ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দুই গোলে রিয়াল মাদ্রিদ তাদের ট্রেবল জয়ের স্বপ্নের পথে আরো একধাপ এগিয়ে গেছে। কাল ঘরের মাঠ সানতিয়াগো বার্নাব্যুতে তারা ওসাসুনাকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে লা লিগায় নিজেদের জয়ের ধারা ধরে রেখেছে।
বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় রোনালদো ম্যাচের শুরুতেই গোলের খাতা খোলার পরে বিরতির ঠিক পরে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। কিছুক্ষণ পরেই সার্জিও রামোস দলের পক্ষে তৃতীয় গোল করেন এবং ম্যাচ শেষের সাত মিনিট আগে ডানি কারভালের হেড গোলের ঠিকানা খুঁজে পেলে মাদ্রিদ বড় জয় পায়। এই জয়ে রিয়াল পূর্ণ তিন পয়েন্ট সংগ্রহ করে টেবিলের শীর্ষে থাকা অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের থেকে তিন পয়েন্ট পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। হাতে রয়েছে চারটি ম্যাচ।
আগামী মঙ্গলবার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লীগের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগ খেলতে জার্মানি যাবে রিয়াল। প্রথম লেগে ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা রিয়াল ১২ বছরের মধ্যে প্রথম ফাইনালের স্বপ্নে এখন বিভোর। আর তাই লীগে তাদের এই বড় জয় বায়ার্নের জন্য সতর্কবার্তাই বটে।
হাঁটু এবং হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে প্রায় এক মাসের বিরতির পরে রোনালদো লীগে মূল একাদশে খেলতে নেমেছিলেন। বুধবার বায়ার্নের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ের ম্যাচ থেকে ছয়টি পরিবর্তন করে কোচ কার্লো আনচেলত্তি দল সাজিয়েছিলেন। জ্বরের কারনে কালও দলে ছিলেন না গ্যারেথ বেল।
এ ছাড়া জাবি আলোনসো, পেপে এবং করিম বেনজেমা প্রত্যেকোই বিশ্রামে ছিলেন। যদিও আগেরদিন আনচেলত্তি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন রোনালদো, বেল এবং বেনজেমা তিনজনই মূল একাদশে খেলবেন। তিনি বলেছিলেন, যদি তারা ফিট থাকে তবে সবাই মাঠে নামবে। আমাদের স্কোর বাড়াতে হবে এবং যত দ্রুত আমরা সেটা করতে পারবো ততই ভালো। কিন্তু ম্যাচের আগে থেকেই বেল জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে এবং গত দুইদিন সে খুবই দূর্বল অনুভব করছে। এ কারণেই আমরা তাকে দলের বাইরে রেখেছি।
বামদিক থেকে বল পেয়ে গোল এরিয়ার মধ্যে ঢুকে জোড়ালো শটে ওসাসুনার গোলরক্ষক আন্দ্রেস ফার্নান্দেজকে পরাস্ত করতে খুব একটা সময় নেয়নি রিয়াল। মাত্র ছয় মিনিটের মধ্যে এগিয়ে গিয়ে রিয়াল নিজেদের দূরন্ত করে তোলে। এরপর রামোস এবং রোনালদো মিলে ওসাসুনার রক্ষণভাগ তছনছ করে দেয়। রোনালদোর ফ্রি-কিক থেকে রামোসের ভলি প্রায় কোনরকমে রক্ষা করেন ফার্নান্দেজ।
বিরতির ঠিক আগে মার্সেলো এবং লুকা মোদ্রিকের দুটি লো শট বেশ ভালই রক্ষা করেন সফরকারী গোলরক্ষক। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর পরপরই এমিলিয়ানো আরমেনটেরোসের ভলি অল্পের জন্য গোলপোস্টের বাইরে দিয়ে চলে গেলে ওসাসুনার সমতায় ফেরা হয়নি। উল্টো ৫২ মিনিটে নিজের প্রথম গোলের মতই প্রায় একইভাবে টপ কর্নার দিয়ে বলে জালে জড়িয়ে রোনালদো লীগে নিজের ৪৭তম গোল পূর্ণ করেন।
৬০ মিনিটে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার সুইং ক্রস থেকে হেডের সাহায্যে রামোস শেষ পর্যন্ত স্কোরশিটে নিজের নাম উঠাতে সমর্থ হন। এই গোলের পরপরই বায়ার্নের বিপক্ষে ম্যাচের কথা বিবেচনা করে রোনালদো, মোদ্রিক এবং ডি মারিয়াকে উঠিয়ে নেন আনচেলত্তি। ৮৩ মিনিটে ইসকোর ক্রস থেকে হেডের সাহায্যে রিয়ালের পক্ষে চতুর্থ গোলটি করেন বদলি খেলোয়াড় কারভাল। সূত্র: বিএসএস
[b]ঢাকা, ২৭ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি) //এমএ[/b]