অবশেষে রক্তঝড়া ম্যাচে জয়ের দেখা পেল আর্জেন্টিনা। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচের একেবারে শেষ মুহুর্তে ১-০ গোলে জয়ের দেখা পায় আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে ডি মারিয়া গোলে স্বস্তির নি:শ্বাস পড়ে আর্জেন্টিনা শিবিরে।
নির্ধারিত সময়ে খেলা অমীমাংসিত থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে কোন পক্ষই পায়নি গোলের দেখা। তবে খেলার ১১৭ মিনিটে মেসির বাড়ানো পাস থেকে ডি-মারিয়া চমৎকারভাবে বল জালে জড়ায়।
পরবর্তী কয়েক মিনিট সুইজারল্যান্ড সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েও পারেনি গোল পরিশোধ করতে। এ সময় উভয় পক্ষই যেন পাগলের মতো খেলছিল। একপক্ষ জয় ধরে রাখতে, আরেক পক্ষ সমতা আনতে।
শেষ মুহুর্তে যখন খেলা শেষ হওয়ার সংকেত বেজে উঠলো রেফারির বাঁশিতে তখন আর্জেন্টিনা শিবিরে নেমে আসে বাঁধভাঙ্গা আনন্দের জোয়ার। দর্শক সারিতে থাকা লাখো আর্জেন্টাইন ভক্তের জয়ধ্বনিতে যেন মুখরিত হয়ে উঠে আকাশ-বাতাস।
আবারও যেন বিশ্বময় জড়িয়ে থাকা কোটি কোটি ফুটবল প্রেমি দেখলো মেসি ম্যাজিক। যদিও এবার আর্জেন্টাইন অধিনায়ক নিজে গোল করেননি। সুইজারল্যান্ডের জালে বলটা পাঠিয়েছিলেন ডি মারিয়া। কিন্তু মেসিই ছিলেন আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলটির মূল কারিগর।
একজন সুইস ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে চমৎকারভাবে ডি মারিয়ার দিকে বল বাড়িয়েছিলেন এসময়ের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার। ডি মারিয়াও শেষমুহূর্তে কোনো ভুল করেননি। অতিরিক্ত সময়ের শেষ পর্যায়ে এই গোলটির সুবাদেই ১-০ ব্যবধানের জয় দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে আর্জেন্টিনা।
সুইজারল্যান্ডও শেষমুহূর্তে পেয়েছিল গোল শোধ করার সুযোগ। শাকিরির দারুণ একটি ক্রসে মাথা ছুঁইয়েছিলেন ব্লেরিম জেমাইলি। কিন্তু তাঁর এই হেড ফিরে এসেছে আর্জেন্টিনার গোলপোস্টে লেগে। শেষ বাঁশি বাজার কয়েক মুহূর্ত আগে আর্জেন্টিনার পেনাল্টি বক্সের বাইরে একটা ফ্রি-কিকও পেয়েছিল সুইজারল্যান্ড। কিন্তু সেখান থেকেও গোল করতে পারেনি সুইসরা।
বেশ কয়েকবার প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য হুমকি হয়ে উঠলেও আজ কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাননি মেসি। সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে বার বার। শেষ পর্যন্ত বিধাতা যে কোন পক্ষকে জয়ের হাসি উপহার দিবেন তা জানা ছিল না কারো।
প্রথমার্ধের চেয়ে দ্বিতীয়ার্ধে বেশি আক্রমণাত্মক খেলেছে আর্জেন্টিনা। সুইজারল্যান্ডও গোল করার চেয়ে গোল ঠেকানোর দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছিল। বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগও পেয়েছিলেন মেসি-হিগুয়েনরা। কিন্তু কোনোবারই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে বল পাঠাতে পারেননি।
৫৮ মিনিটে লাভেজ্জির পাস থেকে বল পেয়ে জোরালো শট নিয়েছিলেন মার্কোস রোহো। কিন্তু সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক ডিয়েগো বেনাগিলো রুখে দিয়েছেন সেই শটটি। ৬৩ মিনিটে গোলপোস্টের একদম সামনে থেকে হেড করেছিলেন হিগুয়েইন। সেটাও রুখে দেন সুইস গোলরক্ষক। ৬৯ মিনিটে মেসির জোরালো শট চলে যায় গোলপোস্টের কিছুটা ওপর দিয়ে। ৭৮ মিনিটে আবারও গোলপোস্ট লক্ষ্য করে শট নিয়েছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। কিন্তু এবার তাঁর শটটি ঠেকিয়ে দেন সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক।
এর আগে প্রথমার্ধেও বেশিরভাগ সময় বলের দখল নিজেদের কাছেই রেখেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু ৬৩ শতাংশ সময় বলের দখল ধরে রাখলেও সুইজারল্যান্ডের রক্ষণভাগে খুব বেশি ভীতি ছড়াতে পারেননি আলেসান্দ্রো সাবেলার শিষ্যরা।
গোলবারের কাছাকাছি নিয়ে মেসি-লাভেজ্জি-ডি মারিয়ারা নিতে পেরেছেন মাত্র পাঁচটি শট। এর মধ্যে মাত্র দুইটি ছিল কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে। ২৭ মিনিটে লাভেজ্জির শট সহজেই লুফে নিয়েছিলেন সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক। ৪১ মিনিটে সুইস ডিফেন্ডারদের জটলার মধ্যেও দারুণভাবে বল বের করে ডি মারিয়াকে পাস দিয়েছিলেন মেসি। কিন্তু মারিয়া আস্তে করে টোকা দিয়ে বলটি তুলে দিয়েছেন প্রতিপক্ষের গোলরক্ষকের হাতে। ৩০ মিনিটের মাথায় মেসির কর্নার কিক থেকে ভেসে আসা বলে মাথা ছোঁয়াতে পারেননি লাভেজ্জি।
অপরদিকে সুইস ফুটবলাররাও পেয়েছিলেন গোলের সুযোগ। ২৮ মিনিটে শাকিরির শট রুখে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক সার্জিও রামেরো। ৩৯ মিনিটে নিশ্চিত একটি গোলের সুযোগ নষ্ট করেছেন ইয়োসিপ দ্রমিচ। সামনে শুধু গোলরক্ষক থাকলেও তাঁকে ফাঁকি দিয়ে আর্জেন্টিনার জালে বল জড়াতে পারেননি এই সুইস স্ট্রাইকার।
এভাবেই একের পর এক শ্বাস রুদ্ধকর মুহুর্ত উপভোগ করেছে কোটি দর্শক। কোন দল যে জিতবে-এ যেন ছিল বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন। শেষ পর্যন্ত বিষন্ন মনেই মাঠ ছাড়তে হলো সুইস ভক্তদের। তবে এক দারুন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখলেন ফুটবল প্রেমিরা। সেটাই বা কম কিসে। ফুটবলের অন্যতম ফেবারিট টিম আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনালে পদার্পন বিশ্বকাপের উত্তেজনাকে যেন আরও একধাপ এগিয়ে দিল।
ঢাকা, ২ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি





