১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করে আয়োজন করা হয়েছিল ব্রাজিল বিশ্বকাপ। প্রাইজ মানি দিতে ৫৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করেছে ফিফা। অনেক দলই নিজ দেশের কাছ থেকে পেয়েছে বোনাস। খেলার জগতে অর্থ-কড়ির এই ঝনাঝনিতে খুব কম লোকই অসহায় মানুষের কথা মনে রেখেছেন। তবে কেউ কেউ খেলার মাঠে যেমন সবার নজর কেড়েছেন, তেমনি মাঠে বাইরে বদান্যতায় নজির সৃষ্টি করেছেন। তাদের মধ্যে সবার আগে উঠে আসে মেসুত ওজিলের নাম। আর পুরো দল হিসেবে বলতে গেলে মানবতার পাশে দাঁড়িয়েছে আলজেরিয়া ফুটবল দল। জনসেবায় যোগ দিয়েছে আর্জেন্টিনাও।

মেসুত ওজিল: জার্মানির এই ফুটবলার বিশ্বকাপে ছিলেন দুর্দান্ত। খেলার মাঠে আলো ছড়ানো এই মুসলিম ফুটবলার দানশীলতায় সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন। বিশ্বকাপ জেতায় বোনাস হিসেবে ছয় লাখ মার্কিন ডলার পেয়েছেন তিনি। কিন্তু এটি নিজের কাজে না লাগিয়ে শিশুদের সেবায় দান করেছেন তিনি।

‘মিডলইস্ট মনিটর’সহ বেশ কয়েকটি পত্রিকায় প্রথমে খবর প্রকাশ করে যে ওজিল বোনাসের সব অর্থই ইসরায়েলের বর্বরতার শিকার গাজার শিশুদের জন্য দান করেছেন। তবে অন্য কয়েকটি পত্রিকায় ওজিলের এজেন্ট রোনাল্ডের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, “গাজা নয়, ব্রাজিলের শিশুদের জন্য তিনি অর্থ দান করেছেন।”

বিশ্বকাপের সময় রোজা শুরু হওয়া রোজা রেখেই মাঠে নেমেছিলেন ওজিল। রোজার শিক্ষাটা বাস্তব জীবনেও ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছেন তিনি। নিজের মহৎ কাজ নিয়ে আর্সেনাল মিডফিল্ডার ফেইসবুক পেইজে লিখছিলেন, “বিশ্বকাপের আগে ১১ জন অসুস্থ্য শিশুকে সার্জারির জন্য সাহায্য করেছিলাম। বিশ্বকাপ জয় শুধু ১১ জন খেলোয়াড়ের জন্য নয়, এটা আমাদের পুরো দলের। ফলে আমিও সাহায্যের সংখ্যাটা ২৩ জনে বৃদ্ধি করব। ব্রাজিলের আতিথেয়েতার জন্য এটা আমার ব্যক্তিগত কৃতজ্ঞতা।”

আলজেরিয়া ফুটবল দল: ব্রাজিল বিশ্বকাপে সব দিক থেকে নজর কেড়ে নিল আলজেরিয়া ফুটবল দল। দীর্ঘ ৩২ বছর পর বিশ্বকাপে জয় পেল। আর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে খেলল। দ্বিতীয় রাউন্ডে জার্মানির মুখোমুখি হয়েছিল তারা। ম্যাচটিতে আরব দেশটির অনেক খেলোয়াড়ই রোজা রেখে মাঠে নেমেছিলেন। তবুও ২-১ গোলে জয় পাওয়া জার্মানিকে লড়তে হয়েছিল অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত।

দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার যোগ্যতা অর্জন করায় নয় মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রাইজ মানি পেয়েছিল আলজেরিয়া। দীর্ঘ ৩২ বছর পর তাদের এই অর্জন। কিন্তু মানবতার কাছে সব কিছুই বিসর্জন দিল তারা। পুরো অর্থই গাজার মানুষের জন্য দান করে দিল মুসলিম এই দেশটি।

আলজেরিয়ার স্ট্রাইকার ইসলাম সিলমানি জানিয়েছিলেন, “আলজেরিয়া বিশ্বকাপের সব প্রাইজ মানি গাজার মানুষের জন্য দান করে দিবে। আমাদের চেয়ে এটা তাদের জন্য বেশি জরুরী।”

আর্জেন্টিনা ফুটবল দল: ব্রাজিল বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দল জার্মানির মেসুত ওজিলের পর দানের হাত বাড়িয়েছিল রানার্স-আপ আর্জেন্টিনা দল। বিশ্বকাপ থেকে প্রাইজ মানি হিসেবে ১৪.৬ মিলিয়ন পাউন্ড (২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) পেয়েছিল। এখান থেকে ৮০ হাজার পাউন্ড আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সের একটি হাসপাতালে দান করেছেন মেসিরা।

গ্রিস ফুটবল দল: বিশ্বকাপে খেলায় প্রাপ্ত বোনাসের অর্থ দান করেছে গ্রিসের ফুটবলাররাও। তবে তারা কোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করেনি। দেশের ফুটবলের উন্নয়নের জন্য নিজেদের বোনাস উৎস্বর্গ করেছে। অর্থনীতিতে দৈন্যদশা চলছে গ্রিসে। ফলে খেলার জন্য বেশি খরচ করতে পারছে না ইউরোপের দেশটি। এ জন্যই খেলোয়াড়দের এমন বদান্যতা।

উল্লেখ্য, ২০১৪ বিশ্বকাপ বিজয়ী দল জার্মানি প্রাইজ মানি হিসেবে পেয়েছে ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর রানার্স-আপ আর্জেন্টিনা পেয়েছে ২৫ মিলিয়ন ডলার। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অর্জনকারী নেদারল্যান্ডস ও ব্রাজিল পেয়েছে ২২ মিলিয়ন ও ২০ মিলিয়ন ডলার। কোয়ার্টার ফাইনাল ও দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলা দলগুলোকে দেয়া হয়েছে ১৪ মিলিয়ন ও ৯ মিলিয়ন ডলার। আর প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নেয়া দলগুলোর ঝুলিতে পড়েছে ৮ মিলিয়ন ডলার।

ঢাকা, ২০ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) //জেডআই