মুম্বাই টেস্টে ইনিংস পরাজয়টাও এড়াতে পারল না ইংল্যান্ড। সিরিজের চতুর্থ এই টেস্ট ইনিংস ও ৩৬ রানে জিতে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ নিশ্চিত করল বিরাট কোহলির ভারত।
চতুর্থ দিনেই জয়ের সুবাস পেয়ে গিয়েছিল ভারত। আজ শেষ দিনে ইনিংস পরাজয় এড়াতে ৪ উইকেট হাতে রেখে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ৪৯ রান। ইংলিশরা যাকে নিয়ে ইনিংস পরাজয় এড়ানোর স্বপ্ন দেখছিল, সেই জনি বেয়ারস্টো ফিরলেন দিনের তৃতীয় ওভারেই।
৫০ রান নিয়ে দিন শুরু করা বেয়ারস্টো রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে এলবিডব্লিউ। আগের দিন দুটি রিভিউ নিয়েই বেঁচে গেলেও এদিন আর রক্ষা হয়নি।
নিজের পরের ওভারে এসে দারুণ এক ডেলিভারিতে ক্রিস ওকসকে বোল্ড করে ম্যাচে ১০ উইকেট পূর্ণ করেন অশ্বিন। পরের ওভারে এসে আবার উইকেট, এবার তার বলে লোকেশ রাহুলকে ক্যাচ দিয়ে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফিরলেন আদিল রশিদ।
নিজের টানা তৃতীয় ওভারেও উইকেট পেলেন অশ্বিন। তার বলে জেমস অ্যান্ডারসন মিড অনে উমেশ যাদবের হাতে ক্যাচ দিতেই ম্যাচ শেষ। শেষ দিনে ইংল্যান্ড টিকল মোটে ৮ ওভার! দুই ইনিংসেই ৬ উইকেট করে ম্যাচে ১২ উইকেট অশ্বিনের।
ভারতের জয়ে তুলির শেষ আঁচরটা অশ্বিন দিলে ইনিংস জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন মূলত বিরাট কোহলি ও জয়ন্ত যাদব। কোহলির ২৩৫ আর নয়ে নেমে জয়ন্তর ১০৪ রানের সুবাদে ভারত পেয়েছিল ২৩১ রানের লিড। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে সেটিই টপকাতে পারল না ইংল্যান্ড।
প্রথম ইনিংসে ৪০০ করেই ইনিংস ব্যবধানে হারের ক্ষত কি সহজেই শুকাবে কুক-রুটদের? ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে যে এই প্রথম প্রথম ইনিংসে ৪০০ করেও হারল কোনো দল! সব মিলিয়ে প্রথম ইনিংসে ৪০০ করে ইনিংস হারের তৃতীয় ঘটনা এটি। এর মধ্যে দুটিই ইংল্যান্ডের, একটি শ্রীলঙ্কার।
অন্যদিকে টানা ১৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়ল কোহলির ভারত। এর আগেও একবার ১৭ ম্যাচ অপরাজিত ছিল ভারত, ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৭ সালের মধ্যে।
পাশপাশি ভারতীয়রা জিতল টানা পঞ্চম সিরিজ, এমনটাও নিজেদের ইতিহাসে মাত্র একবারই করতে পেরেছে তারা, ২০০৮ থেকে ২০১০ সালে টানা ৫টি টেস্ট সিরিজ জিতেছিল ভারত।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস: ৪০০
ভারত প্রথম ইনিংস: ৬৩১ (কোহলি ২৩৫, বিজয় ১৩৬, জয়ন্ত ১০৪; রশিদ ৪/১৯২, রুট ২/৩১, মঈন ২/১৭৪)
ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংস: ১৯৫/৬ (রুট ৭৭, বেয়ারস্টো ৫১*, কুক ১৮, অশ্বিন ৬/৫৫, জাদেজা ২/৬৩, ভুবনেশ্বর ১/১১, জয়ন্ত ১/৩৯)।
ফল: ভারত ইনিংস ও ৩৬ রানে জয়ী।
সিরিজ: পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ভারত ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে।
এমএনজে





