আইএফএ শিল্ড ফুটবল টুর্নামেন্টের ১১৮তম আসরে খেলতে গিয়ে কম কম বিপদে পড়তে হয়নি বাংলাদেশের ক্লাব শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবকে। সেমিফাইনালের আগে অনুশীলন নিয়ে অনেক নাটকের জন্ম দিয়েছে ভারতের 'দাদারা'। সেই ধারাবাহিতকাটা ছিল ফাইনাল ম্যাচেও। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি দেখে যে কোনো কারো মনে হতে পারত, শেখ জামালের খেলোয়াড়দের বিপক্ষে শুধু কলকাতা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের খেলোয়াড়ই খেলেনি; তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল রেফারিসহ তার দুই সহকারী। আর ধারাভাষ্যকররা যেন কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। অবশেষে টাইব্রেকারে হেরেছে শেখ জামাল।
শনিবার কলকাতার যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এই ম্যাচে শেখ জামালের সেরা খেলোয়াড় সনি নর্দের উপর বিপক্ষ দলের টার্গেট ছিল প্রথম থেকেই। কলকাতার ফুটবলাররা তাকে বার বার ফেলে দিলেও তা রেফারির কাছে বেশি মারাত্মক বলে মনে হয়নি। অবশেষে খেলার দ্বিতীয়ার্ধে মোহামেডানের এক ফুটবলার দুই হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরেন সনি নর্দেকে। নর্দে হাত ছাড়িয়ে নিলে তার হাত লেগে যায় শক্তি দেখানো খেলোয়াড়ের চোখে। এতে নর্দেকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। অবশ্য শেখ জামালের খেলোয়াড়দের প্রতিবাদে ওই ফুটবলারকেও লাল কার্ড দেখায় তিনি।
হাইতিয়ান স্ট্রাইকার নর্দেকে মাঠ থেকে আউট করার আগেই মোহামেডানের জালে বল জড়িয়েছিলেন তিনি। খেলার ২৮ মিনিটে গোল করে বাংলাদেশের কোটি মানুষের মনে আনন্দ নিয়ে আসেন তিনি। কিন্তু নীরবতা নেমে আসে কলকাতার স্টেডিয়ামে।
প্রথমার্ধের মূল খেলায় গোলটি আর শোধ করতে পারেনি মোহামেডান। তবে ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে গোলটি শোধ করে দেন মেহরাজউদ্দিন। ফলে ১-১ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধের লড়াই। সঙ্গে সঙ্গে আতশবাজিতে আলোকিত হয় কলকাতার আকাশ।
বার্সেলোনার মতো টিকি-টাকার ফুটবল উপহার দিয়ে বলের দখল রেখেছিল বাংলাদেশের ক্লাবটি। একের পর এক আক্রমণে কলকাতার গোলরক্ষককে ব্যস্ত রেখেছিল তারা। দলের সেরা খেলোয়াড় সনি নর্দেকে হারানোর পরও আক্রমণ অব্যাহত রেখেছিল তারা। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলায় আরো একটি গোলও করে শেখ জামাল। কিন্তু অফ সাইডের কারণ দেখিয়ে গোলটি বাতিল করে দেয় লাইন্সম্যান।
নাটক শেষ এখানেই হয়নি। অতিরিক্ত সময় বদলি খেলোয়াড় হিসেবে একজন বিদেশীকে মাঠে নামাতে চায় শেখ জামাল। কিন্তু তাতে বাধা দেয় রেফারি। নিয়মানুযায়ী মাঠে তিন জন বিদেশী খেলোয়াড় থাকতে পারবেন। নর্দে লাল কার্ড দেখায় শেখ জামালের দুই জন বিদেশী মাঠে ছিলেন। তবুও আরেক জন বিদেশীকে মাঠে নামতে দেয়া হয়নি।
পরে খেলাটি টাইব্রেকারের দিকে এগিয়ে যায়। খেলা শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে ভারতের জাতীয় দলের সাবেক গোলরক্ষক নাসিম আখতারকে মাঠে নামায় মোহামেডান।
টাই ব্রেকারে প্রথম দুটি বলেই গোলের দেখা পায় ভারতের ক্লাবটি। ব্যতিক্রম হয়নি শেখ জামালের ক্ষেত্রেও। তৃতীয় বলটিতে মোহামেডান গোল করতে পারলেও ব্যর্থ হন শেখ জামালের আলী। চতুর্থ বলে মোহামেডানের জশেমীর গোল করতে না পারায় শেখ জামালকে সমতায় ফেরান ইয়ামিন। কিন্তু পঞ্চম বলে নবী গোল করতে না পারায় এগিয়ে যাওয়া সুযোগ পায় সফরকারীরা। কিন্তু নাসিরও গোল করতে ব্যর্থ হন। ষষ্ঠ বলটিতে কলকাতার মেহরাজ গোল করলেও ব্যর্থ হন ধানমণ্ডির তিবারুল। ফলে ৪ (১)-৩ (১) গোলে হেরে শিরোপাটি হাতছাড়া করে শেখ জামাল। ফলে বাংলাদেশী কোনো ক্লাব হিসেবে একবারও এই শিরোপাটি জেতা হলো না। এর আগে ঢাকা মোহামেডান ফাইনালে খেললেও শিরোপা জিততে পারেনি।