বাংলাদেশের ফুটবলকে চাঙ্গা করতে আর মাত্র একটি জয় প্রয়োজন । সেই কাজটি করতে পারলে ১৬ বছর পর সাফ ফুটবলের ফাইনালে উঠে যাবে লাল সবুজ জার্সিধারীরা।

আগামীকাল মালেতে রাউন্ড রবিন লিগের শেষ ম্যাচে নেপালের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ড্র নয়, এই ম্যাচে জয় পেলেই ফাইনালের টিকিট পাবে বাংলাদেশ। আর তাতে অবসান হবে ১৬ বছরের অপেক্ষা।

২০০৫ সালে সর্বশেষ সাফের ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। এরপর বেশিরভাগ সময়ই বাংলাদেশ বিদায় নিয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকে।

এবারই প্রথম সাফ ফুটবল অনুষ্ঠিত হচ্ছে কোন গ্রুপ ছাড়া। ৫ দলের অংশগ্রহণে হচ্ছে রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতি।

ইতোমধ্যে ৩ ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে বাংলাদেশের। একটি করে জয়, ড্র ও হার। সব মিলিয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় ৪র্থ স্থানে দলটি।

৩ ম্যাচে দুই জয় ও এক হারে ৬ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে স্বাগতিক মালদ্বীপ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা নেপালের পয়েন্টও ৬। গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় দ্বিতীয় স্থানে দলটি।

৩ ম্যাচে এক জয় ও দুই ড্রয়ে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে ভারতের অবস্থান তৃতীয়। চার ম্যাচে এক পয়েন্ট অর্জন করা শ্রীলঙ্কা বিদায় নিয়েছে আগেই।

লিগ পদ্ধতিতে চলমান এই টুর্নামেন্টে ফাইনালে উঠবে পয়েন্ট তালিকায় থাকা শীর্ষে দুটি দল। সেই হিসেবে বেশ এগিয়ে মালদ্বীপ ও নেপাল।

কারণ নিজেদের শেষ ম্যাচে ড্র করলেই ফাইনালে উঠবে এই দুই দল। কিন্তু হেরে গেলে সমীকরণ বদলাবে। সেই সুযোগটাই নিতে মরিয়া বাংলাদেশ।

নেপালকে হারাতে পারলেই কোন হিসেব ছাড়াই ফাইনালে উঠবে জামাল বিগ্রেড।

অপর ম্যাচে মালদ্বীপের মুখোমুখি হবে ৭ বারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। এই ম্যাচে মালদ্বীপ ড্র করলেই ফাইনালে যাবে।

তবে ভারতের বেলায় সমীকরণটা বাংলাদেশের মতো। তাদেরও ফাইনাল নিশ্চিত করতে হলে জয় দরকার, ড্র করলেও বিদায় নিতে হবে সুনীল ছেত্রীদের।

হেড টু হেডে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকছে। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে নেপালের চেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ।

এখন পর্যন্ত দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ২২বার। এর মধ্যে ১৩বার জয় বাংলাদেশের। ৭ হার ও দুটিতে ড্র।

তবে শেষের ৫ লড়াইয়ে বাংলাদেশের সমীকরণটা বড্ড বিবর্ণ। হেরেছে তিন ম্যাচ। একটি করে ড্র ও জয়। শেষ জয় গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে, ২-০ ব্যবধানে।

গত মার্চে নেপালে অনুষ্ঠেয় ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ স্বাগতিকদের কাছে হেরে রানার্স আপ হয়েছিল।

আজ মঙ্গলবার ( ১২ অক্টোবর) ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে আগের প্রসঙ্গগুলো উঠে আসছিল বারবার।

অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া এ নিয়ে বলেন, ‘আগে কি হয়েছিল সেটা আর মনে করতে চাই না। আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই।’

সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে জামালদের সামনে বাধা নেপাল। হিমালয় কন্যাদের হারাতে পারলে বাংলাদেশ ১৬ বছর পর ফাইনাল খেলবে।

অধিনায়ক জামাল ভূইয়া আশা দেখালেন দেশবাসীকে, ‘আমাদের এই দলটা ভালো। লিগের সেরা খেলোয়াড়রা এই দলে রয়েছে। আমরা ইতিহাস তৈরি করতে পারি।’

ফাইনাল খেলতে হলে প্রয়োজন গোলের। বাংলাদেশের সমস্যা স্কোরিং। কাঙ্ক্ষিত গোল কে করবে এই বিষয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘গোলের সংকট বা স্কোরিং নিয়ে সমস্যা এটা মিডিয়ার কথা।

আমি কোনো সংকট দেখি না। ১১ জনের মধ্যে যে কেউ গোল করতে পারে। বাংলাদেশ দলের হয়ে যে কেউ গোল করলেই হয়।’ সমর্থকদের কাছে বাড়তি সমর্থন চেয়েছেন অধিনায়ক, ‘মালদ্বীপে আমরা অনেক সমর্থন পাচ্ছি।

আশা করি আগামী ম্যাচেও এর ধারাবাহিকতা থাকবে। মালদ্বীপ ম্যাচ খুব কম টিকিট পেয়েছিল বাংলাদেশিরা। এই ম্যাচে অনেকে আসবে ,সবাই সমর্থন দেবে।’

এদিকে বাংলাদেশের ম্যাচ নিয়ে মালেতে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের মধ্যে বিরাজ করছে উত্তেজনা।

গতকাল টিকিটের জন্য দিনভর লাইনে ছিল অনেকে। মালদ্বীপ ম্যাচে বাংলাদেশি প্রবাসীরা মাত্র আড়াইশ টিকিট পেয়েছিল।

নেপাল ম্যাচে পাচ্ছে আড়াই হাজার। টিকিটের লাইন লম্বা থাকলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

বাংলাদেশের বহু আকাক্ষা ও প্রতীক্ষার ফাইনালে নাম লেখানোর পথে এখন বাধা হিমালয়ের দেশ নেপাল।

এইচএন