ইউসুফ পাঠানের ২৯ বলে ৬০ রানের বিধ্বংসী ইনিংসের উপর ভর করে স্বরণীয় জয় পেল গম্ভীরের কলকাতা নাইটরাইডার্স।
টি-টোয়েন্টি ক্যাপ্টেন্সি কাকে বলে। বিরাট কোহালি যে বিরাট কোহালি, বোলিং চেঞ্জের দক্ষতায় তাঁকে পর্যন্ত চুপচাপ রেখে গেলেন।

সতেরো ওভার পর্যন্ত একবারের জন্যও মনে হয়নি ম্যাচটা আরসিবির জেতার কোনও সম্ভাবনা আছে বলে। বিরাট হাফসেঞ্চুরি পেলেও প্রভাবে অর্ধেকও নন। ডে’ভিলিয়ার্স ব্যতিক্রমী ভাবে এ দিন ব্যর্থ। সতেরো ওভারে রান দেখাচ্ছে ১৩১।

কিন্তু তখনও উমেশ যাদবের দ্বিতীয় স্পেলটা শুরু হয়নি। শুরু হল, এবং শেষ তিন ওভারে ৫৪ দিয়ে গেল কেকেআর বোলিং!

কে জানত, পাঠান-রাসেলের দাপটে ওটা ৩ ওভারে ৫৮ হয়ে বিরাট কোহালির দিকে পাল্টা ধেয়ে যাবে! আসলে যতটা ভাগ্যহীন কোহালিদের বিক্রমের বিরুদ্ধে একজন ক্যাপ্টেনকে দেখানো সম্ভব, একটা সময় পর্যন্ত গম্ভীরকে তা দেখিয়েছে।

১৮৫ রান তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারে রবিন আউট। ক্রিস লিন তিনে নামলেন, এবং কয়েক ওভারের মধ্যে বোল্ড।

কেকেআর ক্যাপ্টেন পর্যন্ত শ্রীনাথ অরবিন্দের একটা অসাধারণ ইয়র্কার ম্যানেজ না করতে পেরে আউট। দশ ওভার যেতে না যেতে ৬৯-৪ টিম, চিকেন পক্স সারিয়ে টিমে ফেরা মণীশ পাণ্ডে ব্যর্থ, আস্কিং রেট বারো ছাড়িয়ে তেরো-সাড়ে তেরো, কেকেআরকে বাঁচাবে কে? রাসেল-পাঠান আছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁদেরও সাধ্যের একটা তো সীমা-পরিসীমা আছে।

৬ ওভারে আরও ৮১ চাই— এ হয় নাকি? সবচেয়ে আতঙ্কের, শেন ওয়াটসন নামক এক বোলারের আরও দু’টো ওভার এখনও বাকি। যাঁর বল ক্রিকেটের এই ফর্ম্যাটে খেলা কঠিন নয়, প্রবল কঠিন।

ক্ষমা চেয়ে নেওয়া ভাল। আজকের পর, আরসিবিকে তাদের গুহায় এ ভাবে ধ্বংস করার নারকীয় দৃশ্য দেখার পর মাসল রাসেল আর পাঠান-পরাক্রমের বিচার কোনও দিন বোধহয় আর ক্রিকেটের ক্ষুদ্রবুদ্ধি দিয়ে করা উচিত নয়।

স্কোরবোর্ড দেখাচ্ছে ছ’টা চার ও তিনটে ছয় মেরে ইউসুফ ২৯ বলে ৬০ নটআউট এবং কিছুই দেখাচ্ছে না। ইউসুফের মারণলীলা আজ বুঝতে হলে গেইলকে দেখতে হবে।

যিনি ম্যাচ শেষে ইউসুফের হাত ধরে দাঁড়িয়ে রইলেন। দেখতে হবে বিরাট কোহালিকে, যিনি সবার আগে ছুটে গিয়ে বাহবা দিয়ে এলেন সিনিয়র পাঠানকে।

স্বাভাবিক যে ইনিংসটা চিন্নাস্বামীতে সোমবার ইউসুফ খেলে গেলেন, তা গেইল বা বিরাট যে-ই হন, খেলতে পারলে গর্বিত বোধ করবেন।

কেকেআরের পাঠানকে নিয়ে একটা মজার গল্প চালু আছে যে, ইনি রোজ মোটেও খেলবেন না। কিন্তু যে দিন টিমের সবচেয়ে দরকার হবে, যে দিন আর কেউ বাঁচাতে পারবেন না, সে দিন বরোদা-বম্বার এমন রুদ্রমূর্তি ধরবেন যে, প্রতিপক্ষকে স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়ে স্টেডিয়ামের বাইরে গিয়ে পড়তে হবে!

দু’বছর আগে টিমকে প্লে অফে তোলার প্রয়োজনে ও রকম একটা বেরিয়েছিল। আজ, আবার বেরোল। একই প্রেক্ষাপটে। অধিনায়কের অত্যন্ত প্রয়োজনের সময়। সোমবার হেরে গেলে তো প্লে-অফ স্বপ্ন থেকে অনেক, অনেক দূরে চলে যেতেন ক্যাপ্টেন গম্ভীর।
এসএম