চলে গেলেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার আব্দুল কাদির। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ৬৩ বছর বয়সে মারা গেলেন এই স্পিন যাদুকর।

তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড টুইট করে, টিম মেটসহ বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটার ও ক্রিকেট বোর্ড।

টেস্ট ক্রিকেট আজ অনন্য এক দিন দেখেছে। এক দলের হয়ে হাত ঘুরিয়েছেন তিন–তিনজন লেগ স্পিনার। তাঁদের কেউই পার্টটাইমার নন। লেগ স্পিন শিল্পটাকে আঁকড়ে ধরেই ক্যারিয়ার গড়েছেন তাঁরা। ক্রিকেটে লেগ স্পিনের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হয়ে যাওয়ার নমুনাই হয়তো এটি। আর এদিনেই কিনা লেগ স্পিনকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে তোলা লোকটাই চিরবিদায় নিলেন!

১৯৭৭ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ৬৭ টেস্ট ও ১০৪টি একদিনের ম্যাচে পাকিস্তানের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন আবদুল কাদির। টেস্ট ও একদিনের ক্রিকেটে তার ঝুলিতে উইকেট সংখ্যা যথাক্রমে ২৩৬ ও ১৩২। ১৯৮৭ সালে পাকিস্তানের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩টি টেস্টের সিরিজে ৩০টি উইকেট তুলে নিয়েছিলেন প্রবাদপ্রতীম এই লেগস্পিনার। একটা ইনিংসে ৫৬ রান দিয়ে নিয়েছিলেন ৯ উইকেট। প্রতি ওভারে নানা ধরনের বল করার সুনাম ছিল কাদিরের।

১৯৮৩ ও ১৯৮৭ সালে পাকিস্তানের হয়ে খেলেছিলেন আবদুল কাদির। অবসরের পর পাকিস্তান ক্রিকেটে নির্বাচক ও কমেন্টেটরের ভূমিকা পালন করেছিলেন।

তবে আবদুল কাদিরের সঙ্গে শচীন টেন্ডুলকারের একটি প্রবাদপ্রতীম কাহিনি জড়িয়ে আছে। পাকিস্তানের মাটিতে ১৬ বছর বয়সে প্রদর্শনী ম্যাচ খেলেছিলেন শচীন টেন্ডুলকার। তখন ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে আবদুল কাদির। আর কিশোর ক্রিকেটারকে দেখে স্লেজ করেছিলেন পাক লেগ স্পিনার।

বলেছিলেন, বাচ্চা ছেলে আমায় কী খেলবে! তার জবাবে চারটি ছক্কা মেরেছিলেন শচীন। মুগ্ধ কাদির বলেছিলেন, ছেলেটার মধ্যে প্রতিভা রয়েছে। অনেক দূর যাবে।


এএস