বিশ্রামে ঘটতি। সেমি ফাইনাল খেলার পর ফাইনালের প্রস্তুতির জন্য মাত্র দু'দিন হাতে পেয়েছে টিম অস্ট্রেলিয়া।
তবে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী অসি অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক বলেন, "আমাদের এটি নিশ্চিত করতে হবে যে আমরা নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পূর্ণভাবে প্রস্তত। এখন আমাদের লক্ষ্যস্থির বিষয়ে যদি আচরণের কোন পরিবর্তন না ঘটে, তাহলে এই আত্মবিশ্বাস আছে যে আমরা বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করতে পারব।"
অস্ট্রেলিয়া দল:
মাইকেল ক্লার্ক (অধিনায়ক), জর্জ বেইলি, প্যাট কামিন্স, জেভিয়ার দোহার্তি, জেমস ফকনার, অ্যারন ফিঞ্চ, ব্র্যাড হাডিন, জস হ্যাজেলউড, মিচেল জনসন, মিচেল মার্শ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, স্টিভ স্মিথ, মিচেল স্টার্ক, ডেভিড ওয়ার্নার ও শেন ওয়াটসন।
নিউজিল্যান্ড দল :
ব্রেন্ডন ম্যাককালাম (অধিনায়ক), কোরি অ্যান্ডারসন, ট্রেন্ট বোল্ট, গ্রান্ট ইলিয়ট, মার্টিন গাপটিল, টম লাথাম, মিচেল ম্যাকক্লেনাঘান, নাথান ম্যাককালাম, কাইল মিলস, লুক রঞ্চি, টিম সাউদি, রস টেইলর, ড্যানিয়েল ভেট্টরি ও কেন উইলিয়ামসন।
জেডআই





